ফিলিস্তিনের গাজায় মানব ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল। গোটা বিশ্বের মানুষ চায় নৃশংস এই হত্যাযজ্ঞ অবিলম্বে বন্ধ হোক; কিন্তু তা হয়নি। দীর্ঘ ২১ মাস ধরে একতরফা আক্রমণ চালিয়ে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ লক্ষাধিক নিরীহ বেসামরিক গাজাবাসীকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এমনকি ত্রাণ নিতে যাওয়া শত শত ক্ষুধার্ত গাজাবাসীকেও হত্যা করেছে তারা। অথচ জাতিসঙ্ঘসহ বিশ্ববাসী সে দৃশ্য নির্বিকার তাকিয়ে দেখেছে।

ইরানের সাথে সাম্প্রতিক সঙ্ঘাতে ইসরাইলের অপরাজেয় ভাবমর্যাদা হারানো এ ক্ষেত্রে কিছুটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করাতে পেরেছেন। তিনি তার ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায় গাজায় শান্তির উদাহরণ যোগ করতে চান। একই সাথে নেতানিয়াহুর ক্ষুধার মারণাস্ত্রও ফিলিস্তিনিদের জন্য মারাত্মক ছিল। সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বেড়েছে।

ফিলিস্তিনের অপ্রতিরোধ্য স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও তার মিত্ররা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তারা মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের কাছে ইতিবাচক জবাব জমা দিয়েছে। তবে পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছে, আলোচনা হতে হবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জনের জন্য। সেই নিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হবে। সংগঠনটি ইসরাইলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা চায়।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী আবারো যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন। সম্ভবত সেখানেই গাজা চুক্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তারপর এক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি হতে পারে।

চুক্তির শর্তে ইসরাইলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের মুক্তির বিনিময়ে হামাসের কাছে জিম্মি ইসরাইলিদের ধাপে ধাপে মুক্তি এবং ১৮ জন মৃত জিম্মির লাশ ফেরত দেয়ার বিষয়টি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামাসের হাতে এখনো ৫০ জন জিম্মি আটক আছে এবং এদের মধ্যে অন্তত ২০ জন বেঁচে আছে বলে ধারণা করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর গদি টলটলায়মান। জন-অসন্তোষ চরমে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মনোভাব পাল্টাতে শুরু করেছে। নির্বিচার গণহত্যা চালিয়ে ইসরাইল একরকম একঘরে হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। গাজা চুক্তির অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ইসরাইল ইতোমধ্যে যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো মেনে নিয়েছে বলে খবর এসেছে। এখন আলোচনায় সঙ্ঘাতের স্থায়ী সমাধানের প্রয়াস চালানো হবে।

কিন্তু চুক্তি যতই হোক, ইহুদিরা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে অবিশ্বস্ত জাতি। সাম্প্রতিক ইতিহাসে তাদের চুক্তিভঙ্গের অসংখ্য উদাহরণ সবার জানা। নেতানিয়াহু হামাসকে নির্মূল করার অঙ্গীকার কখনো ত্যাগ করেননি। তাই হামাসের সাথে চুক্তি হলেও তা ইসরাইল কতদিন বা কতক্ষণ মেনে চলবে তার কোনো নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না। এ জন্য হামাস চায় যুক্তরাষ্ট্র যেন এমন নিশ্চয়তা দেয় যে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনা সফল না হলেও ইসরাইল আর হামলা শুরু করতে পারবে না।

যুদ্ধবিরতিতে গাজাবাসীর তেমন কোনো উপকার হবে না। তাদের সবই ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি, ব্যবসায়, কৃষি, শিল্পসহ সব অবকাঠামো ধুলায় মিশে গেছে। স্বজন হারানো মানুষগুলোর জীবনের আর কোনো স্বপ্ন অবশিষ্ট আছে বলেও মনে হয় না। তবে যুদ্ধবিরতি অন্তত বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগ দেবে। এই মুহূর্তে সেটিই স্বস্তির।