কোস্টগার্ডের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে বর্তমানে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই

Printed Edition
first-4
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও পদক প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন দেশে বর্তমানে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। অতীতে ফ্যাসিবাদী আমলের সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে জঙ্গিবাদ তৈরি করেছিলো। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ শব্দটিকেই আমরা এখন আর রিকগনাইজ করি না। আমাদের দেশে এ ধরনের কোনো তৎপরতা নেই। কিছু এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ সব দেশেই থাকে, কিছু রেডিক্যাল বা ফান্ডামেন্টাল রাজনৈতিক শক্তি থাকে, এগুলো স্বাভাবিক; কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। অতীতে ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এ শব্দ ও বিষয়টি ব্যবহার করা হতো।

পুলিশ সদর দফতর থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে বিভিন্ন সেক্টরে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিসের চিঠি, কার চিঠি। এমন চিঠির বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। তবে জাতীয় দিবস বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কী পয়েন্ট ইনস্টলেশন) ঘিরে সবসময় স্ট্যান্ডার্ড অপারেশনাল প্রসিডিউর (এসওপি) থাকে। যার কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং চিঠি দিয়ে বিভিন্ন বাহিনীর সহায়তা নেয়া হয়, যা অতীতেও ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বিশেষ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বে সব দেশেই প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স উইং থাকে। কোনো সদস্য কোনো ধরনের প্ররোচনায় বাহিনী বা দেশবিরোধীসহ অন্য কোনো অপরাধে জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখতে বাহিনীর নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স কাজ করে। এ ধরনের ঘটনায় প্রচলিত সামরিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়, যা নতুন কিছু নয়।

সেনাবাহিনীর মাঠে থাকার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা হয়তো আপডেট নন। আমরা ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের (গ্র্যাজুয়াল উইথড্র) মধ্যে আছি। একসাথে পুরো ফোর্স প্রত্যাহার করা যায় না। ইতোমধ্যে অনেকাংশে কমানো হয়েছে এবং শিগগিরই তা আরো সীমিত আকারে নামিয়ে আনা হবে। তবে প্রয়োজনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তারা ভবিষ্যতেও কাজ করবে।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কার্যক্রম প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্যোগে কোস্টগার্ড আইন প্রণয়ন করা হয়। এরপর থেকে বাহিনীটির কার্যক্রম বিস্তৃত হলেও তা এখনো পর্যাপ্ত নয়। তবে নদীমাতৃক বাংলাদেশের বাস্তবতায় উপকূলীয় এলাকার পাশাপাশি জলপথভিত্তিক কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। হাওর অঞ্চলেও কোস্টগার্ডের কার্যক্রম সম্প্রসারণের চিন্তা করছে সরকার।

যার প্রেক্ষিতে বর্তমানে প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের কোস্টগার্ডকে পর্যায়ক্রমে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর সাথে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট, আধুনিক সরঞ্জাম, হেলিকপ্টার, আবাসন ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ সুবিধাও বাড়ানো হবে।

তিনি আরো বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলসহ দুর্গম জলপথে জলদস্যুদের উপদ্রব বেড়েছে। উপকূলীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোস্টগার্ডকে শক্তিশালী করা জরুরি। তাই প্রযুক্তির ব্যবহারে অপরাধীদের সক্ষমতা বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও আধুনিক ও প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের প্রতিটি সদস্য দেশের উপকূলীয় দুর্গম এলাকাসমূহ, নদীপথ ও সমুদ্রসীমায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নদী ও সমুদ্র পথে এবং উপকূলীয় এলাকায় জনসাধারণের জানমাল রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মৎস্যসম্পদ রক্ষা, মাদক পাচার রোধ, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এ বাহিনী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব জননিরাপত্তা বিভাগ মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সামরিক ও অসামরিক অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা, নাবিক এবং অসামরিক ব্যক্তিবর্গের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য চারজনকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পদক, চারজনকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, তিনজনকে প্রেসিডেন্ট কোস্টগার্ড পদক এবং তিনজনকে প্রেসিডেন্ট কোস্টগার্ড (সেবা)-সহ মোট ১৪ জনকে পদক প্রদান করেন।