জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছে ইউট্যাব

Printed Edition

বাসস

মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত, পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

এ সময় দোয়া পরিচালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ইউট্যাব-এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের মাতা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

তিনি আরো বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। কেননা তিনি এমন একজন নেত্রী, যিনি এই দেশের জন্য তার সবকিছু হারিয়েছেন। তিনি হারিয়েছেন তাঁর স্বামী, সন্তান ও বাড়ি। তিনি জেলের খাটে শুয়েছেন। সে সময় তিনি চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। তখন ডাক্তাররা বলেছিলেন যে তাকে দেশের বাইরে চিকিৎসা না করালে, তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এরপরও তিনি বাংলাদেশের বাইরে কোথাও যাননি। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের বাইরে আমার এক ইঞ্চি জমি নেই, এক ইঞ্চি মাটি নেই। এই দেশের মাটিই আমার জায়গা, এই দেশের মানুষই আমার সন্তান।

ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এই রকম একজন দেশপ্রেমিক নেত্রীর আমাদেরকে ছেড়ে চলে যাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ক্ষতি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের লড়াইয়ের জন্য, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেছেন। আপসহীন নেত্রী হিসেবে তিনি আখ্যায়িত হয়েছেন। আজ তিনি বাংলাদেশের জনগণের জন্য এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন; কিন্তু বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরে আসা দেখে যেতে পারলেন না। এটা আমাদের কষ্ট।

ইউট্যাব-এর প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা আশা করি, আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করবেন। আমরা প্রার্থনা করি ও আশা করি তার স্বপ্ন বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশের ডেমোক্র্যাসি ফিরে আসবে এবং আগামী দিনে বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদের উত্থান হবে না।

ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো: মোর্শেদ হাসান খান বলেন, আমাদের গণতন্ত্রের মা নিজ হাতে সিগনেচার করে ২০১২ সালে ইউট্যাব অনুমোদন দিয়েছিলেন। তখন থেকেই এই সংগঠনটির যাত্রা শুরু।

তিনি তখন বুঝতে পেরেছিলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী একটি শিক্ষক সংগঠন হওয়া উচিত। কারণ আমাদের দলে নানা মতের লোক ছিলেন; কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী সংগঠন গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। তিনি সেটি অনুমোদন করেছিলেন ২০১২ সালে, এরপর ইউট্যাবের যাত্রা শুরু হয়।

তিনি আরো বলেন, বড় বড় আন্দোলনে ম্যাডামের নেতৃত্বে ইউট্যাব তার পাশে ছিল। ম্যাডামের যে ত্যাগ, সেই ক্ষিতপূরণ আর কেউ দিতে পারবে না। ম্যাডাম আমাদের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। তার বিনিময়ে আমরা গণতন্ত্র অর্জনের পথে এগিয়ে এসেছি।

তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন। আমরা চাই একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী দল, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিজয়ী হয়ে দেশসেবার সুযোগ পাক। আমি আমার চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করছি।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- ইউট্যাব-এর কোষাধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো: আবুল কালাম সরকার, ঢাবি সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক মো: লুৎফর রহমান, ড. মো: নূরুল ইসলাম, ড. মো: আব্দুর রশীদ, ড. মো: আবদুল করিম, ড. মো: কামরুল আহসান, ড. সোহাগ আওয়াল, ড. মো: নজরুল ইসলাম, ড. শামছুল আলম, ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ড. মো: ইলিয়াস, মো: শফিউল্লাহ, ড. মো: আখতার হোসেন খান, ড. মো: সিরাজুল ইসলাম, শাহ শামীম আহমেদ, তাহমিনা আখতার টফি, ড. আব্দুস সালাম, ড. মো: জাফরুল আজম, ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার, ড. মো: জাহাঙ্গীর হোসেন, ড. মো: খালেদউজ্জামা, ড. মো: আতাউর রহমান, ড. জি এম শফিউর রহমান, ড. মো: কুদরত-ই-জাহান, ড. মোহা: হাছানাত আলী, মো: মিনহাজুল আবেদীন, ড. মো: রবিউল ইসলাম, ড. এস এম হেমায়েত জাহান, ড. মো: মামুন অর রশিদ, ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, ড. মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, ড. মেহেদী হাসান সিকদার, ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ, ড. মো: নুরুল আমিন, ড. মো: আব্দুল লতিফ, ড. মোহাম্মদ জামশেদ আলম, ড. এফ এম আমিনুজ্জামান, ড. কাজী আহসান হাবীব, ড. মো: আব্দুল্লাহেল বাকী, ড. মো: রাশেদুল ইসলাম, ড. নূর মহল আখতার বানু, ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম, ড. মো: মাহবুবুল আলম, ড. রঞ্জন রায়, ড. মো: তোজাম্মেল হোসাইন, ড. মো: ইদ্রিস আলী, ড. মো: আবু জাফর খান, ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ড. মো: খায়রুল ইসলাম, ড. আবুল হাসনাত মোহা: শামীম, মো: আনিছুর রহমান, মো: তানভীর আহসান, খাঁন মো: মনোয়ারুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ ইকবাল, ড. সালমা আখতার, ড. মাসুমা হাবিব, নাছির আহমেদ, মো: শওকত আলী, মোস্তাফিজুর রহমান, ড. মুহ: রাশেদুল ইসলাম, ড. রবিউল ইসলাম ও নওশের ওয়ানসহ শতাধিক শিক্ষক।