আশুলিয়ার মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যেকোনো দিন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার
  • মানবতাবিরোধী অপরাধ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। রায় ঘোষণা হবে যেকোনো দিন। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় ঘোষণা হবে। তবে, এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল। এ দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি খণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সাইমুম রেজা তালুকদারসহ অন্যরা।

মঙ্গলবার দিনভর আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো: আমির হোসেন, মিরাজুল আলম ও আবুল হাসান। এ দিন প্রথমে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ঢাকা জেলা উত্তর ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেনের আইনজীবী মিরাজুল আলম নিজের ক্লায়েন্টকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালকে এ আইনজীবী বলেন, আমার ক্লায়েন্টের দোষ প্রমাণ করতে পারেনি প্রসিকিউশন। কারণ, তিনি কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। অধীনস্থদের কোনো আদেশ বা নির্দেশ দেননি। তার কমান্ডিং অফিসার ছিলেন ডিবির ওসি রিয়াজ উদ্দিন। অতএব, এ ঘটনায় কোনো জায়গায় আরাফাতের হস্তক্ষেপ করার কোনো এখতিয়ার ছিল না।

এ সময় ট্রাইব্যুনালে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়া আরাফাত হোসেনের জবানবন্দী পড়ে শোনান মিরাজুল। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে আমার ক্লায়েন্ট (আরাফাত) ছিলেন না। অথচ তাকে আসামি করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল বলেন, গাড়ি (লাশ পোড়ানো) পোড়াতে কী অস্ত্র লাগে নাকি। অস্ত্র ছাড়াও তো গাড়ি পোড়ানো যায়। আপনার সাক্ষী সঠিক। উনাদের (প্রসিকিউশন) সাক্ষী সঠিক নয়।

জবাবে মিরাজুল বলেন, আমি (আরাফাত) তো ছিলাম না। ট্রাইব্যুনাল আরো বলেন, ভিডিওতে কি দেখা যায়নি? জবাবে আইনজীবী বলেন, না। আমাকে দেখা যায়নি। এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, যারা ভ্যানে লাশ তুলেছে তারা কেউই দাঁড়িয়ে থাকেনি। লাশ ভ্যানে তুলে সবাই চলে গেছে।

এ সময় আরাফাতের আইনজীবী বলেন, এ মামলায় প্রসিকিউশন বলেছে ওয়াইড ¯েপ্রড অ্যান্ড সিস্টেম্যাটিক অ্যাটাক। কিন্তু ওই দিন আরাফাত ঊর্ধ্বতনের নির্দেশে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অর্থাৎ তাকে যখন, যেখানে অ্যাসাইন করা হয়েছে, তখন তিনি ওই কাজ করেছেন। পুলিশের ওপর হামলার আশঙ্কা ছিল বলেই তিনি তার ঊর্ধ্বতনের আদেশ মেনেছেন। কেননা ওই দিন বাংলাদেশের সব থানায় আক্রমণ করা হয়েছিল। দ্যাট ইজ সিস্টেম্যাটিক অ্যাটাক।

আসামিপক্ষের আইনজীবীর এমন কথায় আপত্তি জানান প্রসিকিউশন। মিরাজুলের উদ্দেশে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানকে চ্যালেঞ্জ করছেন? একই সাথে তার এ কথার ব্যাখ্যা চান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

তখন কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি। বরং নিজে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে তার কাছে ট্রাইব্যুনাল জানতে চান আপনি (আরাফাত) ৫ আগস্ট ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না? জবাবে না বলেন মিজানুল। তিনি বলেন, এ ঘটনার সাথে আরাফাতের সম্পৃক্ততা নেই। অতএব আমি তার খালাস আবেদন করছি।

এ বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, নির্ধারিত দিনে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি শুনেছেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিপক্ষের যুক্তির জবাব তাৎক্ষণিক দিয়েছেন প্রসিকিউশন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে সংঘটিত এ ঘটনাটি ছিল চরম নৃশংস। গুলি করে হত্যার পর পেট্রল ঢেলে লাশে আগুন দেয়ার মতো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

এ মামলায় মোট আসামি ১৬ জন। এর মধ্যে গ্রেফতার রয়েছেন আটজন। তাদের আজ সকালে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

তারা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো: শাহিদুল ইসলাম, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল। সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ বাকিরা পলাতক রয়েছেন।