বগুড়া ও নেত্রকোনায় গৃহবধূ নরসিংদীতে ইজিবাইক চালক হত্যা
অন্যান্য স্থানে আরো ৪ লাশ উদ্ধার
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
নেত্রকোনা শহর ও বগুড়ার শেরপুরে ২ গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। নরসিংদীতে খুন হয়েছেন এক ইজিবাইক চালক। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে বিভিন্ন ঘটনায় উদ্ধার হয়েছে আরো ৪ লাশ।
নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, ফ্লাটে ঢুকে মনোয়ারা (৪৮) আক্তার নামে এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশী রিকশাচালক আব্দুর রশিদ (২৮)। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে গৃহবধূর স্বামী আবুচান (৭০) ও ছেলে মুন্না (২২) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে শহরের উত্তর কাটলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনার পরপর হত্যাকারী আব্দুর রশিদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে পূর্ব কাটলী এলাকায় অবস্থিত একটি ফ্লাট বাসায় চিৎকার ও চেঁচামেচি শোনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে দেখতে পান নিজ ঘরের খাটের নিচে মনোয়ারার রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। তার স্বামী ও ছেলে রক্তাক্ত আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে কাতরাচ্ছেন। প্রতিবেশী এরশাদের ছেলে আব্দুর রশিদ ধারোলো অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে। এ সময় ঘরের দরজা ও কলাপসিবল গেট আটকে প্রতিবেশীরা থানায় সংবাদ দেয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আব্দুর রশিদকে আটক ও লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত পিতা-পুত্রকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। মুন্নার অবস্থার অবনতি ঘটলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় রাতেই তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আল-মামুন সরকার বলেন, দেনা-পাওনার কারণে সম্ভবত এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ সদরে পৈতৃক জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছোট ভাই পলাতক রয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের চর হাসাদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে মারা যান বড় ভাই আবদুল বাছেদ (৩৫)। নিহত বাছেদ ওই গ্রামের মৃত আছর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জমি বণ্টন নিয়ে আবদুল বাছেদ ও তার ছোট ভাই মো: রাশেদুলের (২৫) মধ্যে বিরোধ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ নিয়ে পরিবারের ভেতরে আবারো বাগি¦তণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রাশেদুল লাঠি দিয়ে বাছেদের মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে রাত পৌনে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান।
চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন যমুনা রোড এলাকায় ২০ টাকার জাম খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ইয়াসিন (১৬) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১১টায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াসিন যমুনা রোড এলাকার ইলিয়াসের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০ টাকার জাম খাওয়াকে কেন্দ্র করে ইয়াসিনের সাথে একই এলাকার মুসা প্রধানীয়া (১৭), পিতা- সাদেক প্রধানীয়ার বাগি¦তণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মুসা প্রধানীয়া জিআই পাইপ দিয়ে ইয়াসিনের মাথায় আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। ঢাকায় নেয়ার পথে সাইনবোর্ড এলাকায় পৌঁছামাত্র ইয়াসিনের মৃত্যু হয়।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীতে পুকুর পাড় থেকে ফাহিম মিয়া (১৭) নামে এক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সদর উপজেলার মধ্য-শিলমান্দী এলাকার জোড়া ঈদগাহ মাঠের পাশের একটি পুকুরপাড় থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
ফাহিম মধ্য-শিলমান্দী এলাকার বাসচালক রুহুল আমিনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেলে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় ফাহিম। পরে রাত ৮টার দিকে তার বাবার সাথে সবশেষ কথা হলে ফাহিম জানান কিছু লোক তার পিছু নিয়েছে। পরে তার বাবা প্রতিবেশীদের নিয়ে ফাহিমকে খোঁজতে বের হন। সারা রাত খুঁজেও সন্ধান মেলেনি ফাহিমের। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুর পাড়ে তার লাশ পরে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। ঘটনাস্থলের পাশেই ফাহিমের ইজিবাইকটি পাওয়া যায়। তবে ইজিবাইকে থাকা ৪টি ব্যাটারি নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
পটিয়া-চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় চাঁনখালী খাল থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের (আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ২ জুন দুপুর ১২টার দিকে ভাটিখাইন ইউনিয়নের ঠেকুরপুনি শাক্যমুনি বিহারের পেছনে বহমান চানখালী খাল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা সকালে খালের পানিতে অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে ৯৯৯-এ কল দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।
পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) জিয়াউল হক জানান, তাৎক্ষণিকভাবে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ঈদগাঁও (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ লরাবাক এলাকায় ছুরিকাঘাতে হামিদ (১৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১০টায় বর্ণিত ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সেলিম উল্লাহর বাড়ির পার্শ্ববর্তী স্থানে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হামিদ স্থানীয় আবুল কালামের ছেলে।
জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনি বলেন, নিহত হামিদ পেশায় মোবাইল মেকানিক ছিল। কয়েকদিন আগে একই এলাকার ছিদ্দিকের ছেলে সায়েমের নষ্ট মোবাইল ঠিক করে দেয় হামিদ।
এ সংক্রান্ত পাওনা টাকা চাইলে দু’জনের মধ্যে বাগি¦তণ্ডা হয়। বাদানুবাদের একপর্যায়ে সায়েমের মা ও বোন এসে হামিদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে হামিদকে পেটে ছুরিকাঘাত করে সায়েম।
এরপর এলাকাবাসী হামিদকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেরপুর (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার শেরপুরে নিলুফা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘরের মেঝে থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরা, যা ঘটনাটিকে আরো রহস্যময় করে তুলেছে।
