আগামী সপ্তাহে লোডশেডিং ৮০০-৯০০ মেগাওয়াটে নেমে আসবে : জ্বালানিমন্ত্রী
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
আগামী সপ্তাহ থেকে বিদ্যুতের অবস্থা ভালো হবে এবং লোডশেডিং কমে আসবে বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লোডশেডিং ৮০০-৯০০ মেগাওয়াটে নেমে আসবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ আয়োজিত ‘ফোর্থ বাংলাদেশ-চীন রিনিউএবল এনার্জি ফোরাম’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে জ্বালানিমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর ছাড়া বাংলাদেশের জ্বালানি সঙ্কট কাটবে না।
এ দিকে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বাতিল হওয়া ৩১টি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের লেটার অব ইন্টেন্ট (এলওআই) পুনরায় খোলার উদ্যোগ নেয়া হবে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে প্রকল্পগুলো যোগ্যতার ভিত্তিতে পুনঃমূল্যায়ন করা হবে। আমি এই সব প্রকল্প পুনরায় খুলছি। যোগ্যতা-ভিত্তিক মূল্যায়নের পর, যেগুলো সম্ভাবনাময়, সেগুলো আমরা বহাল রাখব।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ খাতে ৫৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ বাকি রয়েছে। সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধের চেষ্টা করছে। বকেয়ার কারণে কয়লা ও তেল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত পেমেন্ট কিয়ার করতে।
বিদ্যুৎ সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে বলেও জানান ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে ভূমির সঙ্কট কাটাতে রেলওয়ে এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অব্যবহৃত জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।
‘বিশেষ করে নদী ভাঙার ফলে জেগে ওঠা চরগুলোতে বড় আকারের সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় এই কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, ‘সৌর বিদ্যুতের প্রসারে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ প্রণোদনা এবং ট্যাক্স সুবিধার কথা ভাবছে সরকার।’ এ ছাড়া বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকেও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
এ দিকে সিপিডির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন বর্ণনা করতে ‘জীবাশ্ম জ্বালানির পতন, স্থিতিস্থাপক নবায়নযোগ্য জ্বালানির উত্থান’ শীর্ষক একটি ধারণাগত কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানির বাইরে ভাবতে হবে। সারা বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা যে সঙ্কট সৃষ্টি করেছে তা রাতারাতি সমাধান হওয়ার মতো কিছু নয়। বাংলাদেশকে তার জ্বালানি খাতে বিকল্পগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। তিনি বলেন, চীন তার উদ্ভাবনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনের বিনিয়োগ ইতোমধ্যেই যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে। ভবিষ্যতে কিভাবে সেই বিনিয়োগ আরো বাড়ানো যায়, তা নিয়ে এই ফোরামে আলোচনা করা হবে।
সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সঙ্ঘাত প্রশমিত হলেও এবং হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে পুনরায় খুলে দেয়া হলেও, আগামী বহু বছর ধরে বাংলাদেশকে জ্বালানি সরবরাহ বিঘেœর অর্থনৈতিক বোঝা বহন করে যেতে হবে।
ইকোনোমেট্রিক মডেলিং ব্যবহার করে সিপিডি পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ভূ-রাজনৈতিক তেল সঙ্কট একাধিক চ্যানেলের মাধ্যমে সীমিত কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সামষ্টিক অর্থনৈতিক ক্ষতি করবে। মধ্যম থেকে দীর্ঘমেয়াদে জিডিপির ক্ষতি ০.২১ থেকে ০.৫৩ শতাংশ, মুদ্রাস্ফীতির চাপ ০.৬ থেকে ১৩.৬ শতাংশ এবং টাকার অবমূল্যায়ন ০.৫৬ থেকে ৪.৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
বিএনপি সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে এবং সিপিডি এর জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৯.৩৬ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করে।