ভাঙনে ঝুঁকিতে রামগঙ্গা পর্যটন এলাকা ও সড়ক

Printed Edition
Bangla-3
ভাঙনের মুখে চুনারুঘাট পর্যটন কেন্দ্র : নয়া দিগন্ত

মো: মিজানুর রহমান চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র চন্ডিছড়া চা-বাগানসংলগ্ন রামগঙ্গা এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙন দ্রুত বিস্তৃত হয়ে পুরনো ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাছাকাছি চলে এসেছে। এতে পর্যটন স্থাপনা, সড়ক যোগাযোগ ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, পাহাড়ি পানির তীব্র স্রোতে রামগঙ্গা এলাকায় প্রতিনিয়ত ভাঙন বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, আর মাত্র কয়েক হাত ভাঙন হলেই রাস্তার পাশে স্থাপিত বহুল পরিচিত ‘বিউটিফুল চুনারুঘাট’ নামফলক এবং পর্যটক ও যাত্রীদের জন্য নির্মিত একমাত্র ছাউনিটি নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল আলোচিত এই নামফলকটি চুনারুঘাটের অন্যতম পরিচিত প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকরা এখানে ছবি তোলেন এবং আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। সম্প্রতি চলমান ভাঙনে স্থানটির অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী বিজু মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হলেও তা বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। একই সাথে চা-বাগান কর্তৃপরে প থেকেও ভাঙনরোধে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। ফলে বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলের চাপে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠছে।

চন্ডিছড়া এলাকায় পুরনো ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কয়েকটি অংশেও নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি ঢলের পানি সরাসরি রাস্তার কিনারায় আঘাত করায় ভাঙন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। শুরুতেই পানি নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি এতটা সঙ্কটাপন্ন হতো না। স্থানীয় মশিউর রহমান খান বলেন, জরুরি ভিত্তিতে গাইড ওয়াল নির্মাণ, ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সড়কের বড় অংশ ধসে পড়ে যোগাযোগব্যবস্থাই বিপর্যস্ত হয়ে যাবে। তিনি দাবি করেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের চেষ্টা করতে চাইলেও প্রশাসনিক অনুমতি পাননি তিনি।

এ বিষয়ে সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ভাঙনের স্থানটি মূলত চা-বাগানের আওতাভুক্ত এলাকায়। তাই, ভাঙনরোধে প্রাথমিক দায়িত্ব বাগান কর্তৃপরে ওপরই বর্তায়। তবে, ভাঙন সড়কের কাছাকাছি চলে এলে তখন প্রয়োজনীয় পদপে নেয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে চা-বাগান কর্তৃপরে বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এবং শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

এলাকাবাসী ও পর্যটনপ্রেমীদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে রামগঙ্গা পর্যটন এলাকা, ‘বিউটিফুল চুনারুঘাট’ নামফলক, যাত্রী ছাউনি এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা রা করা হোক। তা না হলে চুনারুঘাটের অন্যতম আকর্ষণীয় এই পর্যটনকেন্দ্রটি অচিরেই হারিয়ে যাবে।