চবিতে প্রফেসর সলিমুল্লাহ খানের একক বক্তৃতা
Printed Edition
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের সেমিনার ও প্রদর্শনী হলে গতকাল বুধবার সকালে ‘সহজ মানুষ সমাচার, অথবা জাক লাকাঁর আবিষ্কার’ (Archaeology of the Subject, or Originality of Jacques Lacan) শীর্ষক এক বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে সিগমুন্ড ফ্রয়েড-পরবর্তী সময়ের প্রভাবশালী ফরাসি দার্শনিক ও মনোবিজ্ঞানী জাক লাকাঁর তত্ত্বের আলোকে মানুষের আত্মসত্তার স্বরূপ বিশ্লেষণ করেন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ প্রফেসর সলিমুল্লাহ খান।
প্রফেসর সলিমুল্লাহ খান তার আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, ফ্রয়েড মানুষের অবচেতন (Unconscious) স্তর আবিষ্কার করেছিলেন, আর লাকাঁ দেখিয়েছেন এই অবচেতন স্তরই মানুষের আত্মসত্তার মূলে কাজ করে। তিনি বলেন, মানুষ কেবল জীববৈজ্ঞানিক প্রাণী বা সমাজের নিয়মে বাঁধা কোনো সত্তা নয়; বরং মানুষ তখনই ‘সাবজেক্ট’ হয়ে ওঠে যখন সে ভাষা ও প্রতীকের জগতে প্রবেশ করে। সলিমুল্লাহ খান ব্যাখ্যা করেন যে, সাবজেক্টিভিটি কেবল ভাষার ফল নয়, বরং এটি জন্ম নেয় সেখানে, যেখানে ভাষা মানুষের অনুভূতিকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হয়।
তিনি আরো বলেন, মানুষের অবচেতন বাসনা সবসময় সমাজের চাপিয়ে দেয়া পরিচয়ের সাথে এক ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি করে, আর এই দ্বন্দ্বই মানুষকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। ফুকো বা দেরিদারের মতো দার্শনিকরা যখন ‘সাবজেক্ট’ বা আত্মসত্তার ধারণা বাতিল করতে চেয়েছিলেন, লাকাঁ তখন তার প্রতিবাদ জানিয়ে ফ্রয়েডের অবচেতনের গুরুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। লাকাঁ মূলত বিশ্বকে পুনরায় ফ্রয়েডের পথে ফেরার আহ্বান জানানোর মাধ্যমে মনোবিশ্লেষণের জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। তিনি প্রফেসর সলিমুল্লাহ খানের বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চার প্রসারে নিয়মিত এ ধরনের সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চবি জাদুঘরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ৪৫ জন শিক্ষার্থী ও চারজন শিক্ষকসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বিজ্ঞপ্তি।