যুদ্ধের মধ্যে দুবাই, সৌদিতে দিনে ফ্লাইট চলছে
ইরানে নিখোঁজ বাংলাদেশী সন্ধান করছে পরিবার
Printed Edition
বিশেষ সংবাদদাতা
ইরানের ওপর ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় বোমা হামলা চালানোর পর রাজধানী তেহরান ও আশপাশ এলাকা থেকে বেশির ভাগ বাংলাদেশী নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন। তবে দিন দিন হামলার মাত্রা বাড়তে থাকায় এসব ঘটনায় কোনো বাংলাদেশী নাগরিক নিহত বা আহত হয়েছেন কি-না সে ব্যাপারে ঢাকার পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর পরই কিছু বাংলাদেশী নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইরানের বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগের পরও সন্ধান না পেয়ে আতঙ্কিত পরিবারগুলো ঢাকার পররাষ্ট্র এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে নাম, ছবি ও বিস্তারিত পরিচয় দিয়ে লিখিতভাবে জানাচ্ছেন।
ইরানে থাকা বাংলাদেশীরা এই মুহূর্তে কেমন আছেন তা জানতে তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাসে গতকাল বারবার যোগাযোগ করা হয়। জানা গেছে, বাংলাদেশীদের সার্বিক খোঁজ রাখার জন্য তেহরানের বাংলাদেশ দূতাবাসের দু’জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওই দুই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগেরও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাদের সাথে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ দিকে ইরানসহ মধ্যেপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে চলমান যুদ্ধপরিস্থিতিতে কোনো বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মী সমস্যার সম্মুখীন হলে, সেটি জানানোর জন্য গত ১ মার্চ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূইয়ার নির্দেশে চার সদস্যর কমিটি গঠন করা হয়। এতে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের সার্বক্ষণিক হটলাইন (+৮৮০৯৬১০১০২০৩০) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন ও ই-মেইল নম্বরে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
ওই কমিটির সদস্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশ্রাফ আহমেদ রাসেল। গতরাতে তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি টেলিফোন রিসিভ করেননি। পরে কমিটির অপর সদস্য উপসচিব মো: ইমরান আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি আজকে এই মন্ত্রণালয় থেকে রিলিজ অর্ডার পেয়েছি। আমি ইরানের সর্বশেষ কী অবস্থা তা জেনে আপনাকে জানাচ্ছি। কিন্তু পরে (সময় রাত ৭টা) তাকে আবার ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের দেয়া কমিটির হটলাইন নম্বরে (প্রবাসী কল সেন্টার) যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বশীল একজন নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের এখানে শিফটিং ডিউটি চলে। আমার শিফটে ইরানের তেহরানের বিষয়ে কোনো আপডেট নেই। তবে যুদ্ধের মধ্যে মধ্যেপ্রাচ্যের দেশ সৌদিসহ অন্যান্য দেশ থেকে প্রতিনিয়ত কর্মীদের কল আসছে নানা সমস্যার কথা জানিয়ে। এর মধ্যে কারো কারো ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এর জন্য মন্ত্রণালয়ের সাপোর্ট দরকার উল্লেখ করে সচিব বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিচ্ছি। এক প্রশ্নের উত্তরে ওই ব্যক্তি বলেন, আমি যতটুকু জানি, ইরানের সর্বশেষ পরিস্থিতি হচ্ছে তেহরানে থাকা আমাদের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে বাংলাদেশীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। তবে এসব তথ্য আমি দিতে পারব না। এরজন্য আমার সুপারভাইজার আছেন। তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিস্তারিত দিতে পারবেন। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলে ফেলেন, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে বাংলাদেশী নিখোঁজ আছেন। এমন তথ্য জানতে চেয়ে আমাদের এখানে নিখোঁজদের পরিবার এসেছিল। তারা নাম-ঠিকানা দিয়ে গেছেন। তাদের কারো নম্বর কি দেয়া যাবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘না, এটা কনফিডেনসিয়াল মেটার।
এই তথ্য এখান থেকে দেয়া সম্ভব নয়। পরে কল সেন্টারের সুপারভাইজার ফয়সাল ইকবালের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমাদের এখানে মধ্যেপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকেই প্রতিদিন সমস্যার কথা জানাচ্ছে শ্রমিকরা। ইরানের বিষয়ে তিনি বলেন, গতকালও সেখানে ম্যাসিভ বোম্বিং হয়েছে। তবে কোনো বাংলাদেশী মারা যাওয়ার তথ্য আমাদের কাছে নেই বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ইরানে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ বা আধাদক্ষ কোনো শ্রমিকই যান না। যার কারণে সেখানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কোনো শ্রম কল্যাণ উইংও নেই। তবে দেশটিতে কয়েক হাজার বাংলাদেশী স্টুডেন্ট ট্যুরিস্ট এবং উন্নত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা গতকাল রাত পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। এ দিকে গতকালও যুদ্ধের পাল্টা আঘাত হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত, কাতার, দুবাইসহ কয়েকটি দেশে মিসাইল হামলা চালিয়েছে। তবে এসব ঘটনায় কোনো বাংলাদেশী হতাহতের ঘটনা রয়েছে কিনা তাও সরকারিভাবে কেউ কিছু নিশ্চিত করতে পারেননি। গতকাল রোববার দুপুরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) মো: কামরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, মধ্যেপ্রাচ্যের দেশ দুবাই ও সৌদি আরবে আমাদের এয়ারলাইন্সের কিছু ফ্লাইট শুধু দিনের বেলা চলাচল করছে। দিনে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।