কার্ডে লেনদেনে প্রণোদনার দাবি ব্যবসায়ীদের

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগদ লেনদেনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তার ঘটাতে কার্ডভিত্তিক লেনদেনে প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়েছে দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। তারা বলছেন, গ্রাহক ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষকে উৎসাহিত করতে অন্তত ৫ শতাংশ প্রণোদনা চালু করা হলে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

গতকাল রাজধানীর এনবিআর ভবনে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব তুলে ধরে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)। সংগঠনটির মতে, প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ প্রণোদনার মধ্যে ৩ শতাংশ গ্রাহক এবং ২ শতাংশ ব্যবসায়ীরা পেতে পারেন। এতে নগদের ব্যবহার কমে আসবে এবং কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো: আবদুর রহমান খান। এতে এনবিআর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ই-কমার্স খাতের প্রবৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে নগদ লেনদেন কিছুটা কমলেও এখনো অর্থনীতির বড় অংশ নগদনির্ভর। এ অবস্থায় প্রণোদনা চালু করা হলে কার্ড ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে ‘ক্যাশ-লাইট’ অর্থনীতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

আলোচনা সভায় অ্যামচ্যাম প্রস্তাব করেছে, প্রাথমিকভাবে ব্যাংক, ব্যবসায়ী বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারীরা এই প্রণোদনা দিতে পারে। পরবর্তীতে এসব লেনদেনের তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয় বা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় করা যেতে পারে।

শুধু ডিজিটাল লেনদেন নয়, আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে একাধিক সুপারিশ তুলে ধরেছে সংগঠনটি। এর মধ্যে করনীতি সহজীকরণ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

এ সময় উৎসে কর ব্যবস্থায়ও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়। রুল ৩৯ অনুযায়ী করপোরেট কর নির্ধারণ করা হলে উৎসে কর ৪ দশমিক ১২৫ শতাংশ এবং অন্য ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়। একই সাথে দেশীয় ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ সমান করহার বজায় রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেন অবকাঠামো শক্তিশালী করতে স্মার্টকার্ড ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের ওপর শুল্ক ১৫ শতাংশের নিচে নামানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করেন, এসব যন্ত্রপাতির খরচ কমলে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারবেন।

অন্যদিকে, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের সুপারিশ করে কার্বনেটেড পানীয়ের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে এ খাতে মোট করভার ৫৪ শতাংশ হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, ভোক্তা চাহিদা কমছে এবং বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। করহার কমানো হলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব, সবক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তৈরি পোশাক খাতে পুনর্ব্যবহার শিল্পকে উৎসাহ দিতে বর্জ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ সেবাকে ভ্যাট অব্যাহতির আওতায় আনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। একই সাথে বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগ বাড়াতে অ-বাসিন্দা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য করহার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ হার ২০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ওপর সারচার্জ মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি গার্মেন্টস শিল্পে অন্তত ৫০ শতাংশ কাঁচামাল দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করার সুপারিশও করা হয়।

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ব্যক্তিগত আয়কর সীমা সাড়ে চার লাখ টাকা নির্ধারণ, ট্রেড লাইসেন্স ফি ৫০ শতাংশ কমানো এবং নারী উদ্যোক্তাদের শোরুমে ভ্যাট অব্যাহতির দাবি জানিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসায়ী সংগঠন ইউরোচ্যাম বিনিয়োগবান্ধব করনীতি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।