উত্তরায় বৃদ্ধা হত্যা
গৃহকর্মী বিলকিসসহ ২ জন গ্রেফতার
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর উত্তরায় আয়শা আক্তার হত্যার সাথে জড়িত গৃহকর্মী বিলকিসকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই সাথে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার ক্রয় করা জুয়েলারি দোকান মালিক রবিউল আউয়ালকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি পানির সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে বৃদ্ধ দম্পতি আয়শা আক্তার (৬২) ও আনোয়ার হোসেন (৬৮) কে অচেতন করে ফেলে গৃহকর্মী বিলকিস (৪০) নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায়। অতিরিক্ত চেতনানাশকে মারা যান গৃহকর্ত্রী আয়শা আক্তার। এখনো আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আনোয়ার হোসেন।
গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরের এডিশনাল ডিআইজি মো: এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাতনামা এক নারী এই বাসায় মাসিক পাঁচ হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নেন। কেয়ারটেকারের কাছে নিজের নাম ‘মমতাজ’ এবং বাসার সদস্যদের কাছে ‘মারুফা’ বলে পরিচয় দেন তিনি। এনআইডি ও ঠিকানা পরে দেবেন বলে জানান। ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে বাসার মালিকের স্ত্রী-সন্তান বেড়াতে গেলে বাড়িতে একমাত্র বৃদ্ধ দম্পতি আয়শা আক্তার ও আনোয়ার হোসেন অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যায় বড় ছেলে মো: জাকারিয়া হোসেন ফোনে বাবার অসংলগ্ন কথা শুনে বাসায় গিয়ে দেখেন মা অচেতন অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন এবং বাবা অসুস্থ হয়ে কাতরাচ্ছেন। পরে তাদের দ্রুত উত্তরার স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক আয়শা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।
এনায়েত হোসেন বলেন, পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফিরে দেখেন ঘর এলোমেলো এবং গৃহকর্মী নিখোঁজ। বাসা থেকে ১১ ভরি ১০ আনা ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, এক লাখ টাকা চুরি হয়েছে। পাশের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮ টা ৫৬ মিনিটে ওই নারী বাসায় প্রবেশ করেন এবং দুপুর আড়াইটার দিকে একটি পলিথিন ব্যাগ হাতে বেরিয়ে যান।
পিবিআই জানায়, খাবারের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে বৃদ্ধ দম্পতিকে অচেতন করা হয়। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগে আয়শা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। পরে তার ছেলে বাদি হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা একটি মামলা (মামলা নং-২৭) দায়ের করেন। এনায়েত হোসেন বলেন, আসামি মাত্র দুই দিন আগে ভুয়া পরিচয়ে কাজে যোগ দেন। তার কোনো ফোন নম্বর বা সঠিক ঠিকানা ছিল না। ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লু-লেস। আধুনিক প্রযুক্তি ও পূর্বের মামলার ডাটাবেজ বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন থানার মামলা থেকে ছবি শনাক্ত করে তার পুত্রবধূকে দেখানো হয়। পরে তার পুত্রবধূ আসামির ছবি দেখে শনাক্ত করেন।
তদন্তের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, তার প্রকৃত নাম বিলকিস বেগম। তিনি পূর্বেও বিভিন্ন ছদ্মনামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গৃহকর্মী সেজে চেতনানাশক প্রয়োগ করে চুরি করেছেন। খিলক্ষেত, শেরেবাংলা নগর, ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও হাতিরঝিল থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পিবিআইয়ের একাধিক টিম ময়মনসিংহ ও জামালপুরে অভিযান চালিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে গাজীপুর চৌরাস্তার আউচপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন।