চিৎকার করার ক্লাব
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
জমছে রাগ, দুঃখ, হতাশা। কিন্তু প্রকাশ করার বদলে বুকের ভিতরের সিন্দুকে তালাবন্দী করে রেখে দিচ্ছেন। তবে সেই বাক্সেরও তো ধারণক্ষমতা রয়েছে। কত দিন কষ্ট চাপতে পারবেন? একদিন তো সেটিও ফেটে বা ভেঙে বেরিয়ে পড়বে সব কিছু। তাতে মন হালকা হবে। আরাম পাবে শরীরও। কিন্তু সিন্দুক ভেঙে ফেলার উপযুক্ত সময় আর জায়গার খোঁজেই বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে। কেবল জমছে আর জমছে, কিন্তু কাঁদতে বা খুলে বলতে পারছেন না।
এমনই সময়ে নতুন এক ধরনের ক্লাব তৈরি হচ্ছে এরই সহায় হয়ে। নাম, ‘স্ক্রিম ক্লাব’। অর্থাৎ চিৎকার করার ক্লাব। ‘স্ক্রিম ক্লাব’ হলো এমন এক ধরনের গ্রুপ বা দলের বৈঠক, যেখানে মানুষ একসাথে জড়ো হয়ে নিজেদের জমে থাকা আবেগ চিৎকার করে বার করে দেয়। সাধারণত পার্ক বা খোলা জায়গায় এই ধরনের জমায়েত হয়।
প্রথমে কিছু ক্ষণ শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করা হয়, তারপর সবাই একসাথে জোরে চিৎকার করে। এই চিৎকার হতে পারে রাগ, হতাশা, দুঃখ, এমনকি আনন্দ থেকেও। অচেনা মানুষ একসাথে চিৎকার করে, তারপর হাসে, কখনো কেঁদেও ফেলে।
অনেকে জানিয়েছেন, চিৎকার করার পর সাথে সাথে এক ধরনের হালকা লাগা বা মুক্তির অনুভূতি আসে। জমে থাকা আবেগ বেরিয়ে যাওয়ায় মানসিক চাপ কিছুটা কমে।
এর পাশাপাশি, অন্যদের সাথে একসাথে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেয়ার ফলে একধরনের সংযোগও তৈরি হয়, যা একাকিত্ব কমাতে সাহায্য করতে পারে।
এটি থেরাপি বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। চিৎকার সাময়িক স্বস্তি এনে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি মানসিক সমস্যার সমাধান করে না। মানসিক যতেœর একটি ছোট অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে মাত্র।
আমাদের দেশে এখনো ‘স্ক্রিম ক্লাব’ খুব প্রচলিত নয়, তবে এর সম্ভাবনা রয়েছে। শহুরে জীবনে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে এমন উদ্যোগ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হতে পারে।