একটি সহযোগী দৈনিকের জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে নয়ছয় চলছে। চলতি অতিরিক্ত দায়িত্বে পিআইওর দায়িত্বহীনতায় প্রকল্পের সঠিক তদারকি ও মাঠপর্যায়ে কাজের বাস্তবায়ন না হওয়ায় মুজিব কিল্লা, টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের এই অবস্থা বিরাজ করছে।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইসলামপুর উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার শূন্য পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়ে সপ্তাহে দু-এক দিন হঠাৎ এসে শুধু কাগজে-কলমে প্রকল্প বাস্তবায়নে ফাইল সই স্বাক্ষর করে হাতিয়ে নিচ্ছেন তার পিসি। পিসি ছাড়া কোনো প্রকল্পের ফাইল ও বিলে তিনি স্বাক্ষর করে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ইসলামপুর উপজেলায় কাবিটা প্রকল্পের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর থেকে প্রথম ও দ্বিতীয়টি আর প্রকল্পের জন্য এক কোটি ৭৭ লাখ ১৫ হাজার ৪০৮ টাকা এবং কাবিখা প্রকল্পের জন্য ১৩৫ টন চাল এবং ১৩৫ টন গম বরাদ্দ আসে। এসব বরাদ্দের প্রথম পর্যায়ে কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১৫ মার্চ। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের মেয়াদ চলমান থাকলেও বাস্তবে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার এসব বরাদ্দের প্রকল্পের কাজের মাঠপর্যায়ে কোনো অস্তিত্ব নেই। এ কারণে উপজেলায় কোথাও কোনো প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। জানা গেছে, মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের বাস্তবায়নে জিওবি প্রকল্পের অর্থায়নে জেলার ইসলামপুর উপজেলায় ইসলামপুরে কুলকান্দি হেদায়েতিয়া আলিম মাদরাসা ও চিনাডুলী আফরোজা ফরিদ সুরুজ্জামান টেকনিক্যাল কলেজ এবং বলিয়াদহ উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন তিনটি মুজিব কিল্লা নির্মাণকাজ চলমান।

এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলার দায়িত্বে প্রাপ্ত পিআইওর সাথে কথা হলে তিনি উপরোক্ত অভিযোগগুলোর কোনো সঠিক জবাব দিতে পারেননি। তবে এই উপজেলার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কাজ যথাসময়ে শুরু না হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঈদের পর কাজ শুরু করা হবে।

দুর্নীতি চলতে থাকলে উন্নয়ন হবে না। এ জন্য সামষ্টিক উন্নতির স্বার্থে আমাদের দুর্নীতি থেকে দূরে থাকা উচিত। প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের গুরুত্ব সীমাহীন। এ জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দুর্নীতিমুক্ত থাকা উচিত। আমরা এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। প্রশাসনের সর্বস্তরে দুর্নীতি দমনে কঠোর হতে হবে। যে কোনো মূল্যে দুর্নীতি অনিয়ম দূর করতে হবে। অন্যথায় দুর্নীতি উন্নয়নের সব বরাদ্দ খেয়ে ফেলবে। জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের আকাক্সক্ষা হবে সুদূরপরাহত। এখন নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগের সময়। এ সময় দুর্নীতি যেন কোথাও প্রশ্রয় না পায় সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।