নীলফামারীতে ৫০০ টাকা বেশি দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না সিলিন্ডার
Printed Edition
নীলফামারী প্রতিনিধি
সারা দেশের মতো তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সঙ্কট নীলফামারীতেও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি মূল্য দিয়েও এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। সঙ্কট কেন্দ্র করে ডিলার ও খুচরা পর্যায়ের মজুদদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে ভোক্তাদের মধ্যে। এ অবস্থায় এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নীলফামারীর গ্যাস ডিলার ও ব্যবসায়ীদের সাথে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান।
সভায় জেলার এলপিজি বাজারের বর্তমান অবস্থা, সরবরাহ ঘাটতি, মূল্য নির্ধারণের অসামঞ্জস্য এবং ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এলপিজি বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কৃত্রিম সঙ্কট রোধ এবং ভোক্তাদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সঙ্কট মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”
নীলফামারী জেলা এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ করে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের সাথে বিভিন্ন কোম্পানির নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের অসামঞ্জস্য রয়েছে। এতে বাজারে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তারা এলপিজি ডিলারদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা বন্ধ রাখার আহ্বান জানান।
তবে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও ওমেরা গ্যাসের ডিলার বুলু। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত ৩৪টি এলপিজি কোম্পানির মধ্যে মাত্র চার থেকে পাঁচটি কোম্পানি নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করছে। ফলে সারা দেশেই এই সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এরপরেও নীলফামারীতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নীলফামারীর সদর উপজেলার কচুকাটা এলাকার চা দোকানি আলাউদ্দিন বলেন, ‘গত সপ্তাহে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছি এক হাজার ৮০০ টাকায়, সেটাই কিনতে হয়েছে দুই হাজার ৩০০ টাকায়।’ পলাশবাড়ী এলাকার চা দোকানি মিজান বলেন, ‘গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। বাসার সিলিন্ডার এনে দোকান চালাচ্ছি। যার কাছ থেকে গ্যাস নিতাম, ফোনে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।’
গাছবাড়ি এলাকার রেস্তোরাঁ মালিক শামসুল জানান, ‘গত ১৫ দিন ধরে দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। ২২ কেজির সিলিন্ডার বাদ দিয়ে এখন বাধ্য হয়ে ১২ কেজির নিচ্ছি।’
ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) মনে করে, এলপিজির মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা বিইআরসি বাজার তদারকিতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দাবি করছে, বেসরকারি অপারেটরদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সঙ্কট কাটাতে প্রশাসনের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।