হাতে মোবাইল। অনেক ধাতু ও মূল্যবান উপাদান মোবাইলকে আকার দিয়েছে। একটি স্মার্টফোন মানে তাতে ব্যবহৃত হয়েছে গড়ে ৬০টি ধাতু ও উপধাতু। সোনা, রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের মতো দামি ধাতুও এতে ব্যবহৃত হয়। তবে এসবের পরিমাণ কম। মোবাইলের বাইরের অংশে থাকে অ্যালুমিনিয়াম। ডিসপ্লেতে ইন্ডিয়াম ও টার্বিয়াম ধাতু। স্পিকারে অতিচৌম্বকীয় নিওডিমিয়াম ধাতু। মাইক্রোচিপগুলোতে সিলিকন ও বিরল হাফনিয়াম ধাতু। ক্যামেরায় ধাতব ল্যান্থানাম। ব্যাটারিতে ব্যবহৃত হয় লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের মতো ধাতু। তবে বৈদ্যুতিক সংযোগের জন্য তামা, সোনা, রুপা ও টাংস্টেনও ব্যবহৃত হয়।
ডিভাইসের সরবরাহ শৃঙ্খল মোবাইলকে গুরুত্বপূর্ণ করেছে। এর ধাতু ও উপাদানগুলো নিয়ন্ত্রণ করে যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদ। পুঁজিপতিরা বেশির ভাগ উপকরণ নিয়ে আসে আফ্রিকার খনি থেকে। সেখানে ভূমিপুত্র ও শ্রমিকদের চরমভাবে বঞ্চিত করা হয়। তারা খুবই অসহনীয় পরিস্থিতিতে কাজ করে।
ডিভাইসগুলো সাধারণত এশিয়ান সোয়েটশপে একত্রিত করা হয়, যেখানে আবার শ্রমিকদের কম বেতনে বেশি কাজ করার জন্য শোষণ করা হয়। আমরা সাধারণত মোবাইল ডিভাইসগুলোর সস্তা দামের কারণ নিয়ে প্রশ্ন করি না। এই ডিভাইসগুলোর ক্রেতারা শোষণমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আইসিটি সম্পর্কে আমরা কথা বলি। কথাগুলো কেন্দ্রীভূত হয় একটি বিষয়কে ঘিরে; প্রযুক্তি কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটাই যেন মুখ্য। ভালো উদ্দেশ্যে আইসিটি ব্যবহার করছেন মানে সব ঠিক আছে। কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গি সামগ্রিক নয়। আইসিটি যেসব পরিণতিকে অবধারিত করে সেগুলো উপেক্ষা করলে তো চলবে না।
সোশ্যাল মিডিয়া নিছক কোনো প্ল্যাটফর্ম নয়। এর মর্মমূলে আছে দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোবিশ্ব শাসনের প্রবণতা। মুনাফার হাত ধরে যা আপনাকে কৃত্রিম লক্ষ্য, কৃত্রিম চাহিদা ও নিজের আত্মাকে মিথ্যা সান্ত্বনাদানের মধ্যে সঁপে দেয়। সে আপনাকে একটু একটু করে পুরোটাই চায়। আপনি খুশি। সে অনেক কিছুই দিচ্ছে। দিচ্ছে বটে। আপনার মনে ও মাথায় কর্তৃত্ব বিস্তারের বিনিময়ে কিছু তো দিতেই হবে। সে যে আপনাকে শাসন করছে, তার প্রমাণ হলো আপনি ঘুমের আগেও তার মধ্যে ছিলেন। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পরও তার দিকেই হাতটি এগিয়ে যাচ্ছে অবলীলায়। হাত না এগোলেও মন লেগে আছে তার সাথে। সোশ্যাল মিডিয়া শুধু ভোক্তা চায় না, চায় নিজের বান্দাও। শুধু তার ব্যবহার চায় না, চায় তার প্রবণতার বন্দেগিও
আমাদের পিসি ও মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত হয় বহু ওয়েবসাইট, অ্যাপ। তারা আমাদের বিনামূল্যে পরিষেবা দেয়। এগুলো কি সত্যিই বিনামূল্যে? গুগল ও ফেসবুক দাবি করে যে তারা বিনামূল্যে দুর্দান্ত পরিষেবা প্রদান করছে, কিন্তু এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবসায়িক মডেল পুরনো মিডিয়া হাউজগুলোর মতো। তারা মূলত বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভর করত। তারা আমাদের মনোযোগ বোঝে এবং লক্ষ্যযোগ্য বিজ্ঞাপন হাজির করে। আমরা যেসব ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করি, তাতে আমাদের মনোভাবের প্রতিটি চিহ্ন রয়ে যায়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো তা সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণ করতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। ডিভাইসগুলো ব্যবহারের মধ্য দিয়ে আমরা নিজেদের আকাক্সক্ষা, লক্ষ্য ও আচরণের ধরন সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান হারে তথ্য হস্তান্তর করি। তা থেকে প্ল্যাটফর্মগুলো বুঝে নেয়, কী কী পণ্য ও সাংস্কৃতিক উপাদানের ভোক্তা আমি, আমরা। তার পর সে লক্ষ্যযোগ্য বিজ্ঞাপন দিতে থাকে, আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং আপনাকে তার বাজার শৃঙ্খলে গভীরভাবে ঢুকিয়ে নেয়। আপনি তার পণ্য কিনতে থাকেন কিংবা আপনি তার পণ্য হতে থাকেন। কারণ সে যে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করল, এর মধ্য দিয়ে সে অর্থ উপার্জন করছে। বিনামূল্যে সেবা নয়, এখানে মুখ্য বিষয় হচ্ছে অধিকতর কৌশলী মুনাফা। পরিষেবাগুলো আসক্তি বিস্তার করছে, লক্ষ্যযোগ্য বিজ্ঞাপনে আপনার মাথা ও মন দখল করে রাখছে, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে আপনার কৃত্রিম চাহিদা, আপনি অতি ভোগবাদী হচ্ছেন এবং প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুক আরো বেশি কেনার জন্য আপনি উদগ্রীব হচ্ছেন।
এই যে চাহিদা তৈরির বিরতিহীন স্রোত, তা বাজারকে সম্প্রসারিত করছে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে জায়ান্ট করপোরেট হাউজগুলো। গুগল ও ফেসবুকের মতো বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করপোরেশনগুলোর কাছে জনসাধারণকে ছাড়ের মূল্যে পরিষেবা প্রদানের মতো প্রয়োজনীয় বিশাল মূলধন রয়েছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট বাজারে প্রতিযোগিতাকারী যেকোনো সম্ভাব্য ছোট ব্যবসা লোকসানের মুখে পড়তে এবং অবশেষে বন্ধ হতে বাধ্য। দিন শেষে এ তথ্য অর্থনীতির বৃহত্তম বাজার গুগল, মাইক্রোসফট, ফেসবুক, এক্স ও অ্যামাজনের মতো বৃহৎ বহুজাতিক করপোরেট খেলোয়াড়ের হাতে চলে যায়। ধনী বহুজাতিক করপোরেশনগুলো আরো মোটা হয়। কিন্তু শ্রম শোষণ ও মেধাহরণ কমে না, বাড়ে। আপনি তথ্য অর্থনীতিতে যুক্ত সাধারণ শ্রমিকদের সাথে কথা বলুন : ডেলিভারি কর্মী, ড্রাইভার, প্যাকেজার যে কেউ। সেখানে দেখবেন পুরনো শোষণ চলমান, যা ছিল শিল্প অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য।
ব্যাপারটা এখানেই শেষ নয়। তথ্য ও জ্ঞানের পণ্যায়ন হচ্ছে। এর ফলে এমন একটি সমাজ তৈরি হয় যেখানে প্রতিটি মানুষের প্রচেষ্টা বিক্রয়যোগ্য। এই বিক্রয়যোগ্যতার মাত্রার ওপর নির্ভর করে প্রচেষ্টার মূল্যমান। শিল্প, সাহিত্য ও মননশীলতা পর্যন্ত চরিত্র হারায়। তা তৈরি হতে থাকে মানুষের সৃজনশীলতা অন্বেষণ করার জন্য নয়, বিক্রি করার জন্য। শিক্ষাও একইভাবে পণ্যায়িত হয়। সংবাদ এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেখানে ভুল-নির্ভুল মুখ্য নয়, মুখ্য হলো, যেন দর্শকসংখ্যা হয় সর্বাধিক। বিনোদনের নাম করে সব ধরনের নেতিবাচক মানবিক বৈশিষ্ট্যগুলো কাজে লাগানো হয়। তার মূল্যমান নির্ধারিত হয় বিষয়বস্তুর যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, বরং সহিংসতা, যৌনতা ও দর্শনীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে, জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে।
