হজরত শাহজালালের (১২৭১-১৩৪১) ব্যক্তিত্ব নিয়ে কথা হয় বিস্তর। তার প্রভাব জাতীয় জীবনে, সমাজ-সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে নানাভাবে সক্রিয়। কিন্তু তার জীবন যে আদর্শের হাতে নির্মিত, তাকে আমরা উন্মোচনের চেষ্টা করেছি কমই। বস্তুত তিনি ছিলেন নবীয়ে পাক সা: সুফফার শিষ্যদের জীবনশৈলীর অনুরক্ত। যারা আল্লাহর জন্য নিজেদের জীবনের সব ব্যস্ততাকে কোরবান করেছিলেন।

শায়খুল মাশাইখ হজরত শাহজালাল (রহ:) ইসলামের শিক্ষাদান, প্রচার, মানবসেবা, আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি, সফর, জিহাদ ও বৃহত্তর মানবকল্যাণে সদা সক্রিয় জীবনযাপন করেন। এমনকি স্ত্রী গ্রহণ ও সংসারের জীবনে প্রবেশের ফুরসতও হয়নি তার। কামনা-বাসনা এবং লোভ -লালসা জয় করে দয়াময়ের করুণা ও হেদায়েতের আলোয় নিজেকে এবং জগতকে উদ্ভাসিত করার প্রেম, ধ্যান ও সাধনা তার জীবনবোধের কেন্দ্রে ছিল। খুব সরলভাবে কথাটি হয়তো স্পষ্ট হচ্ছে না। কারণ শাহজালাল (রহ:)-এর সাধনার সময়, পরিবেশ-প্রতিবেশ ও বাস্তবতার গোটা দৃশ্যপট সামনে থাকলেই বোঝা যাবে তার লিপ্ততার জগৎ।

সবাই জানেন, তিনি এমন সুফি, যিনি তরবারি ধারণ করতেন। বিজয়ের প্রয়োজনে তা করেছেন। কিন্তু বিজয়ের পরে? তখনকার অরণ্যপ্রধান সিলেটে জঙ্গল কেটে জনপদ গঠন, কূপ খনন, খাল কাটা, রাস্তা তৈরি ইত্যাদি কর্মস্রোতের তত্ত্বাবধান করেছেন। সেকালে সিলেট ছিল পাহাড়-অরণ্যে আকীর্ণ। প্রচুর বৃষ্টিপাতে গাছপালার বিস্তার হতো দ্রুত। সমতল ভূমিগুলো ঢেকে থাকত বৃক্ষসমাবেশে। পাহাড়-সমতল ছাড়া বিপুল-বিস্তীর্ণ হাওর অঞ্চল ছিল। সেখানেও ছিল আবাদ করার চ্যালেঞ্জ। গৌড় গোবিন্দের রাজধানী ছিল আধা অরণ্য-আধা জনপদ। জঙ্গল-শাসিত অঞ্চলকে বাসযোগ্য করা সহজ ছিল না আদৌ। পাহাড়ি শিলা বিছানো ও কঙ্করময় মাটি আর আদিগন্ত বিস্তৃত ঝোপঝাড়। বন্যপ্রাণীর পাশাপাশি ছিল বিষধর সাপ, বিচ্ছু, কীটপতঙ্গ। শাহজালাল (রহ:) ও তার সাথী আওলিয়ারা জঙ্গল পরিষ্কার করে সভ্যতার বিস্তার করেছেন। তারা শহরের আবাদভূমিতে থাকতেন বটে। কিন্তু এর চেয়ে প্রবলভাবে পাহাড়ি এলাকাকে বাসস্থান হিসেবে গ্রহণ করেন। পাহাড়ে খানকা গড়তেন, আশপাশে লোকালয় তৈরি করতেন। স্থানীয় উপজাতি ও ভূমিপুত্রদের সাহায্য করতেন। বন-জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করায় হিংস্র প্রাণীরা দূরে সরে যায়। স্থানীয়রা পরিত্রাণ লাভ করে। যে ফকির-দরবেশরা বাঘ-হাতিদের তাড়িয়ে দিলেন, স্থানীয়রা তাদের প্রতি ভক্তি ও আনুগত্য নিবেদন করতেন। তার দূরদর্শিতা ও বাস্তববোধ ছিল অনন্য। যার নজির দেখা যায় সিলেট বিজয়ের ঘটনাবলিতে। দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞার সাথে আধ্যাত্মিক শক্তির সমন্বয়ের ফলাফল হলো সিলেট বিজয়। বিজয়-পরবর্তী প্রচার ও গাঠনিক কাজেও এর নমুনা প্রতিফলিত।

দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা হজরত শাহজালাল (রহ:)-এর সত্তাগত। সব সময় সহায়-সম্বলহীনের পক্ষে ছিল তার অবস্থান। জালিম যত শক্তিমান হোক, তার বিরুদ্ধে তিনি থাকবেনই। সাথী-শাগরেদরাও ছিলেন এই আদর্শে উজ্জীবিত। সিলেট বিজয়ের মূলেও ছিল মজলুমের করুণ কান্না। নিরীহ প্রজার প্রতি গৌড় গোবিন্দের বর্বর নিষ্ঠুরতার প্রতিকার হয়ে তিনি এখানে আসেন। তার তরফে সব সময় সব ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণিগত অবস্থানের মানুষ পেয়েছে ইনসাফের বার্তা, আশ্বাস ও নিশ্চয়তা।

দিল্লির সম্রাট তাকে নবাবী প্রদান করে একটি সনদ পাঠান। হজরত শাহজালাল (রহ:) তা প্রত্যাখ্যান করেন। জানান, তিনি নিছক সংসারবিরাগী ফকির, তার নবাবীর প্রয়োজন নেই। এক পর্যায়ে সম্রাট তাকে সিলেটের জায়গীর গ্রহণ করতে অনুরোধ করেন। হজরত শাহজালাল (রহ:) তাতেও রাজি হননি। অবশেষে সম্রাট আলাউদ্দিন খিলজি হজরত শাহজালাল (রহ:)-এর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করে সিলেট শহরকে রাজস্বমুক্ত (কসবে সিলেট) বলে ঘোষণা দেন। সোনারগাঁওয়ে সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে (১৩৩৮-৪৯ খ্রি.) ইবনে বতুতা বাংলায় এসেছিলেন। তিনি ১৩৪৫-৪৬ খ্রিষ্টাব্দে শাহ জালাল (রহ)-এর সাথে তার খানকায় সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং সেখানে তিন দিন অবস্থান করেছিলেন। ইবনে বতুতা এই দরবেশের নাম শায়খ জালালুদ্দিন কুনিয়াবির বদলে তাবরিজি লিখেছিলেন। ইবনে বতুতার বিবরণী আমাদেরকে শায়খের জীবনযাপনের চিত্র দেখায়।

তার জীবনযাত্রা এবং আহার ছিল অত্যন্ত সাধারণ। তিনি ৪০ বছর পর্যন্ত রোজা রেখেছিলেন এবং একদিন অন্তর একবার আহার করতেন। তাও ছিল নিজের পালিত গাভীর সামান্য দুধ।

সিলেটের মানুষ বহু শতাব্দী ধরে ধর্মপরায়ণতার ঐতিহ্য আগলে রেখেছে। সাধারণভাবে অন্যান্য জেলার চেয়ে সিলেটে এই ঐতিহ্য ধারাবাহিক। হজরত শাহজালাল (রহ:) ও তার সঙ্গী-সাথীদের শিক্ষা-দীক্ষা চতুর্দশ শতক থেকে সিলেটের মূলীভূত চরিত্র নির্মাণ করেছে।

অনেক স্বল্প ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ছিল সিলেট। যেমন গৌড় রাজ্য, জগন্নাথপুর, প্রতাপগড়, বানিয়াচং, লাউড়, ইটা, তরফ ও জৈন্তিয়ার রাজ্য। শাহজালাল (রহ:)-এর সিলেটের বিজয়ের পর বিচ্ছিন্ন সিলেট একত্রিত হতে থাকল। একে একে তারা রাজনৈতিকভাবে যুক্ত হলো সিলেট সত্তার সাথে এবং গঠিত হলো সম্মিলিত সিলেট। এই শাসনব্যবস্থার মূলে ছিলেন হজরত শাহজালাল (রহ:)। বিজয়ের পরে অঞ্চলের প্রশাসন ব্যবস্থাকে কয়েকটি ইকলিমে বা ইক্তায় বিভক্ত করা হয়। ইক্তার প্রাশাসককে উজির বলা হতো। সিলেটের সর্বপ্রথম উজির হন সিকান্দর খান গাজী। এ সময় দিল্লির সুলতানি পদে উপবিষ্ট ছিলেন আলাউদ্দীন খিলজি এবং বাংলার সম্রাট ছিলেন শামস উদ্দীন ফিরুজ শাহ। সিকান্দর গাজী কয়েক বছর শাসন পরিচালনা করেন এবং শায়খের জীবদ্দশায় এক নৌকাডুবিতে মৃত্যুবরণ করেন। এই বিবরণী আছে তোয়ারিখে জালালি গ্রন্থের কবিতায় :

