তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে মুখোমুখি বাপা ও তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ
Printed Edition
রংপুর ব্যুরো
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’। প্রকল্পের সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে বাপার পক্ষ থেকে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের দাবি তোলা হলেও একে ‘বাস্তবায়ন ঠেকানোর ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন স্থানীয় নদী রক্ষা আন্দোলনের নেতারা।
গতকাল শনিবার দুপুরে রংপুর চেম্বার মিলনায়তনে ‘সঙ্কটে তিস্তা নদী : আর্থসামাজিক অভিঘাত’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এই বাদানুবাদ সামনে আসে। সভায় বাপা সহসভাপতি ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় পাওয়ার চায়না কোম্পানি প্রণীত এই মহাপরিকল্পনা অববাহিকার মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে কি না, তা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন আছে। ১২ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঋণে বাস্তবায়িত এই প্রকল্প যদি ভালোর বদলে মন্দ বয়ে আনে, তবে তা হবে চরম ক্ষতিকর। তাই তড়িঘড়ি না করে এর ফিজিবিলিটি স্টাডি আরো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।’
ড. নজরুল উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁধ প্রকল্পের উদাহরণ টেনে বলেন, বিদেশী বিশেষজ্ঞরা সবসময় আমাদের পরিবেশের জন্য সঠিক পরামর্শ দেবেন- এমনটা ভাবা ঠিক নয়। বাপা ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি গবেষণামূলক বই প্রকাশ করেছে যেখানে প্রকল্পের দুর্বলতাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
অন্য দিকে বাপার এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’-এর সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী। তিনি একে উত্তরাঞ্চলের দুই কোটি মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার যখন এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে চূড়ান্ত ঋণ প্রস্তাব দিয়েছে এবং ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি কাজ শুরুর ঘোষণা করেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বাপার এই সংশয় প্রকাশ রহস্যজনক। মার্চ মাসে সব পক্ষকে নিয়ে গণশুনানি ও যাচাই-বাছাইয়ের পরেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন নতুন করে প্রশ্ন তোলা মানেই প্রকল্পটিকে ঝুলিয়ে দেয়া।’
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আজ রোববার দুই দিনের সফরে রংপুর আসছেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম জানান, চীনা রাষ্ট্রদূত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বৈঠক করবেন এবং সোমবার সকালে তিস্তা অববাহিকা পরিদর্শন করবেন। পানি সম্পদ উপদেষ্টাও নীলফামারী ও রংপুরে বিভিন্ন জনসভায় যোগ দেয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের সাথে নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
উল্লেখ্য, ১০ বছর মেয়াদি এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। প্রথম ধাপে ৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকার মধ্যে বড় একটি অংশ চীন সরকারের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো অর্থায়ন ও সমীক্ষার চূড়ান্ত অগ্রগতি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।