সর্বোচ্চ নেতা বিদেশী শত্রুদের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন

তেহরানে বিক্ষোভ দমনে হিমশিম ক্ষুব্ধ খামেনির হুঁশিয়ারি

Printed Edition
onno-2
তেহরানে বিক্ষোভ দমনে হিমশিম ক্ষুব্ধ খামেনির হুঁশিয়ারি

আলজাজিরা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি চলমান বিক্ষোভকে বিদেশী ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ দমনে সরকার হিমশিম খাচ্ছে, আর খামেনির বক্তব্যে পরিস্থিতি আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহর অস্থির হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক সঙ্কট, রাজনৈতিক দুর্নীতি ও সামাজিক স্বাধীনতার দাবিতে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসছে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত হয়েছে, আর সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

গতকাল শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, ‘বিদেশী শত্রুরা ইরানকে অস্থিতিশীল করতে চায়। যারা রাস্তায় নেমেছে তারা বিদেশী শক্তির ভাড়াটে।’ তিনি বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ইরানিদের রক্ত লেগে আছে। খামেনির দাবি, বিক্ষোভকারীরা জনসম্পত্তি ধ্বংস করছে এবং রাষ্ট্র তা সহ্য করবে না।

খামেনি আরো বলেন, ‘প্রতিবাদ বৈধ হতে পারে, কিন্তু তা ভিন্ন বিষয়। যারা দাঙ্গা করছে তাদের জায়গা দেখিয়ে দিতে হবে।’ তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন সাধারণ প্রতিবাদকারীদের সাথে কথা বলতে, তবে দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে।

এ দিকে বিক্ষোভ দমনে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তাবাহিনী গুলি চালিয়েছে, যার ফলে অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। একই সাথে দেশব্যাপী ইন্টারনেট ও ফোনসেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, যাতে বিক্ষোভকারীরা সংগঠিত হতে না পারে।

বিক্ষোভকারীরা মূলত রাজনৈতিক স্বাধীনতা, দুর্নীতি বন্ধ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবি তুলছে। অনেকেই ‘স্বাধীনতা চাই’ ও ‘স্বৈরশাসনের অবসান’ স্লোগান দিচ্ছে। প্রবাসী ইরানি নেতা রেজা পাহলভিও বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইরানিদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসঙ্ঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন করতে গুলি চালানো মানবাধিকার লঙ্ঘন। যুক্তরাষ্ট্রও সতর্ক করে দিয়েছে, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে তবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

তেহরানের সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তারা বাইরের বিশ্বের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না। খাদ্য ও ওষুধের সঙ্কটও দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, ইরানে চলমান বিক্ষোভ এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খামেনির ক্ষুব্ধ বক্তব্যে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হলেও জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। বরং দমন-পীড়ন ও ইন্টারনেট বন্ধের কারণে জনরোষ আরো বাড়ছে। আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের মধ্যে ইরান এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।