তহবিলের জন্য এনসিপি জনগণের ওপরই আস্থা রাখছে : আসিফ মাহমুদ

Printed Edition
3rd-2
এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা : নয়া দিগন্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

কালো টাকা ও ঋণখেলাপিদের প্রভাবমুক্ত রাজনীতি নিশ্চিত করতে এবার নির্বাচনী তহবিলের জন্য সাধারণ জনগণের ওপরই আস্থা রাখছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি না হয়ে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে কেন্দ্রীয়ভাবে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ বা গণতহবিলের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করবেন তারা।

গতকাল সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রথাগত রাজনীতিতে প্রার্থীরা ঋণখেলাপি বা কালো টাকার মালিকদের অর্থে নির্বাচিত হয়ে সংসদে তাদেরই স্বার্থ রক্ষা করেন। এই চক্র ভাঙতেই জাতীয় নাগরিক পার্টি স্বচ্ছতার নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি ঘোষণা দেন, জনগণ বা দাতা সরাসরি দল বা নির্দিষ্ট প্রার্থীকে যে অনুদান দেবেন, তার প্রতিটি পয়সার হিসাব বার্ষিক অডিটের মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

দলের প্রার্থীদের পরিচয় তুলে ধরে তিনি জানান, তাদের প্রার্থীরা কেউ কোটিপতি বা ঋণখেলাপি নন। মূলত জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী তরুণ পেশাজীবী ও সাবেক শিক্ষার্থীরাই দলের মূল শক্তি। তাই স্বচ্ছ রাজনীতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জনগণের ক্ষুদ্র অনুদানই তাদের একমাত্র ভরসা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার

গণভোটের পক্ষে জনমত গঠনের প্রচারণা চালানোর অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে এ শোকজ নোটিশকে বিধিবহির্ভূত বলে দাবি করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এনসিপি নেতারা জানান, ‘দেশ সংস্কারের গণভোট হ্যাঁ-এর পক্ষে থাকুন’ শিরোনামে যে ব্যানার ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই শাপলাকলি প্রতীক বা নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার প্রচারণা নয়। এটি ছিল কেবলমাত্র গণভোটের পক্ষে মত প্রকাশ ও জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ।

দলটির দাবি, গণভোট সংক্রান্ত প্রচারণার জন্য বিদ্যমান সব বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে এবং নির্বাচনী আচরণবিধির কোনো ধরনের লঙ্ঘন ঘটেনি। ফলে ইসি কর্তৃক শোকজ নোটিশ প্রদান আইন ও বিধির সাথে সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম বলেন, “গণভোটের পক্ষে মত প্রকাশ করা একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। এখানে কোনো প্রতীকভিত্তিক বা প্রার্থীভিত্তিক নির্বাচনী প্রচারণা হয়নি। তাই আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্নই ওঠে না।” তিনি আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা এবং গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।