কপিলমুনিতে অধিগ্রহণের টাকা না দিয়েই বাড়ি ভাঙল সওজ

Printed Edition
bangla-1
পাইকগাছার কপিলমুনিতে এক্সক্যাভেটর দিয়ে একটি দ্বিতল ভবন ভেঙে ফেলা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

শেখ দীন মাহমুদ পাইকগাছা (খুলনা)

খুলনার বেতগ্রাম-তালা-পাইকগাছা-কয়রা আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ না দিয়েই দোকানপাট ও বসতবাড়ি উচ্ছেদের অভিযোগ উঠেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বিরুদ্ধে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, ক্ষতিপূরণের হার পুনর্মূল্যায়নের আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই তাদের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

গত শনিবার পাইকগাছার কপিলমুনির ফকিরবাসা মোড় এবং সোমবার গোলাবাটি মোড়ে উচ্ছেদ অভিযান চালায় সওজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কাছে করা পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের নিষ্পত্তির জন্য সময় চাইলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। অভিযানে অন্তত ১০টি দোকান এবং মরহুম সাংবাদিক শেখ মোসলেহ উদ্দিন বাদশাহর দ্বিতল বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়।

এর আগে অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা না পাওয়ার অভিযোগে প্রকল্পের ৩৪টি বাঁক সরলীকরণ এলাকার অন্তত ১০টি স্থানে কাজ বন্ধ করে দেন জমির মালিকেরা। বর্তমানে কপিলমুনি, গোলাবাটি, গোপালপুর, গজালিয়ার কয়েকটি স্থান, মৌখালী ও কয়রা উপজেলার মদিনাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কয়রা-বেতগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন ও বাঁক সরলীকরণ প্রকল্পটি ২০১৯ সালে অনুমোদন পায়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়। প্রথমে ৩৩৯ কোটি টাকার প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। পরে চার দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং ব্যয়ও প্রায় ৫০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮৯ কোটি টাকা। সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদ অনুযায়ী চলতি বছরের ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছয় বছরেও অধিকাংশ ভূমির মালিক ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি। এখন পর্যন্ত মাত্র অল্পসংখ্যক মালিককে অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট দীপঙ্কর কুমার সাহা বলেন, তার ভবনের মূল্যায়ন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। গণশুনানিতেও পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সিদ্ধান্তের আগেই তার দোকানঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে।

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত শেখ জহির উদ্দিন বাবর বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা না দিয়েই জোর করে আমাদের দোকান ও বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে সওজের খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, অধিগ্রহণের অর্থের চেক প্রস্তুত রয়েছে। জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর হলেই ক্ষতিগ্রস্তরা টাকা পেয়ে যাবেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) দীপঙ্কর দাশের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।