সিলেটে নির্বাচনী সংলাপ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসির ভূমিকা দুর্বল
Printed Edition
সিলেট ব্যুরো
জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচনে কমিশনের (ইসি) ভূমিকায় ঘাটতি রয়েছে। তাদের দুর্বলতার কারণে নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো জোরদার করতে হবে।
গতকাল সিলেটে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : সিলেট অঞ্চলের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণে নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক নির্বাচনী সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা।
বেলা ১১টায় নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে শাবিপ্রবির পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।
এতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের চার উপজেলার ১৯টি আসনের প্রার্থীদের হলফনামার বিশ্লেষণ তুলে ধরেন ওই বিভাগের একদল শিক্ষার্থী। এই হলফনামার বিশ্লেষণ ও আসন্ন নির্বাচনের আগে নানা অসঙ্গতি এবং ইসির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা তুলে ধরেন বিভিন্ন সংস্থা, সম্প্রদায়, পেশাজীবী, মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন বিভাগের অধ্যাপক মো: সাহাবুল হক। অনুষ্ঠানে সংলাপে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, আসন্ন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাতে আমরা একজন সেরা প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারি, সেই চেষ্টা আমাদের থাকতে হবে। সুশাসনের জন্য এটা জরুরি।
সিলেটে নারীপ্রার্থীদের সংখ্যা খুবই কম উল্লেখ করে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সিলেট জেলার সভাপতি সৈয়দা শিরিন আক্তার বলেন, এবারের নির্বাচনে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল তেমন কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেননি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রার্থীদের মধ্যে স্বচ্ছ থাকা ও তা নিশ্চিত করা জরুরি। যদি প্রার্থী ঋণগ্রস্ত হলে তিনি জনগণের উন্নয়ন কিভাবে নিশ্চিত করবেন। প্রার্থীরা স্থানীয় উন্নয়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, এগুলো তো স্থানীয় সরকারের কাজ। সংলাপে বিএনপির সিলেট জেলা সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আসন্ন নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গেলে দেশে স্থিতিশীলতা আসবে। আপনারা যারা নাগরিক সমাজের মানুষ আছেন, আশা করি, নতুন সরকার আসার পরও চাপটা অব্যাহত রাখবেন।
শাবিপ্রবি পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান সৈয়দ আশরাফুর রহমানের সভাপতিত্বে সংলাপে আরো বক্তব্য রাখেন সিলেট-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের প্রণব জ্যোতি পাল, বিএনপির সিলেট মহানগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জামায়াতে ইসলামীর সিলেট মহানগরের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল, সিপিবি সিলেট জেলার সভাপতি সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল হুদা জুনায়েদ, সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মইনুল বাকের, সিলেট প্রেস ক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন-নুর, সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাংবাদিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের সিলেটের সভাপতি শাহজামান চৌধুরী, সিলেট ইউনিট সমন্বয়ক ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, নৃতাত্ত্বিক সম্প্রদায় উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লক্ষীকান্ত সিংহ, এনসিপির সিলেট জেলা আবু সাদেক খাইরুল, বৈছাআর সাবেক সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিব প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক দিলারা রহমান ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ইম্পেক্ট ইনিশিয়েটিভের’ সহ-সমন্বয়ক মুহাম্মদ আয়াজ উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক জায়েদা শারমিন, অধ্যাপক এমদাদুল হকসহ ওই বিভাগের শিক্ষার্থী ও সিলেটের বিশিষ্টজনরা।
সংলাপ আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থার জোট ‘ভয়েস নেটওয়ার্ক’ ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ইম্পেক্ট ইনিশিয়েটিভ’।