ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের রুল
Printed Edition
রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে রিটকারী আইনজীবী মো: মনির উদ্দিন শুনানি করেন। তিনি বলেন, জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকার বায়ু সবচেয়ে দূষিত। ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়ায় গত ২৫ মার্চ হাইকোর্টে রিট করি। আজ শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছেন।
ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি চিঠি দেন রিটকারী আইনজীবী মো: মনির উদ্দিন। ওই চিঠিতে বলা হয়, গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বাতাসের মান খারাপ ছিল গত ১৪ ডিসেম্বর, ওই সময়ে বায়ুর গড় মান ছিল ২৮৮। অর্থাৎ বায়ুমান সূচক ০-৫০ থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়, ৫১-১০০ হলে তা সহনীয় বা গ্রহণযোগ্য ও ১০১-১৫০ এর মধ্যে হলে সতর্কমূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১-২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর ও বায়ুমান সূচক ২০১-৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়।
৩০১ বা তার বেশি এ কিউ আই স্কোরকে দুর্যোগপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদফতর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার বায়ুদূষণে তিনটি প্রধান উৎস হলো ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলো।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের ১২৪টি দূষিত নগরীর মধ্যে ঢাকা ছিল দূষণের দিক থেকে প্রথম। ওই দিন ঢাকার বাতাসের বায়ুমান ছিল ২৫০।
দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণে ভুগছে ঢাকা। এমতাবস্থায় ঢাকার বাতাস পরিশোধনের জন্য পরিবেশগত দিক বিবেচনায় নিয়ে যদি পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা নেয়া না হয়, তাহলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয় চিঠিতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়ায় গত ২৫ মার্চ হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মো: মনির উদ্দিন।