মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ধানের শীষে ভোট দিন : তারেক রহমান

একজন ভোট ডাকাতি করেছে, আরেকজন ষড়যন্ত্র করছে

Printed Edition
first-1
রাজধানীর ভাসানটেক বিআরবি মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান : নয়া দিগন্ত

বিশেষ সংবাদদাতা

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাষানটেকের বিআরবি মাঠে এই নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান এলাকাবাসীর কাছে ভোট চান।

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি গত ১৫/১৬ বছর কী হয়েছে? ২৪‘র ৫ আগস্ট দেশে একটি পরিবর্তন হয়েছে। আমি মনে করি, সারা দেশের মানুষ একটি পরিবর্তন চায়, ভালো পরিবর্তন চায়। মানুষের সমস্যাগুলো যাতে সমাধান হোক, মানুষের চলাফেরা, মানুষের নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান, দেশে বেকার তরুণ-তরুণী যারা আছে, যারা কর্মহীন অবস্থায় আছে তাদের কর্মসংস্থান করা।

তিনি বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি, এই জনগণের পাশে কারা এসে দাঁড়িয়েছে? কাজেই আমরা যদি অতীতের সবগুলো কাজ বিবেচনা করি আমরা দেখব, একমাত্র ধানের শীষকে যতবার নির্বাচিত করেছে এই দেশের মানুষ ততবারই এই দেশের উন্নয়ন হয়েছে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে, ভালো পরিবর্তন হয়েছে। কাজেই আসুন আমি ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাদের কাছে আমি ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে যাচ্ছি।

এই নির্বাচনী সমাবেশে তারেক রহমান তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে আসেন। ভাষানটেকের এলাকার মানুষের কী কী সমস্যা তার জানার জন্য সমাবেশস্থল থেকে নিজে মাইক নিয়ে ভাসানটেকের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা, তরুণ শিক্ষার্থী, প্রান্তিক শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন স্তরের একজন করে ব্যক্তি ও নারীকে খুঁজে খুঁজে ডেকে আনেন এবং তাদের কাছে ভাসানটেকের সমস্যাগুলো কি জানতে চান।

তারা বলেছেন, ভাসানটেকে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন তারা চায়, চায় নারীদের জন্য কর্মসংস্থান, ফ্যামিলি কার্ড যাতে তারা সবাই পায় তার নিশ্চয়তা।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, আমিও এলাকায় গত ৫০ বছর যাবত বড় হয়েছি। যদিও মধ্যে এখানে অনেক দিন বাইরে থাকতে হয়েছে আমাকে। তারপরও আমি আপনাদেরই একজন। স্বাভাবিকভাবেই আজকে যখন আমি এই এলাকার প্রার্থী হয়েছি। আমি আপনাদেরকে এতটুকু বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়া আল্লাহর রহমতে আগামী নির্বাচনে আমি জয়ী হলে এবং ধানের শীষ সরকার গঠনে সক্ষম হলে আজকে এই যে কয়জন মানুষ আপনাদের সবার পক্ষ থেকে এখানে উপস্থিত হাজার হাজার এই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যে সমস্যার কথা বলে গেছেন, বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনসহ অন্য যে সমস্যাগুলো বলে গেছেন ইনশাল্লাহ আমরা সেই সমস্যার সমাধান করব। ‘আমরা খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই’ : মঞ্চে থাকা বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হককে দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই যে এখানে আমিনুল হক আছেন। সবাই চিনেন তাকে। ছেলে হোক মেয়ে হোক তারা যাতে প্রফেশনাল খেলোয়াড় হতে পারে, ক্রীড়া দিয়ে যাতে জীবিকা অর্জন করতে পারে সেই প্রতিভাগুলোকে আমরা বের করে নিয়ে আসতে চাই।

‘দেশ পুনর্গঠন গণতন্ত্র চাই’

তারেক রহমান বলেন, দেশে আন্দোলন হয়েছে, সংগ্রাম হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। দেশের প্রত্যেকটি সেক্টর বিগত ১৫/১৬ বছরের ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ধ্বংস হওয়ার ফলে আজকের দেশ অনেক পিছিয়ে গেছে। আমাদেরকে এগুলোকে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। যদি পুনর্নির্মাণ করতে হয় তা হলে অবশ্যই আমাদেরকে এই দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কেন প্রতিষ্ঠিত করতে হবে? কারণ গণতান্ত্রিকভাবে আপনারা যদি আপনাদের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করতে পারেন তা হলেই কিন্তু আপনি একমাত্র আপনার এলাকার সমস্যা, আপনার সমস্যা আপনি তার কাছে নিয়ে যেতে পারবেন। আমি কি ঠিক কথাটা বলেছি।

তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর যে আমি নির্বাচন হয়েছিল সেই নির্বাচনে যে তথাকথিত এমপি ছিল আপনারা কি তাদের যেতে পেরেছিলেন? আপনাদের এলাকার সমস্যা নিয়ে যেতে পেরেছেন? পারেন নাই। সেই জন্যই এলাকার সমস্যার সমাধান যদি করতে হয়, দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে, আপনারা যদি প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন। শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, একই সাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেমন ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে ঠিক আমাদেরকে একইভাবে সেটি পৌরসভা হোক, উপজেলা হোক, ইউনিয়ন পরিষদ হোক সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে হবে।

‘জনসমস্যা সমাধানে জনপ্রতিনিধি জরুরি’

তারেক রহমান বলেন, আপনাদেরকে আমি আগেই বলেছি, আমাদেরকে যদি এই এলাকার মূল সমস্যার সমাধান করতে হয়, একই সাথে আমাদের যদি সারা দেশের সামগ্রিক যে সমস্যাগুলো আছে মানুষের নিরাপত্তা, মানুষের কর্মসংস্থান, মানুষের শিক্ষা, মানুষের চিকিৎসা এগুলোকে যদি আমাদের এড্রেস করতে হয়। এই সমস্যাগুলোর পর্যায়ক্রমিক যদি আমাদের সমাধান করতে হয় অবশ্যই আগামী দিনে বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক এবং সাধারণ মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন।

ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আবদুস সালাম ও প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের যৌথ সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমানসহ অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি বাহিনী আছে এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করছে, মা-বোনদের বিকাশ নাম্বার নিয়ে গেছে ও প্রবাসীদের ব্যালট পেপার দখল করে নিয়েছে। তাহলে এদের সাথে গত ১৫ বছর যে গোষ্ঠী ভোট ডাকাতি করেছে তাদের পার্থক্য কোথায়? গতকাল নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ভোর ৪টায় আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান। এ দিন আড়াইহাজারের পাঁচরুখী আনোয়ারা ডিগ্রি কলেজ মাঠে এই নির্বাচনী জনসভা আয়োজন করা হয়।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের কথা আমরা অনেক আগে থেকে বলেছিলাম। সরকার সেটা পূরণ করেছে, সবটা না পারলেও অনেকটা করেছে। কিন্তু পত্রিকার খবরে দেখলাম, পোস্টাল ব্যালট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কাজেই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। যারা ষড়যন্ত্র করে ভোট পেতে চায়, সেই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আমি যাদের দায়িত্ব দিয়েছি তাদের ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়ী করে দেশ গড়ার শপথ নিতে হবে।

তারেক রহমান বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মানুষ রাস্তায় নেমেছিল তাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার দাবিতে। সেই অধিকার আগামী ১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বক্তব্য শেষে বিএনপির তারেক রহমান নারায়ণগঞ্জ জেলার সংসদীয় আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করে দেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সভাপতিত্বে সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীবসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

একজন তো দিল্লি গেছে, আরেকজন কিছু হলেই পিণ্ডি চলে যায়

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই দেশটাকে তো নতুন করে গড়তে তুলতে হবে। একজন তো দিল্লি ভাইগ্যা গেছে, আরেকজন তো কিছু হলেই পিণ্ডি চলে যায়। খালেদা জিয়া কোথাও গেছে? তিনি সবসময় বলেছেন এই দেশের মাটিই আমার ঠিকানা।

গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর বাসাইলের পৌর পার্ক সংলগ্ন এলাকায় নির্বাচনের প্রচারণা উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিরাট জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমি কোথাও যাব না। তাই এই দেশকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে। কয়েক দিন আগে দেশে বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প হয়েছে। মোনাফেকদের এসব মোনাফেকির জন্য, ধোঁকাবাজির জন্য আল্লাহ আমাদের সতর্ক করেছেন। শিরিকিদের, মুনাফেকদের ও ধোঁকাবাজদের হাত থেকে এই দেশকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে একমাত্র তারাই দেশকে রক্ষা করতে পারবে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই দেশের ছাত্র-জনতা, নারী, শ্রমিক, পেশাজীবী সব ধরনের মানুষ এই দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছিল, যেই স্বাধীনতা আমরা ৭১ সালে অর্জন করেছি। আপনার কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার, তারা নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে ফিরিয়ে এনেছে। তাই কথা বলতে হবে।

যেটা ভালো সেটাকে ভালো বলতে হবে। আর যেটা মন্দ সেটাকে মন্দ বলতে হবে। যদি মন্দ হয় সেটাকে প্রতিবাদ করতে হবে।

জনসভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, জেলা বিএনপির সভাপতি ও নরসিংদী-১ সদর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনজুর এলাহীর সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন, নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহসম্পাদক মো: আশরাফ উদ্দিন বকুল, বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক লে: কর্নেল (অব:) জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ও হোসেনপুর সংবাদদাতা জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় কিশোরগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের জনসমক্ষে হাত উঁচিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন,‘তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায়ের পর ভোট দিতে হবে।’ প্রতিটি আসনে প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। দেশ গড়ার কাজে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, যেভাবে আমরা রাজপথে আন্দোলন করেছি, ঠিক সেভাবেই সবাই মিলে কাজ করে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে হবে। তিনি দেশব্যাপী বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি খাল খনন, ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানি ভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষের বিজয় অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন। ।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো: শরিফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে মো: জালাল উদ্দীন, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে সৈয়দ এহসানুল হুদা এবং কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী মো: শরীফুল আলম প্রমুখসহ জেলা, উপজেলা ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এবারো ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, অতীতে নিশি রাতে ভোট হয়েছে, মানুষ ভোট দিতে পারে নাই। এবারো ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে কেন্দ্রে গিয়ে সবাইকে ফজরের নামাজ পড়তে হবে। নামাজ শেষ করে ভোট দেয়ার জন্য দাঁড়িয়ে যেতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগামীতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সরকার গঠন করা হলে চারদিকে রাস্তাঘাটের যে বেহাল দশা, এসব রাস্তার উন্নয়ন কাজ করা হবে। বেকার যুবকদের জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের মাধ্যমে ২০ কোটি মানুষের অর্ধেক নারী সমাজকে সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটি আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে খেজুর গাছ প্রতীকের জোটের প্রার্থী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে মাথাল প্রতীকে জোট প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

এর আগে তিনি সিলেট শাহজালালের (রহ.) মাজার জিয়ারত করে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। তিনটি জনসমাবেশে বক্তব্য শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সরাইল কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে এসে পৌঁছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের সঞ্চালনায় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মুশফিকুর রহমান, জোট নেতা মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, জোট নেতা জোনায়েদ সাকি, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান ও বিএনপি নেতা এম এ হান্নান।