তথ্য ও জ্ঞানের এই পণ্যায়ন আমাদের বৌদ্ধিক ক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেয়। ধরা যাক গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের কথা। এটি কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই আমরা সাধারণত গুগলে যাই। এই সার্চ ইঞ্জিন গুগলের পেজ র্যাংকিং অ্যালগরিদম অনুসারে ওয়েবপেজগুলো প্রদর্শন করে। কী ওয়ার্ডের সাথে ওয়েবপেজের র্যাংক যত বেশি হবে, অনুসন্ধানের ফলাফলে ওয়েবপেজটি তত বেশি প্রদর্শিত হবে। কিন্তু এই পৃষ্ঠা র্যাংকিং কিভাবে করা হয়? সাধারণত একটি পৃষ্ঠা যত বেশি পরিদর্শন করা হবে, তার র্যাংক তত বেশি হবে। একটি নির্দিষ্ট কী ওয়ার্ড কে অনুসন্ধান করছে তার ওপর ভিত্তি করে অনুসন্ধান ফলাফল ব্যক্তিগত করে নিচ্ছে গুগল। এটি দৃশ্যত ব্যবহারকারীকে তার পছন্দ এবং প্রেক্ষাপটের সাথে আরো প্রাসঙ্গিক ফলাফল খুঁজে পেতে সহায়তা করে, ফলে অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা আরো বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু মুশকিল হলো, আমরা যদি আমাদের নিজস্ব পক্ষপাত অনুসারে অনুসন্ধান ফলাফল পেতে শুরু করি তবে আমরা গুগল থেকে যা জানি, তার ওপর কিভাবে একটি সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করব?
‘সর্বাধিক পরিদর্শন করা’ হলেই সেই ওয়েবপেজ বিশ্বাসযোগ্য হয়ে যায় না। কারণ লক্ষ্য যেখানে দর্শক আকর্ষণ, সেখানে চাঞ্চল্যকর বিষয়বস্তু মুখ্য হয়, অধিকতর সঠিক বিষয় নয়। অধিকতর সঠিক বিষয় কম আকর্ষণীয় হতে পারে। ফলে সে তো দর্শক আকর্ষণের যোগ্যতায় পিছিয়ে। এর নজির হতে পারে ইসলাম সম্পর্কিত কী ওয়ার্ড অনুসন্ধান। সেখানে ইসলামী অনুশীলনের সঠিক চিত্রের তুলনায় উত্তেজনাকর বিষয়গুলো উচ্চতর র্যাংকিং পায়। এ ধরনের ওয়েবসাইটগুলো ইসলাম সম্পর্কে অসত্য প্রচার করে কিন্তু গুগলের অনুসন্ধান ফলাফলে তারা শীর্ষ স্থান অর্জন করে। কারণ সেই পৃষ্ঠাগুলো বেশি ভিজিট করা হয়। এখানে জ্ঞান থাকে না, নিজস্ব ফিল্টারের বুদবুদ থাকে; যা সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, মতবিরোধ ও সংলাপের সব দরজা বন্ধ করে দেয়। মানব ইতিহাসের বৃহত্তম তথ্য ভাণ্ডারের সাথে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও আপনি নিতে না পারা মানুষ হয়ে ওঠেন। সাইবার সংস্কৃতি আরো বেশি চিন্তাগত বন্দিত্ব ও অসহিষ্ণুতার মধ্যে মুনাফা প্রত্যক্ষ করে। সে চায় আপনাকে আরো বেশি তার মধ্যে ডুবিয়ে রাখতে। চায়, আপনি ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যম আরো বেশি ব্যবহার করুন। কিন্তু এই ব্যবহার নৈতিক বিকাশকেও বাধাগ্রস্ত করবে। ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো প্রতিটি লাইক, ভিউ বা ইতিবাচক মন্তব্যের পরে ডোপামিন নিঃসরণের আসক্তিকে কাজে লাগায়। প্রশংসা উপভোগ করা একটি স্বাভাবিক মানবিক প্রবণতা। কিন্তু আরো লাইকের মাধ্যমে আরো প্রশংসা পাওয়ার ক্রমবর্ধমান আকাক্সক্ষা গভীরভাবে সমস্যাযুক্ত। যদি আমাদের জীবনের পছন্দ এবং কর্মকাণ্ড অন্যদের পছন্দ ও প্রশংসা দ্বারা বেশি সংজ্ঞায়িত হয়, তাহলে আমরা কিভাবে একটি স্থিতিশীল নৈতিক চরিত্র গড়ে তুলব?
