গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যে ইসরাইলের নতুন বিমান হামলা
শিশুসহ আরো ৪ ফিলিস্তিনি নিহত
Printed Edition
আলজাজিরা
গাজা উপত্যকায় মার্কিন মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনা যখন প্রায় ভেঙে যাওয়ার মুখে, ঠিক তখনই সেখানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। গতকাল বুধবার মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার একটি আবাসিক ভবনে চালানো এই হামলায় এক শিশুসহ একই পরিবারের তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গাজা সিটির অন্য এক এলাকায় ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরো একজন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, দেইর আল-বালাহ এলাকার ওই হামলায় ওমর আবু কাসেম, তার স্ত্রী আসমা এবং তাদের ছয় বছর বয়সী কন্যাসন্তান হাবিবা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অলৌকিকভাবে তাদের ছেলে বেঁচে গেলেও সে গুরুতর আহত হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হামাসের এক যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছিল। অন্য দিকে গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকায় চালানো আরেকটি বিমান হামলায় আরো এক ফিলিস্তিনির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই হামলার বিষয়ে ইসরাইলি বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল। তবে সেই চুক্তি বড় ধরনের লড়াই সাময়িকভাবে বন্ধ করলেও গাজায় প্রতিদিনের ইসরাইলি হামলা থামাতে পারেনি। ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় এক হাজার ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের সিংহভাগই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক। একই সময়ে গাজায় হামাস যোদ্ধাদের পাল্টা হামলায় চারজন ইসরাইলি সেনাও নিহত হয়েছেন।
থমকে গেছে যুদ্ধবিরতির আলোচনা
গত মঙ্গলবার কায়রোতে হামাস নেতাদের যুদ্ধবিরতি বিষয়ক আরেক দফা বৈঠক শেষ হয়েছে। মিসর, তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন করা। আলোচনার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে চরম অবিশ্বাসের কারণে এই আলোচনা খুব একটা এগোয়নি।