খুবিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলন
উপকূলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও মাটি-পানির দূষণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ : প্রতিমন্ত্রী
Printed Edition
খুলনা ব্যুরো
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রেজিলিয়েন্স ইন দ্য কোস্টাল জোন অব বাংলাদেশ আন্ডার এ চেইঞ্জিং ক্লাইমেট শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি। মন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, খুলনাসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। ভৌগোলিক কারণেই এই জনপদ রিয়েল ক্লাইমেট ভিকটিম। ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। আমাদের এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কিভাবে আমরা এই বৈরী পরিস্থিতি মোকাবেলা করে টিকে থাকব। তিনি আরো বলেন, এ অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, মাটি ও পানির দূষণ টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রামপাল, মোংলা, কয়রা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে এ সমস্যা প্রকট। এসব সমস্যা মোকাবেলায় কার্যকর ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধান খুঁজে বের করতে এ ধরনের সম্মেলনের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থেই বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে হবে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন আজ বহুমুখী সঙ্কটের সম্মুখীন। সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে আমাদের এখনই সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে হবে। পরিবেশের এই বিপর্যয়ের জন্য আমরাও কোনো না কোনোভাবে দায়ী। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় শিক্ষার্থী ও কৃষকদের সম্পৃক্ত করে গবেষণার মাধ্যমে সমস্যাগুলো গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে হবে।
চিফ প্যাট্রন হিসেবে বক্তব্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: রেজাউল করিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ লবণাক্ততা, পানির সঙ্কট ও ভূমি অবক্ষয়ের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, যা তাদের জীবন-জীবিকায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। উপকূলের নিকটবর্তী একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষা ও গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং সমাজের সাথে সম্পৃক্ত থেকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রোভিসি প্রফেসর ড. মো: হারুনর রশীদ খান, জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো: গোলাম হোসেন, প্রধান বন সংরক্ষক মো: আমির হোসেন চৌধুরী এবং ছাত্রবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো: নাজমুস সাদাত। সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চীনের চাইনিজ একাডেমি অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসের প্রফেসর ড. শিনহুয়া পেং। সভাপতিত্ব করেন সয়েল, ওয়াটার এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাবের হোসেন।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাপানের ইউনিভার্সিটি অব ইয়ামানাশির ড. রিওটা কাতাওকা এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. এম জহিরুদ্দিন। দুপুরের বিরতির পর টেকনিক্যাল সেশনে গবেষকরা ওরাল ও পোস্টার উপস্থাপনার মাধ্যমে তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল তুলে ধরেন। এই পর্বে দুই শতাধিক গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সম্মেলনে বাংলাদেশ, জাপান, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীসহ তিন শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। এর আগে সকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছালে ভিসি প্রফেসর ড. মো: রেজাউল করিম তাকে স্বাগত জানান।