সম্পর্কের উন্নয়নে স্পেন-জিব্রাল্টার সীমান্ত বেড়া অপসারণের উদ্যোগ

Printed Edition

বিবিসি

বহু সামরিক যুদ্ধ, সার্বভৌমত্ব বিতর্ক এবং স্পেনের চাপানো দীর্ঘ ১৩ বছরের কঠোর অবরোধের সাক্ষী জিব্রাল্টারে এবার এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। স্পেনের সাথে জিব্রাল্টারের দীর্ঘ ১১৮ বছরের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও বেড়া পুরোপুরি তুলে নেয়া হচ্ছে, যার ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে অবাধ যাতায়াত শুরু হবে। দুই অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) পর সৃষ্ট জটিলতা কাটাতে ইইউ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দীর্ঘ ও সতর্ক আলোচনার পর এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

জিব্রাল্টারের সাথে ইইউর স্থল সীমান্ত থাকায় ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ সম্পর্কে শিল্পী চোত্রানি বলেন, এটি স্পেন ও যুক্তরাজ্য উভয় পক্ষের জন্যই একটি বিশাল অগ্রগতি। আমাদের লা লিনিয়ার শহরে যারা থাকেন, তারা সবাই মনে করেন এটি একটি চমৎকার সিদ্ধান্ত। এটি আরো অনেক আগেই করা উচিত ছিল।

জিব্রাল্টারের মাথাপিছু আয় বিশ্বে অন্যতম সর্বোচ্চ। কিন্তু এর ঠিক বিপরীতে থাকা স্পেনের সীমান্ত শহর লা লিনিয়া ও এর আশপাশের অঞ্চলটি দেশটির অন্যতম দরিদ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া জুড়ে এমনিতেই বেকারত্বের হার বেশি, আর এই সীমান্ত শহরে তা প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে সীমান্ত তুলে দেয়ার এই সিদ্ধান্ত এখানকার অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি মানুষের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি দুই অঞ্চলের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতেও ভূমিকা রাখবে। লা লিনিয়া দে লা কনসেপসিয়নের মেয়র হুয়ান ফ্রাঙ্কো বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। ১৯০৮ সাল থেকে এখানে এই সীমান্ত প্রাচীর রয়েছে।

ব্রিটিশ অঞ্চলের ওপর তাদের স্থানীয় অর্থনীতির নির্ভরশীলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনাকে বুঝতে হবে যে, এই শহরের একটি গড়পরতা কোম্পানির আয়ের এক-তৃতীয়াংশই আসে জিব্রাল্টারের গ্রাহকদের কাছ থেকে। ব্রেক্সিটের পর জিব্রাল্টারের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক দশকের অনিশ্চয়তা শেষে ফ্রাঙ্কো আশা প্রকাশ করেন যে, এই সমাধান শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

জিব্রাল্টারের বাসিন্দারা শুরু থেকেই ব্রেক্সিটের তীব্র বিরোধী ছিলেন। ২০১৬ সালের গণভোটে সেখানকার ৯৬ শতাংশ মানুষ ইইউ-তে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। এই কট্টর ইইউপন্থী অবস্থানের পেছনে প্রধান কারণ ছিল, ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে জিব্রাল্টারের ওপর স্পেনের সার্বভৌমত্বের দাবি আবার জোরালো হতে পারে।

এ ছাড়া আরেকটি বড় কারণ ছিল ইইউর সাথে জিব্রাল্টারের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক, বিশেষ করে অনলাইন গেমিং, শিপিং এবং আর্থিক খাতের ব্যবসা। ব্রেক্সিটের ফলে এসব খাতে কী ধরনের লজিস্টিক সঙ্কট তৈরি হবে, তা নিয়ে বড় ভয় ছিল তাদের।