হাবিপ্রবির অ্যাকাডেমিক ভবনের লিফট যেন মরণ ফাঁদ, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

Printed Edition

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি

উদ্বোধনের মাত্র দেড় বছরের মাথায় দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ১০ তলা বিশিষ্ট ড. কুদরত-ই-খুদা একাডেমিক ভবনের লিফটগুলো মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই লিফট মাঝপথে আটকে যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১০ তলার এই ভবনের সাতটি লিফটের মধ্যে পাঁচটিই অধিকাংশ সময় অকেজো থাকে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, লিফটে আটকে যাওয়া এখানে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় অন্ধকার লিফটে আটকে থাকায় অনেকের মধ্যে মানসিক ট্রমা বা ‘লিফট আতঙ্ক’ তৈরি হয়েছে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাজমুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চীনের দুঃখ যেমন হোয়াংহো, হাবিপ্রবির দুঃখ তেমনি এই লিফট। লিফটে আটকে থাকায় আমি ও আমার বন্ধুরা কুইজ পরীক্ষা পর্যন্ত দিতে পারিনি। প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো ফল মেলেনি।’

আর্কিটেকচার বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিম বলেন, ‘প্রশাসনের উদাসীনতায় যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। এমন দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।’ ২০১৮ সালের মে মাসে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই লিফট নিয়ে বিড়ম্বনা পিছু ছাড়ছে না ব্যবহারকারীদের।

লিফট সমস্যার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন শাখার পরিচালক (অতিরিক্ত) অধ্যাপক ড. মো: মনিরুজ্জামান বাহাদুর বলেন, ‘ভবনটি বিগত সরকারের আমলে নির্মিত। তখন কী মানের লিফট লাগানো হয়েছিল, সে বিষয়ে আমরা পুরোপুরি অবগত নই। তবে ভবন উদ্বোধনের পর আগের প্রশাসন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো লোক নিয়োগ দেয়নি, যার ফলে নিয়মিত সার্ভিসিং হয়নি।’

তিনি আরো জানান, অতিরিক্ত ওজনের কারণেও মাঝেমধ্যে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। বর্তমানে লিফট মেরামতের জন্য নতুন করে দক্ষ লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।