যখনে মরিল সেই গাজী সিকান্দর

বেসরদার হৈল ছিলট নগর

এ জন্যে হজরত শাহজালাল এমনি

নিযুক্ত করি দেন সরদার তখনি।

সিকান্দর গাজীর পরে শাহজালালের অন্য সঙ্গী অনুসারী হায়দর গাজীকে সিলেটের শাসক স্থির করেন হজরত শাহজালাল (রহ:)। তখন থেকে সিলেটের সামাজিক ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলিম সহাবস্থানের শান্তিপূর্ণ ধারাবাহিকতা চলমান। ইতঃপূর্বে গৌড় গোবিন্দের অত্যাচারের শিকার ছিলেন মুসলিম ও নিম্নবর্গীয় হিন্দুরা। গোবিন্দের পরাজয়ে অধিকাংশ হিন্দুই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন। হজরত শাহজালাল (রহ:) কোনো হিন্দুকে বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করেননি। আখলাক বা চারিত্রিক মহিমাকে প্রধান্য দেন শাহজালাল (রহ:)। এর প্রভাব এত ব্যাপক ছিল যে, পরাজিত রাজা গোবিন্দের আত্মীয়-স্বজনও ইসলামে দীক্ষিত হতে থাকল। ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব¡ প্রমাণের সব উপাদান কাজে লাগান তার শিষ্যরা। ফলে একজন শিক্ষাবঞ্চিত গ্রাম্য কৃষক যেমন মুসলিম হন, তেমনি লাউড়ের উচ্চবর্ণীয় রাজপরিবারও হয়ে যায় ইসলামের সেবক, নিবেদিত মুসলিম।

দিনকান্ত চক্রবর্তী সাহিত্য সিন্দু লিখেছেন, ‘পীর শাহজালাল (রহ:)-এর গুণগানে বিমোহিত হইয়া বহু হিন্দু ইসলামের আশ্রয় গ্রহণ করিল। গোবিন্দ দেবের আত্মীয়স্বজনও স্বধর্ম পরিত্যাগ করিল, এমনকি লাউড়ের ব্রাহ্মণ রাজপরিবার ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হইয়া অতঃপর রাজার স্থলে রোজা উপাধিতে সম্মানিত হইলেন।’ (শ্রী চক্রবর্তী সাহিত্য সিন্দু দিনকান্ত, পীর শাহজালাল, মাসিক শ্রী ভূমি করিমগঞ্জ : শ্রীভূমি কার্যালয়, ভাদ্র ১৩২২ বাংলা, পৃষ্ঠা : ৩১১-৩১২) সুরেন্দ কুমার দাস চৌধুরী লিখেছেÑ ‘হজরত শাহজালাল এবং তদীয় অনুসঙ্গীদের মধ্যে কেহ তখনো কোনো অবস্থায় হিন্দুদের দেবির প্রতি কোনোরূপ অন্যায় ব্যবহার করিয়াছিলেন বলিয়া শুনা যায় নাই। শ্রীহট্ট বিজয় অসি সাহায্যে সুসম্পন্ন হয় নাই। পাশবিক বল প্রয়োগের কোনো নিদর্শন কোথাও নাই। হজরতের অনুসঙ্গীরা প্রায়শ নির্জন ভূমিতে বাস করিয়া ইসলাম রূপ করতঃ কালাতিপাত করিয়াছিলেন। তাহারা নিজ নিজ তপসিদ্ধির প্রভাবে শত্রু হৃদয় জয় করিয়া বিনা রণে বিনা রক্তপাতে শ্রীহট্টে ইসলামের বৈজয়ন্তি উড্ডীন করিতে সমর্থ্য হইয়াছিলেন।’ (সুরেন্দ্র কুমার দাস শ্রী চৌধুরী, শাহজালালের মাটি (শ্রীহট্ট : শ্রী কনিন্দ্র চন্দ্র সা কুন্টি চাঁদ প্রিন্টিং ওয়ার্ক, ১৩৪৪ বাংলা, পৃষ্ঠা-৩৩)

