নাব্যতা সঙ্কটে মাতামুহুরী নদী, বাড়ছে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি

খনন নেই, চলছে বালু লুটের মহোৎসব

Printed Edition
bangla-2
সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়া মাতামুহুরী নদীর বর্তমান অবস্থা : নয়া দিগন্ত

এএম ওমর আলী, চকরিয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজার জেলার ১৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ মাতামুহুরী নদী বর্তমানে ভয়াবহ নাব্যতা সঙ্কটে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত খনন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে নদীর বড় একটি অংশ ভরাট হয়ে বিস্তীর্ণ বালুচরে পরিণত হয়েছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লামা থেকে চকরিয়া পৌরসভা পর্যন্ত লামার চিরিঙ্গা, মাতামুহুরী সেতুসংলগ্ন এলাকা, আমান্যার চর, পূর্ব বড় ভেওলা, কৈয়ারবিল ও কোনাখালী ইউনিয়নসহ প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শতাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিন-রাত অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে জেগে ওঠা এসব চরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সবজি ও বাদাম চাষ করা হচ্ছে, যা নদীর পানিপ্রবাহ আরো সঙ্কুুচিত করছে।

নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারছে না। এতে অল্প বৃষ্টিতেই নদীর পানি উপচে পড়ে দুই তীরের গ্রাম ও লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে হাজারো ঘরবাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে এবং শতাধিক গ্রাম সপ্তাহ’র পর সপ্তাহ পানিবন্দী হয়ে পড়ছে। ভুক্তভোগী লাখো মানুষকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই মাতামুহুরী নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে শত শত বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে প্রতি বছর শত কোটি টাকার ধান, সবজি, মাছের ঘের এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অবাধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে দ্রুত পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে নদী খনন করা না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। একই সাথে নদীর চরে অবৈধ দখল ও অনিয়ন্ত্রিত চাষাবাদ বন্ধ করা জরুরি।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, নদীর নাব্যতা সঙ্কটের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। অপরিকল্পিত ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। নির্বাচন শেষে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।