বাজার আধুনিকায়নে সিডিবিএলকে পাশে চায় বিএসইসি
পুঁজিবাজার সংশোধনেও বড় বিক্রয়চাপ মুক্ত
Printed Edition
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সংশোধন ঘটল পুঁজিবাজারে। গতকাল সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে সূচকের কিছুটা অবনতি ঘটলেও বড় কোনো বিক্রয়চাপের মুখে পড়তে হয়নি পুঁজিবাজারগুলোকে। ঢাকায় সূচকের কিছুটা অবনতি ঘটলেও চট্টগ্রামে সবগুলো সূচকই কমবেশি উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এর আগে বুধবার দেশের দুই বাজারেই সূচকের সামান্য অবনতি রেকর্ড করা হয়। সে হিসেবে সপ্তাহের প্রথম তিনদিন সূচকের যে উন্নতি ঘটে গত দু’দিনে তার সামান্যই হারিয়েছে বাজারগুলো। দিনের এ বাজার আচরণকে ভালোভাবেই নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন, এ দু’দিনে বাজারে যা সংশোধন ঘটার তা ঘটেছে। আগামী সপ্তাহে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
গতকাল লেনদেনের প্রথমদিকে সূচকের সামান্য উন্নতি ঘটলেও কিছুক্ষণের মধ্যে মৃদু বিক্রয়চাপ তৈরি হয়। তবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে চাপ সামলে নেয় বাজারগুলো। বেলা ১২টার দিকে ঢাকা শেয়ারবাজারে সূচকের উন্নতি ঘটে ২১ পয়েন্টের বেশি। এর পরই নতুন করে বিক্রয়চাপ তৈরি হয় যা অব্যাহত থাকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত। এ সময় বাজারগুলোর সূচকের কিছুটা অবনতি ঘটে। তবে দিনের শেষভাগে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী হয় বাজার সূচক। এতে হারানো সূচকের একটি অংশ আবার ফিরে পায় বাজারগুলো। তবে বারবার সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কার্যকর রাখতে বড় ভূমিকাটি ছিল বিমা খাতের। গতকাল নিয়ে টানা তৃতীয় দিন এ খাতের মূল্যবৃদ্ধি বজায় ছিল।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি গতকাল ৬ দশমিক ২৩ পয়েন্ট অবনতির শিকার হয়। পাঁচ হাজার ১০৫ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট থেকে সকালে লেনদেন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে নেমে আসে পাঁচ হাজার ৯৯ দশমিক ৬০ পয়েন্টে। এ সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর অবনতি ঘটে যথাক্রমে ১ দশমিক ৪৩ ও ২ দশমিক ২৫ পয়েন্ট। অপর দিকে, দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবগুলো সূচকই কমবেশি উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এখানে প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২৫ দশমিক ২৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। সিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৮ দশমিক ৫৪ ও ১৫ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা দিনের বাজার আচরণকে সংশোধন হিসেবে নিয়েছেন। তবে তাদের মতে, এ মুহূর্তে বাজারে বিক্রেতার চাইতে ক্রেতা বেশি হওয়ায় বাজার বড় বিক্রয়চাপ মুক্ত রয়েছে। তবে সপ্তাহের শুরুতে বিভিন্ন খাতে মূল্যস্তরের উন্নতি ঘটায় তা থেকে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। তবে তাদের প্রত্যাশা, সামনের সপ্তাহের যেকোনো সময় আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে বাজার। তাই এ মুহূর্তে কোন অবস্থায়ই বেশি বিক্রয়চাপ তৈরি করা উচিত হবে না। কারণ এখনো পুরোপুরি শক্তি ফিরে পায়নি পুঁজিবাজার। কোনো কারণে বিক্রয়চাপ বেড়ে গেলে আবার অস্বস্তি ফিরে আসবে বাজারে। হাত গুটিয়ে নিতে পারেন বিনিয়োগকারীরা।
গতকাল বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, দিনের সূচকের বড় অবনতি ঠেকাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকাটি ছিল বিমা খাতের। যেখানে অন্য খাতগুলোতে বেশির ভাগ কোম্পানিই দরপতনের শিকার ছিল সেখানে বিমা খাতের ৮০ শতাংশের বেশি কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধি ঘটে গতকাল। তা ছাড়া দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ দশ কোম্পানির সাতটিই ছিল বিমা খাতের। অপর দিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত গতকালও অনেকটা স্থবির অবস্থায় পার করে। বিভিন্ন খাতের বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোও ছিল নেতিবাচক প্রবণতার শিকার। সে হিসেবে গতকাল বিমাই ঠেকাল বাজারের পতন।
এ দিকে পুঁজিবাজারের অটোমেশন, কাঠামোগত আধুনিকায়ন ও সুশাসন নিশ্চিতকরণে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) নেতৃত্বমূলক ভূমিকা দেখতে চায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনের কমিশন সভাকে বিএসইসি ও সিডিবিএলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। সিডিবিএলের পে নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তপন চৌধুরী। সভায় শেয়ারবাজারের অটোমেশন, কাঠামোগত আধুনিকায়ন, কেওয়াইসি সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট, সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণ, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং সামগ্রিক শেয়ারবাজার উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিএসইসির মুখপাত্র ও পরিচালক মো: আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।
সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, পুঁজিবাজারে ভালো ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। নতুন আইপিও রুলসের মাধ্যমে আরো পেশাদার ও বিশ্ব মানের পদ্ধতিতে প্রাইস ডিসকভারির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ েেত্র সিডিবিএলের ভূমিকা রয়েছে এবং কেওয়াইসি সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট ও সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থার উন্নয়নসহ পুঁজিবাজারের অগ্রগতিতে সিডিবিএলকে নেতৃত্বমূলক ভূমিকায় দেখতে চায় কমিশন। তিনি আরো বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সিডিবিএলকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নের জন্য সিডিবিএলকে কাস্টডিয়ানের মতো নতুন ভূমিকায়ও দেখতে চায় বিএসইসি।
সিডিবিএল চেয়ারম্যান তপন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে আসা উচিত। পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের প থেকে সবধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সভায় বিএসইসি কমিশনারদের মধ্যে মু. মোহসিন চৌধুরী, মো: আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ, মো: সাইফুদ্দিন, সিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আবদুল মোতালেব, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার ও কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামসহ বিএসইসি ও সিডিবিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।