চায়ের দেশ থেকে যেভাবে কফির দেশ জাপান

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

জাপান একসময় চায়ের দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে আমাদের মতো দুধ চিনি দেয়া চা নয় জাপানিরা মূলত হারবাল চা পান করেন। বিশেষ করে খাবারের পরে হজমে সাহায্যের জন্য। অনেক হোটেলে হাতে ধরা ছাড়াই সিরামিক কাপেই এই চা পরিবেশন করা হয় অতিথিদের, যাতে উষ্ণতা অনুভব করে ধীরে ধীরে মন স্থির করা যায়।

এমন এক সমৃদ্ধ চা-সংস্কৃতির দেশ ধীরে ধীরে কফির দেশে পরিণত হলো কিভাবে! তথ্য বলছে তাই। জুলাই ২০২৩-এ প্রকাশিত জাপান টুডে-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, জাপানিরা এখন চায়ের চেয়ে বেশি কফি পান করেন। ২০২১ সালে যেখানে কফি খাওয়া হয়েছে প্রায় ৪৩৩ মিলিয়ন টন, সেখানে চায়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ লাখ টন। এই চা থেকে কফি যাত্রার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক খাদ্য ও পানীয় সংস্থা নেসলে। জাপানের ইতিহাসে চায়ের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় নারা যুগে (৬৪৬-৭৯৪)। অষ্টম শতকে চীন থেকে সবুজ চা আসে। হেইয়ান যুগে (৭৯৪-১১৮৫) বৌদ্ধ ভিক্ষুরা চীনে পড়াশোনা করে চা বীজ ও পাতা জাপানে নিয়ে আসেন, যা রাজদরবারে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তখন চা পাতা শক্ত ব্লকে চাপা হতো এবং চীনের তাং রাজবংশে লেখা লু ইউ-এর গ্রন্থ ‘চা চিং’ (দ্য ক্লাসিক অব টি) অনুসারে প্রস্তুত করা হতো।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর আগে ১৯৩৮ সালে নেসলে কফি চালু করে নেসক্যাফে। ১৯৬০-এর দশকে জাপানে নেসক্যাফে আনা হয় বড় প্রত্যাশা নিয়ে। বিজ্ঞাপন, ফ্রি স্যাম্পল, সহজলভ্যতা, সবই করা হয়েছিল। তবু চাপ্রেমী জাপানে কফি জায়গা করে নিতে পারেনি। জাপানিরা কফি অপছন্দ করত না, তারা শুধু শতাব্দীপ্রাচীন উষ্ণ, আরোগ্যদায়ী চায়ের সাথে বেশি আবেগীভাবে যুক্ত ছিল। কফি সেই আবেগের জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি।

আজ জাপানে কফি শুধু পানীয় নয়, দৈনন্দিন সংস্কৃতি। সুপারমার্কেটে ম্যাচা-ইনফিউজড, ক্যানড, ভ্যানিলা, ক্যারামেল ম্যাকিয়াটো, দারুচিনি, হ্যাজেলনাট নানারকম কফি পাওয়া যায়।