ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে : অধ্যাপক আলী রীয়াজ

Printed Edition
3rd-1
ময়মনসিংহের টাউন হলে এক মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করছেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ : পিআইডি

ময়মনসিংহ অফিস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। তিনি বলেন, এক ব্যক্তির ইচ্ছায় যেন দেশ পরিচালিত না হয় এবং এক ব্যক্তির ইচ্ছায় যেন সংবিধান সংশোধন না হয়, সেজন্য জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধানে বলা হয়েছে দেশের মালিক জনগণ, আর সেই মালিকানার চর্চার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো গণভোট। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে ওঠার যে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তা হঠাৎ করে আসেনি। অনেক রক্ত, অনেক প্রাণ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে এ সম্ভাবনার জন্ম হয়েছে। সেই আত্মত্যাগের ঋণ স্বীকার করে শহীদদের স্বপ্নের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। তিনি আরো বলেন, অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধন হয়েছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে। একক শাসনের পরিণতি কী হয়েছে, তার উদাহরণ বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন। এসব নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করার সুযোগ যাতে আর না থাকে, সে জন্যই গণভোট প্রয়োজন। জনগণের সম্মতিই হচ্ছে গণভোট। এই ভোটের মাধ্যমেই রাষ্ট্র সংস্কারের পথরেখা তৈরি হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ কোনো সরকারের একক সনদ নয়, এটি রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের সনদ। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে উচ্চকক্ষের সমর্থন প্রয়োজন হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। প্রতিটি ভোটারের ভোটের মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধান সংশোধন যেন আর ‘ছেলেখেলা’ না হয়, সে জন্য নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ ও উচ্চকক্ষের সম্মিলিত সমর্থন বাধ্যতামূলক করতে হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম ফজলুল হক ভূঁইয়া এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া।