বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা : নবীন চৌধুরী

Printed Edition
agdum-2
বিশ্বকাপ ফুটবল দেখা : নবীন চৌধুরী

১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের জমজমাট আসর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ৪৮টি দেশের দল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে মাঠে ফুটবল যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। তিনটি দেশ যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জাপান ও কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিশ্বকাপের ইতিহাসে কানাডা এই প্রথম আয়োজক হলো। ১৯৩০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে একবারই যৌথভাবে এশিয়ায় জাপান ও কোরিয়া যোগ্যতা লাভ করে।

এ পর্যন্ত ২২টি বিশ্বকাপের ফুটবলের আসর হয়ে গেছে। এর মধ্যে ল্যাটিন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো স্বাগতিক দেশ হিসেবে মর্যাদা পায়। ১৭তম বিশ্বকাপ ফুটবলে ৩২টি দেশ দ্বিতীয়বারের মতো অংশগ্রহণ করে। এর আগে শতাব্দীর শেষ ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপ ফুটবলে ৩২টি দেশ প্রথম অংশগ্রহণ করেছিল। এবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে রেকর্ড ভেঙে এই প্রথম সর্বাধিক ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করে।

বিশ্বকাপ ফুটবলের যাত্রার কথা তো অনেকের জানা নেই। বিশ্বকাপ ফুটবল প্রথম উরুগুয়ে থেকে যাত্রা শুরু হয় ৯৬ বছর আগে। বিশ্বকাপ ফুটবল যাত্রা বেশ পুরনো। ১৯৩০ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এক পরিচয় নিয়ে বহন করে আসছিল। এরপর ১৯৭০ সাল থেকে নতুন পরিচয় নিয়ে নতুন ভাবে যাত্রা শুরু করে। আগে কাপটির পরিচয় ছিল অর্থাৎ ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত জুলেরিমে বিশ্বকাপ হিসেবে। কিন্তু ১৯৭০ সালে তিনবার বিশ্বকাপ জয়ের সুবাদে ব্রাজিল চিরদিনের জন্য কাপটি ঘরে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ১৯৭৪ সালের ফিফা কাপ নামে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপটি ঘরে তুলে স্বাগতিক দেশ উরুগুয়ে।

১ ফুট উঁচু স্বর্ণ নির্মিত একটি কাপ ছিল। কাপে ডানাওয়ালা পরীর প্রতিকৃতি শোভিত ছিল। ফিফা কাপটি একই অনুরূপ। এর উচ্চতা ১২ ইঞ্চি এবং ওজন ১১ পাউন্ড। জুলেরিমে কাপটি পরপর তিনবার জিতেছিল বলে ব্রাজিলকে একেবারে দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া আর কাউকে দেয়া হয়নি। কোনো দল তিনবার বিশ্বকাপ জয়ী হলেও ফিফার নিয়মে সে দলকে কাপ দেয়ার কোনো নিয়ম নেই। ফলে জুলেরিমে কাপ বিলুপ্ত ঘটলেও ফিফা কাপের কোনো দিন বিলুপ্ত ঘটার আশঙ্কা নেই। ফিফা তা নিজেই সে পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ব্রাজিল সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে। এরপর বেশি ম্যাচ খেলেছে জার্মানি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এশিয়ার দেশগুলো এখনো এ কাপটি ঘরে তুলতে পারিনি।

প্রথম বিশ্বকাপ যাত্রায় মাত্র ১৩টি দেশ অংশগ্রহণ করে। ১৯৩০ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত এশিয়ার কোনো দেশের অংশগ্রহণ ছিল না। ১৯৫৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব খেলতে আসে। সে বছর দক্ষিণ কোরিয়ার ১৬টি গোল খেতে হয়েছিল। ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে দু’টি বিশ্বকাপ হয়নি । কারণ সে সময় বিশ্বযুদ্ধের জন্য খেলা বন্ধ ছিল। এশিয়ার দেশ হিসেবে ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়া তিনটি ম্যাচ খেলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে। এশীয় দেশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার এটি ছিল সেরা পারফরম্যান্স। ১৬টি বিশ্বকাপের মধ্যে এশীয় দেশ হিসেবে একমাত্র দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধিত্ব করেছে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে দেখা যায় একমাত্র এশিয়ার দেশ হিসেবে বেশি প্রতিনিধিত্ব করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ১১ বার এরপর ৭ বার জাপান। ২২টি বিশ্বকাপে উরুগুয়ে দুইবার, ইতালি চারবার, পশ্চিম জার্মানি চারবার, আর্জেন্টিনা তিনবার, ব্রাজিল পাঁচবার, ইংল্যান্ড একবার, ফ্রান্স দুইবার ও স্পেন একবার চ্যাম্পিয়ন হয়। এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে কে হবে চ্যাম্পিয়ন সেই অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।