ওকসের ছক্কায় কোয়ালিফায়ারে সিলেট

Printed Edition
khela-1
ছক্কা হাঁকাচ্ছেন ক্রিস ওকস। শেষ বলে জয়ের জন্য ৬ রানের দরকার ছিল সিলেট টাইটান্সের। কাক্সিক্ষত সেই ওভার বাউন্ডারি মেরেছেন এই ইংলিশ ক্রিকেটার : নয়া দিগন্ত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

হোয়াট এ সিক্স-হোয়াট এ ম্যাচ-হোয়াট এ উইন।

ধারভাষ্য কক্ষ থেকে এমন শব্দগুলোই প্রমাণ করে রোমাঞ্চকর উত্তেজনায় ঠাসা-শিহরণজাগানিয়া একটি ম্যাচ হয়েছে গতকাল শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে শেষ বলে ছক্কা হাঁকানোর জন্যই কি ক্রিস ওকসকে উড়িয়ে এনেছিল সিলেট টাইটান্স।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য সিলেটের দরকার ছিল ৯ রান। বোলিংয়ে এলেন পরীক্ষিত ফাহিম আশরাফ। প্রথম বলে ২ রান নেন মঈন আলী, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বল ডট, চতুর্থ বলে আল ইসলামকে ক্যাচ দিয়ে মঈন আউট, পঞ্চম বলে খালেদ এক রান নিলে শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ৬ রানের। স্ট্রাইকে আসেন ওকস। নন স্ট্রাইক প্রান্ত থেকে এতক্ষণ যেন ছটফট করছিলেন। একটিমাত্র বল, তার ওপরই নির্ভর করছে সিলেটের জয়। নির্ভারই দেখাল তাকে। ফাহিম কনফিডেন্সের সাথে করলেন শেষ বলটি। সেই বলে ওকস অফ সাইডে কাট করে কাভার অঞ্চল দিয়ে মারলেন ছক্কা। উল্লাসে ফেটে পড়ল সিলেট টাইটান্সের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকরা। সেই সাথে তিন উইকেটে রংপুরকে হারিয়ে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল চা পাতার জেলার ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। অন্য দিকে এবারের বিপিএল অধ্যায় শেষ হলো রাইডার্সদের।

শেষ বলে ৬ রানের সমীকরণে ছক্কা মেরে দলকে জেতানোর ঘটনা বিপিএলের ইতিহাসে এটিই প্রথম। বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচেই ওকস দেখালেন এমন কীর্তি। বল হাতে ৪ ওভারে ১৫ রানে নেন ২ উইকেট। তার পর ব্যাট হাতে শেষে দেখালেন ম্যাজিক। ৪ বলে অপরাজিত ছিলেন ১০ রান। তার পথ ধরেই সিলেটকে কোয়ালিফায়ারে তুললেন ওকস। বিপিএলে গতকাল এলিমিনেটর ম্যাচে টসে জিতে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১১ রানেই থামে রংপুরের পথচলা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করতে হয়েছে সিলেটকে। শেষ বলের নাটকীয়তায় ৩ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সিলেট।

১১২ রানের ছোট লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আসা-যাওয়ার মিছিলে ছিল সিলেটের ব্যাটাররা। স্যাম বিলিংসের ২৯, মিরাজ ও পারভেজ হোসেন ইমনের ১৮ রান ছাড়া আর কেউই তেমন সফল হতে পারেননি। ছোট পুঁজি নিয়েও মোস্তাফিজুর রহমান ও আলিস আল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচ টিকিয়ে রেখেছিল রংপুর। শেষ ওভারে সিলেটের প্রয়োজন ছিল ৯ রান। শেষ বলে ছক্কা হাঁপিয়ে ওকস সিলেটকে নিয়ে গেলেন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেটের বোলারদের দাপটে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে রংপুর। দলীয় ৭ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তৌহিদ হৃদয়। তার পরের ওভারেই ডেভিড মালানকে ফেরান তারই স্বদেশী ক্রিস ওকস। অধিনায়ক লিটন কুমার দাসও এক ও কাইল মায়ার্স ফেরেন ৮ রানে। ২৯ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা রংপুরকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও খুশদিল শাহ। খুশদিল ১৯ বলে ৩০ ও মাহমুদুল্লাহ ২৬ বলে ৩৩ রান করে ফিরে গেলে ম্যাচে ফেরার শেষ আশাটুকুও নষ্ট হয় রংপুরের। এরপর নূরুল হাসান সোহানের ১৮ রানে ভর করে ১১১ রানেই থামে রংপুরে পথচলা। খালেদ আহমেদ ৪ ওভারে ১৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। এ ছাড়া নাসুম আহমেদ ও ক্রিস ওকস নিয়েছেন দুটো করে উইকেট।

২০১৭-১৮ মৌসুমে বিপিএলের পঞ্চম আসরে সর্বশেষ শিরোপা জিতেছিল রংপুর। এরপর ব্যাপক জনপ্রিয়তা কুড়ালেও শিরোপা ঘরে তোলা হয়নি দলটির। এবারের আসরেও ফিরতে হলো খালি হাতেই। পয়েন্ট টেবিলে ৪ নম্বরে থেকে প্লে অফে জায়গা করে নিয়েছিল সিলেট। রংপুর ছিল ৩ নম্বরে। ফাইনালে যেতে হলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলতে হবে রাজশাহী ও চট্টগ্রামের মধ্যকার খেলায় পরাজিত দলের সাথে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রংপুর রাইডার্স : ২০ ওভারে ১১১/৯ (মালান ৪, হৃদয় ৪, লিটন ১, মেয়ার্স ৮, খুশদিল ৩০, মাহমুদুল্লাহ ৩৩, সোহান ১৮, ফাহিম ৩, আলিস ৪, মোস্তাফিজ ২*, নাহিদ ২*; ওকস ২/১৪, খালেদ ৪/১৪, ইরশাদ ১/১৯, নাসুম ২/১২)।

সিলেট টাইটান্স : ২০ ওভারে ১১২/৭ (তৌফিক ২, পারভেজ ১৮, আরিফুল ১৭, আফিফ ৩, বিলিংস ২৯, মিরাজ ১৮, মইন ৫, ওকস ১০*, খালেদ ১*; মোস্তাফিজ ২/২০, ফাহিম ১/২৮, নাহিদ ১/২১, আলিস ২/১৮, খুশদিল ১/২১)

ফল : সিলেট টাইটান্স ৩ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা : সৈয়দ খালেদ আহমেদ।