এসব প্ল্যাটফর্মকে ভালো কাজে ব্যবহারের চেষ্টা ভালো বটে। কিন্তু তা প্রায়ই এবং বেশিমাত্রায় নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে আসে। একটি সাধারণ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সময়রেখা বিবেচনা করুন। টাইমলাইনটি স্ক্রল করার সময় আমরা একের পর এক পোস্ট দেখতে পাই। এক মুহূর্তে আমরা দুঃখিত, অন্য মুহূর্তে খুশি, পরের মুহূর্তে আমরা হাসছি এবং এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। আমাদের মনোযোগের এই দ্রুত পরিবর্তন আমাদের কোনো একটি বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে বাধা দেয়। আধ্যাত্মিক স্থিতির জন্য এটি কত বড় অভিশাপ, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে আপনিও তা উপলব্ধি করতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিজমের নিয়ন্ত্রকদের অভিপ্রায় ও হিসাব-নিকাশের সাথে সঙ্গতি রাখে। নিয়ন্ত্রকরা বিশ্বজুড়ে সংঘটিত অপরাধ সম্পর্কে পোস্টগুলো সামনে আনে, উদ্দেশ্য মনোযোগ আকর্ষণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমাদের মনের তৈরি। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সহানুভূতি ও গণসংবেদনশীলতা হ্রাস করা হয়। অপরাধের অনবরত দৃশ্যায়নের দুঃখজনক ফলাফল হলো চুরি, খুন, লিঞ্চিং, ধর্ষণ এবং অন্যান্য ট্র্যাজিডির খবর কয়েক সেকেন্ডের অস্থিরতা ছাড়া আর কিছুই হয়ে ওঠে না। পরবর্তী পোস্ট দেখার পরে লোকেরা তা দ্রুত ভুলে যায়। এমনকি এসব বিষয়ের সাথে আমাদের সম্পৃক্ততা যখন ভার্চুয়াল জগতে সীমাবদ্ধ থাকে, তখন আমাদের অবচেতনভাবে এতটাই নিষ্ক্রিয় করে তোলে যে আমরা কখনো লাইক ও শেয়ারের বাইরে কিছু করার কথা ভাবি না।
সেই জায়গা থেকে লিখেছিলাম, আমার মৃত্যু তোমার জন্য কয়েকটি তুমুল স্ট্যাটাস। বস্তুত আমাদের হৃদয়, অনুভূতি ও বস্তুনিষ্ঠতার মূল্যহ্রাসের সবচেয়ে বড় বাজারের নাম সোশ্যাল মিডিয়া। এর ইতিবাচক ফলাফল মোটেও কম নয়। কিন্তু এখানে আমরা যা হারাই, তার বিনিময়ে প্রাপ্তিটা খুব গৌণ। যদিও আসক্ত ও মোহগ্রস্ত মন প্রাপ্তিটাকে বিরতিহীনভাবে বড় করেই দেখায়। কিন্তু আপনি আধ্যাত্মিক স্বচ্ছতা ও স্থিতির বিনিময়ে যা-ই অর্জন করবেন, তাকে অর্জন মনে করার মধ্যেও অনুভূতির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের বিপন্নতার বার্তা শোনা যায়!
সোশ্যাল মিডিয়া নিছক কোনো প্ল্যাটফর্ম নয়। এর মর্মমূলে আছে দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোবিশ্ব শাসনের প্রবণতা। মুনাফার হাত ধরে যা আপনাকে কৃত্রিম লক্ষ্য, কৃত্রিম চাহিদা ও নিজের আত্মাকে মিথ্যা সান্ত্বনাদানের মধ্যে সঁপে দেয়। সে আপনাকে একটু একটু করে পুরোটাই চায়। আপনি খুশি। সে অনেক কিছুই দিচ্ছে। দিচ্ছে বটে। আপনার মনে ও মাথায় কর্তৃত্ব বিস্তারের বিনিময়ে কিছু তো দিতেই হবে। সে যে আপনাকে শাসন করছে, তার প্রমাণ হলো আপনি ঘুমের আগেও তার মধ্যে ছিলেন। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পরও তার দিকেই হাতটি এগিয়ে যাচ্ছে অবলীলায়। হাত না এগোলেও মন লেগে আছে তার সাথে।
সোশ্যাল মিডিয়া শুধু ভোক্তা চায় না, চায় নিজের বান্দাও। শুধু তার ব্যবহার চায় না, চায় তার প্রবণতার বন্দেগিও।
লেখক : কবি, গবেষক