জাতীয় তায়কোয়ান্দোতে নেই সেনাবাহিনী

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২০০৩ সাল থেকে জাতীয় তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপের পুরুষ বিভাগে সেরা দল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কিন্তু এবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে নেই দলটি। মানববন্ধন করায় এই বাহিনীর প্রায় আটজন তায়কোয়ান্দোকাকে বহিষ্কার করায় খেলতে পারছে না তারা। এই বাহিনীর কোচ সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো: মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘খেলার আগেরদিন (গত বুধবার) আমাদের তায়কোয়ান্দোকাদের বহিষ্কার করা হয়। তাই দীর্ঘ ২২ বছর পর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথমবার সেনাবাহিনী অংশ নিতে পারছে না।’

গত বছরের ১৫ অক্টোবর শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ফেডারেশন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল নেপাল এসএ গেমসে দেশের হয়ে প্রথম স্বর্ণজয়ী দীপু চাকমাকে। তাতে ক্ষেপেন সতীর্থরা। প্রতিবাদে গত বছর ২২ অক্টোবর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের সামনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধন করেন তায়কোয়ান্দোকারা। যেখানে সেনাবাহিনী, আনসার ও বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের ক্রীড়াবিদরাও ছিলেন। এরপর গত ২৫ ডিসেম্বর সেনাবাহিনীর সাতজন তায়কোয়ান্দোকাকে চিঠি দিয়ে বহিষ্কার করে ফেডারেশন। যার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর কোচ মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘টুর্নামেন্টের এক দিন আগে নির্বাহী কমিটির সভায় হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে বহিষ্কারাদেশের বহাল রাখা হয়। ফলে চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় সেনাবাহিনী।’

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব:) এরশাদুল হকের কথা, ‘এসএ গেমসের ক্যাম্প থেকে বের হয়ে মানববন্ধন করে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে ওই খেলোয়াড়রা। তাদেরকে আগে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলানো যায় কি না এ নিয়ে গত মঙ্গলবার নির্বাহী কমিটির সভায় ৯০ ভাগ সদস্য হাজির ছিলেন। সেখানেই ১৪-৩ ভোটের ব্যবধানে বহিষ্কৃত খেলোয়াড়দের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে না দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘ডিসিপ্লিনভঙ্গকারীদের ব্যাপারে এমন সিদ্ধান্তকে ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মো: হাবিব উল্লাহ স্বাগত জানান। তবে অবাক হয়েছি, সেনাবাহিনীর অন্যরা কেন খেলতে আসেনি এবং নাম নিবন্ধন করেও কেন পরে তা প্রত্যাহার করেছে।’