গত সোমবার রাত ২টার দিকে উপজেলার শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের দড়িমুকুন্দ উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত নিলুফা আক্তারের স্বামী এখলাস আলী ট্রাকচালকের হেলপার হিসেবে কর্মরত। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং গত তিনদিন ধরে গাড়ির কাজে বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিলুফা তার দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে শ্বশুর মঞ্জু (৬৫), শাশুড়ি রতœা বেগম ও দেবর মোস্তাকিনের সাথে একই বাড়িতে বসবাস করতেন।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি থেকে কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা সেখানে ছুটে যান। গিয়ে তারা দেখতে পান, একটি ঘরের মেঝেতে কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় নিলুফার মৃতদেহ পড়ে আছে, মাথার পাশে একটি মোমবাতি জ্বলছিল। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ আসার আগেই নিহতের শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এমনকি নিলুফার দুই বছরের সন্তানকেও তারা সাথে নিয়ে গেছেন।
রামগতি (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে ১০ বছরের এক শিশুকন্যা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের নানী হাজেরা বেগম বাদি হয়ে ধর্ষক আনিছুর রহমান মামুনের (২১) বিরুদ্ধে রামগতি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ৯ (১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার চরসীতা গ্রামের এছহাক পাটোয়ারীর বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটেছে। ধর্ষক আনিছুর রহমান মামুন ওই বাড়ির জহির উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামি মামুনকে গ্রেফতার করে।
রামগতি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি লিটন দেওয়ান জানান, শিশু ধর্ষণের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক মামুনকে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। ভিকটিমের নানী বাদি হয়ে মামুনকে আসামি করে থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষিতা শিশুকে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সিলেট রেলস্টেশনে ছিন্নমূল শিশুকে ‘ধর্ষণ’
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেটে শিশু ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাতে সিলেট রেলস্টেশন এলাকার একটি পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে ওই শিশুকে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় রেল পুলিশ ভিক্টিম শিশুকে উদ্ধার করে এবং দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ জড়িত এক যুবককে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে কদমতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করে।
আটককৃতের নাম লোদন (৩৫)। সে চিহ্নিত মাদকসেবী ও রেলস্টেশন এলাকায় বসবাস করত।
দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মো: আশরাফুজ্জামান বলেন, উদ্ধারকৃত ১২ বছরের শিশুটি ভবঘুরে। এই ঘটনায় অভিযুক্তরা মাদকসেবক। তারা সবাই রেলস্টেশন এলাকায় রাতযাপন করেন। শিশুর অভিযোগের ভিত্তিতে রেলপুলিশের সহায়তায় আমরা একজনকে আটক করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাকিদের আটক করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধার
মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টাকালে অপহরণকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় অপহৃত এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাতে সিলেট নগরীর কুনিপাড়া এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কুনিপাড়ার এমরান খানের স্ত্রী মীম আক্তার নাহিদা (২২), একই এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে মিল্লাত (২০), নাসির মিয়ার স্ত্রী শিল্পী বেগম প্রকাশ শিল্পী দেওয়ান (৪০), শাহপরাণ থানার কল্লোগ্রামের রফিক মিয়ার ছেলে এমরান খান (২৪) ও একই থানার সুরমা গেটের বিলাল মিয়ার ছেলে স্বপন আহমেদ (২৩)।
মঙ্গলবার এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম।
এসএমপি সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী জিল্লুর রহমানের (২৭) সাথে কিছুদিন আগে মোবাইল ফোনে মীম আক্তার নাহিদার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জিল্লুরকে নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোডের বড়বাজার গলির মুখে দেখা করতে ডাকে মীম। জিল্লুর সেখানে পৌঁছালে মীম ও তার সহযোগীরা তাকে ঝাপটে ধরে মারধর করে এবং জোরপূর্বক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে কুনিপাড়ার একটি বসতঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।
পুলিশ আরো জানায়, এ সময় চক্রটি ভুক্তভোগীর পকেটে থাকা আট হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে।
একপর্যায়ে জিল্লুর রহমানের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। খবর পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে।
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা জানান, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক গড়ে এক নারীকে ধর্ষণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়ার অভিযোগে দর্শনা থানা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১ জুন ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর থানায় অনলাইনের মাধ্যমে একটি সাধারণ ডায়েরির আবেদন করেন ওই নারী। আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়েল ইসলাম লিওন রাসেল পরিচয়ের সূত্র ধরে তার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে সেই আশ্বাসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রেখে তার সাথে প্রতারণা করা হয়।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে চলতি বছরের ৩০ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতারণামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এছাড়া ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্ত তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে বিভিন্ন ভাবে ফোনে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, সম্পর্কের পুরো সময়জুড়ে তিনি মানসিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার কাছে বিভিন্ন কল রেকর্ড, মেসেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
জিডির তদন্ত কর্মকর্তা শেখ তামিম আহম্মেদ বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।