আশুলিয়ায় হত্যাসহ লাশ পোড়ানো মামলার রায় ৫ ফেব্রুয়ারি
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার
- মানবতাবিরোধী অপরাধ
৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিলেন ট্রাইব্যুনাল
এসপি আনিসসহ ৫ জনকে গ্রেফতারি পরোয়ানা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে সংঘটিত এ ঘটনাটি ছিল চরম নৃশংস। গুলি করে হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে লাশে আগুন দেয়ার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এ মামলায় মোট আসামি ১৬ জন। এর মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন আটজন।
কারাগারে থাকা আট আসামিরা হলেন- ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো: শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এস আই মালেক, এস আই আরাফাত উদ্দিন, এ এস আই কামরুল হাসান, এস আই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল। এ মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিলেন ট্রাইব্যুনাল : চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোমনাথ সাহাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে আসামিদের হাজিরা ১৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তুলে ধরেন। এ ছাড়া ফরমাল চার্জটি আমলে নেয়ার প্রার্থনা করেন। পরে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনজন আন্দোলনকারীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করান তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান সোমনাথ সাহা। এর মধ্যে খুব কাছে গিয়ে এক জুলাই যোদ্ধার মাথায়-বুকে গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন এক এসআই। এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিলাম আমরা। অভিযোগটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন তিনজন। এ ছাড়া বাকি ছয়জনকে গ্রেফতারের মাধ্যমে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আসামি হলেন গৌরীপুর থানার তৎকালীন ওসি সুমন চন্দ্র রায়, এএসআই দেলোয়ার হোসেন ও আওয়ামী লীগ নেতা সানাউল।
এসপি আনিসসহ পাঁচজনকে গ্রেফতারে পরোয়ানা : যশোরের চৌগাছায় গ্রেফতারের পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি করার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে পাঁচজনকে গ্রেফতারে পরোয়ানা ও তিনজনকে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যরা।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট যশোরের চৌগাছায় রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামের দুই ছাত্রনেতাকে মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। কিন্তু আদালতে না তুলে পরপর দুই রাত তাদের নির্যাতন করা হয়। এরপর অধীনস্থ পুলিশদের দিয়ে দু’জনের পায়ে গুলি করান তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান। এ ছাড়া ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেয়া হয় দু’জনকে। পরবর্তীতে অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের পায়ে বালু ঢোকানোর কারণে পচন ধরে। পরবর্তীতে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এই নিষ্ঠুরতম ঘটনায় যশোরের সেই সময়ের এসপি আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে আজ অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পাশাপাশি ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। তারা তিনজনই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সরাসরি গুলি চালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন। আনিসুর ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। তাদের গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করা হয়।