সিরাজগঞ্জ শহরে পৌরসভার সরবরাহকৃত পানিতে রোগজীবাণু থাকায় জনগণ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। একটি সহযোগী জাতীয় দৈনিকের খবরে জানা যাচ্ছে, সিরাজগঞ্জ পৌরশহরের ধানবান্ধি মহল্লায় হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। গত ১০ দিনে তিন শতাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারা সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এবং বেসরকারি হাসপাতালে এবং কেউ কেউ নিজ বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রোগী ও তাদের স্বজনরা ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে পৌরসভার সরবরাহ করা পানিতে দূষণ থাকার বিষয়টিকে দায়ী করেন। সিরাজগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন ঘনবসতিপূর্ণ ধানবান্ধি মহল্লার দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে দায়ী করছেন। এ ব্যাপারে ঢাকার রোগতত্ত¡ বিভাগের লোকজন ফোনে সিরাজগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে খোঁজখবর নিচ্ছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠকর্মীরা তথ্য সংগ্রহ করছেন। নমুনা পরীক্ষার জন্য কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে আসেননি।
ধানবান্ধি মহল্লার বাসিন্দা কামারখন্দ সরকারি কোরপ আলী ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোকতেল হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার ও শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, তাদের মহল্লার তিন শতাধিক ব্যক্তি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী আলামিন হোসেন বলেন, ‘আমি ও মা-বাবা পৌরসভার সাপ্লাই পানি ব্যবহার করি। তিনজনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছি।’
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা: আকিকুন নাহার বলেন, ‘ধানবান্ধি ও হোসেনপুর মহল্লা থেকে কয়েক দিনে কয়েকজন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগও এ বিষয়ে অবগত। দূষিত সাপ্লাই পানি ও দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে তারা হয়তো আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে চার-পাঁচজন রোগী ভর্তি হন। হঠাৎ রোগী ভর্তির কারণে হাসপাতালেও চাপ বেড়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায় অবশ্য জানান, ‘পৌরসভার সাপ্লাই পানি পরীক্ষা করে দূষণ পাওয়া যায়নি’।
সিরাজগঞ্জ জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, স্যানিটেশন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে ধানবান্ধি মহল্লাবাসী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। পৌরসভার পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নেই।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শারমীন খোন্দকার বলেন, ‘ধানবান্ধি মহল্লায় তিন দিনে ৯০ জন ডায়ারিয়া আক্রান্ত রোগী পেয়েছি। স্বাস্থ্য বিভাগ ঘিঞ্জি ওই এলাকার পরিবেশ ও দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে কারণ দেখছে।
সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা: নুরুল আমীন বলেন, কারণ অনুসন্ধানে ঢাকার রোগতত্ত¡ গবেষণা ইনস্টিটিউটের লোকজনকে খবর দেয়া হয়েছে। তারা যোগাযোগ করছেন। এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন।
পৌরসভার সরবরাহ করা পানিতে দূষণ না থাকলে এলাকার স্যানিটেশন ব্যবস্থায় সমস্যা থাকতে পারে। থাকতে পারে খাবারের কোনো উপাদানেও। মোট কথা জনস্বাস্থ্যসম্পর্কিত কোনো না কোনো কারণ এর পেছনে অবশ্যই থাকবে।
গত ১০ দিনেও কর্তৃপক্ষ সে কারণটি খুঁজে বের করতে পারল না এটিই হতাশাজনক। ডায়রিয়ার কারণ খুঁজে বের করার দায়িত্ব জনস্বাস্থ্য বিভাগ, পৌরসভাসহ সবারই।
আমরা কারণ অনুসন্ধান এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।