পিসিবির সহায়তা চেয়েছে বিসিবি
আইনি লড়াই
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আইসিসিকে বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এখানেই হতে পারতো সমাধান। কিন্তু শেষ হয়েও হলো না শেষ। এমনিতেই ছাড় দিতে রাজী নয় বিসিবি। এবার আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ক্রিকেট বোর্ড।
নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে বিসিবি প্রথম সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ৪ জানুয়ারি। সেই সিদ্ধান্তে এখনো অনড় রয়েছে বিসিবি। বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের পরও আইসিসির কাছে পুনরায় চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে বিসিবির সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের সংক্রান্ত বিষয়টি যেন ‘আইসিসির নিরপেক্ষ বিরোধ নিষ্পত্তিকরণ কমিটি’ দেখে, সেই দাবি করেছে বিসিবি। এ বিষয়ে পিসিবির কাছে প্রক্রিয়াগুলো জানতে চেয়েছে বিসিবি।
গত বৃহস্পতিবার ক্রিকেটারদের মতামত শুনতে পূর্বনির্ধারিত সভায় বসেছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সভা শেষে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কোনো রকম সুযোগ নেই। আইসিসি থেকে সুবিচার পাইনি। এখনো আশা করবো আইসিসি সুবিচার করবে।’
আসিফ নজরুলের পর আইসিসির দ্বিচারিতা নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। সাংবাদিকদের বিসিবি সভাপতি বলেছিলেন, ‘বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ে আমরা সন্দিহান। যেখানে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে, সেখানে আইসিসি এরকম ২০ কোটি লোকের খেলা দেখার অধিকার হারাচ্ছে। এই সিচুয়েশনে বাংলাদেশ খেলতে যাচ্ছে না বা বাংলাদেশকে একটা আলটিমেটাম বেঁধে দেয়া হয়েছে, তারপরে আমরা শেষ চেষ্টা করে যাব।’
নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার পরও আইসিসি শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় দেবে বলে আশার কথা শুনিয়েছিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে না রাখতে পারলে আয়োজক হিসেবে সেটি হবে ভারতের বড় ব্যর্থতা। ‘বিশ্ব ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো ক্রিকেট লাভিং দেশ যদি আইসিসির ইভেন্টে না থাকে, তাদের মিস করবে। ক্রিকেট অলিম্পিকে যাচ্ছে, ২০৩২ অলিম্পিক ব্রিসবেন হোস্ট করছে। ২০৩৬ অলিম্পিক ভারত আয়োজন করতে চায়। (২০৩০) কমনওয়েলথ গেমস আয়োজন করছে, সেখানে যদি বাংলাদেশের মতো জনবহুল ক্রিকেট লাভিং কান্ট্রি না থাকে, তাদের দেশে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে, এটা মনে হচ্ছে যে আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের একটা ব্যর্থতা।’
আইসিসির স্বাধীন বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি কী
স্বাধীন আইনজীবীদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি আইসিসির বিষয়বস্তু সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তি করে। বিসিবি আশা করে যে আইসিসির এই কমিটি অনুরোধে সাড়া দেবে এবং ভেনু পরিবর্তনের দাবিটি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে পাঠাবে। আইসিসি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি একটি স্বাধীন সালিস সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তি করে। সমস্ত অভ্যন্তরীণ প্রতিকার শেষ হয়ে গেলে এটি আইসিসি, সদস্য বোর্ড, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত মামলার শুনানি করতে পারে।