দলীয় নির্বাচনী ইশতেহার

স্কুল ও কলেজপর্যায়ে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করবে বিএনপি

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়া সেক্টরের উন্নয়নকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তরুণ সমাজের অপার শক্তি ও উদ্যমকে ইতিবাচক ও সৃজনশীল পথে পরিচালিত করতে সারা দেশে খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হবে। খেলাধুলাকে আর শুধু বিনোদন বা শখের বিষয় হিসেবে দেখা হবে না; বরং এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও পেশাদারীকরণের ক্ষেত্রে বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

দলের এই ঘোষণায় বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার ভূমিকাকে শক্তিশালী করার ওপর। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণী থেকেই ক্রীড়া শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করে এটিকে নিয়মিত পাঠ্যক্রমের অংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত সংখ্যক যোগ্য ক্রীড়া শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। দলটি বলছে, এসবের ফলে দেশে নতুন নতুন ক্রীড়া প্রতিভার উদ্ভব ঘটবে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পতাকা উঁচু করতে সহায়ক হবে। একই সাথে তরুণরা খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারবে। এতে মাদক, অপরাধ, অনলাইন আসক্তি ও অন্যান্য সামাজিক ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করে বিএনপি।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিক বক্তব্যে ক্রীড়া সেক্টরকে ‘ঢেলে সাজানোর’ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে খেলাধুলার মাধ্যমেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব।’ শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করে শিশু-কিশোরদের অনলাইন আসক্তি থেকে মুক্ত রাখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সম্প্রতি এক্স-পোস্টে তারেক রহমান বলেন, খেলোয়াড়রা যুবসমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস এবং তারা খেলাধুলার সংস্কৃতির প্রচারক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি আরো যোগ করেন, প্রতিভা লালন, স্বপ্নের সমর্থন এবং জাতীয় গৌরব অর্জনের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ খেলাধুলার মাধ্যমে সম্ভব।

বিএনপির ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ রূপরেখায় ক্রীড়া সরাসরি পৃথক দফা না হলেও যুব উন্নয়ন ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশে এর সুস্পষ্ট প্রতিফলন রয়েছে। দফা ২৩-এ আধুনিক যুব উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন, বেকার যুবকদের জন্য ভাতা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও বেকারত্ব দূরীকরণের কর্মসূচির কথা বলা হয়েছে যার মধ্যে ক্রীড়া-ভিত্তিক কর্মসংস্থান অন্তর্ভুক্ত। দফা ২৫-এ শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, গবেষণা অগ্রাধিকার এবং খেলাধুলার প্রচারের মাধ্যমে জাতীয় সংস্কৃতি বিকাশ ও সুস্থ যুব সমাজ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক জানিয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পুরো ক্রীড়া ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠন করা হবে। ক্রীড়া সেক্টর নিয়ে দলের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে ক্রীড়াঙ্গনে নতুন গতি সঞ্চার হবে, তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় গৌরব অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।