বস্তুত শাহজালাল (রহ:)-এর আদর্শ এবং শিক্ষা সিলেটের সাম্প্রদায়িক সহাবস্থান ও স্থিতিশীল সম্প্রীতির মূল কারণ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে সিলেট জেলা এ উপমহাদেশের এক গৌরবময় আদর্শস্বরূপ। শাহজালাল (রহ:)-এর সমাজদর্শন ছিল ত্বরিকতভিত্তিক, সেই ত্বরিকত ছিল খিদমতে খালক বা সৃষ্টিসেবা।

শায়খ সাদি (রহ:)-এর প্রবাদতুল্য ভাষ্য ‘ত্বরিকত বজুুজ খিদমতে খলক নেস্ত’ অর্থাৎ ত্বরিকত সৃষ্টির সেবা ছাড়া কিছু নয় নিছক কোনো আপ্তবাক্য ছিল না। সুফিরা এটি ধারণ করতেন। শাহজালাল (রহ:)-এর সঙ্গীদের মধ্যে এর প্রতিফলন ছিল জীবন্ত।

শাহজালাল (রহ:)-এর শিক্ষা ও আদর্শের একটি নমুনা প্রত্যক্ষ করা যেতে পারে তার শেষ বয়ানে।

মাওলানা সৈয়দ মো: মিজানুর রহমান তার হজরত শাহজালাল ও শাহপরান (রহ:) গ্রন্থে বিদায়ী বয়ান উল্লেখ করেছেন কোনো তথ্যসূত্র ছাড়াই। আলহাজ মাওলানা শহীদুল ইসলাম তার হজরত শাহজালাল ও শাহপরান (রহ:) গ্রন্থেও হাজির করেছেন এই বয়ান। শিষ্যদের লক্ষ্য করে শাহজালাল (রহ:) বলেন, মনে রেখো, আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তার কোনো শরিক নেই, তিনি বিশ্বজাহানের পালনকর্তা। আমাদের একমাত্র রব তিনিই। হজরত মুহাম্মদ সা: সৃষ্টির সেরা মানুষ। তাঁর কারণেই মহান আল্লাহ তায়ালা এ জাহান তথা পুরো জগৎ সৃজন করেছেন। মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। সমস্ত কিছু মানুষের উপকারের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। মনে রেখো, মানুষ সম্মানিত, তাই কোনো অবস্থায় মানুষকে অবহেলা করা চলবে না। যে মানুষকে ঘৃণা বা অবহেলা করে বা মানুষের মনে আঘাত করে, তার ইবাদত মহান আল্লাহ তায়ালা কবুল করবেন না। হোক সে বেদ্বীন, বিধর্মী বা কাফির, মুশরিক। মনে রাখতে হবে, সবাই আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি, আর সৃষ্টির সেরা হচ্ছে মানুষ।

মনে রাখতে হবে, সব মানুষের দিল পবিত্র জায়গা। কারণ, ঈমানদারের দিলের মধ্যে মহান আল্লাহর কুদরতি উপস্থিতি। তাই অমূলক ও ভ্রান্তধারণা থেকে মন বা দিলকে সবসময় পবিত্র রাখতে চেষ্টা করবে। যদি মনের মধ্যে ভ্রান্ত কল্পনা ও আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার করতে না পারো তোমাদের ওপর থেকে মহান আল্লাহর করুণাধারা বহু দূরে চলে যাবে। তোমাদের যদি এ অবস্থা হয় তাহলে কেমন করে তোমরা অপরকে সরল-সঠিক পথের দিশা দেবে?

মনে রেখো, মানুষ পাপ ও সওয়াবে বিজড়িত। গুনাহগার বলে কখনো কোনো মানুষকে অবহেলা করো না। সুবহে সাদিক উদয় হলে যেমন রাতের আঁধার দূর হয়ে যায়, তেমনি আল্লাহর ওলিদের সাহচর্যে পাপীও কামেল ঈমানদারে পরিণত হতে সময় লাগে না।

তিনি বললেন, মানুষে ভেদাভেদ তৈরি ইসলামে অমার্জনীয়। সব মানুষকে তাই সম্মানের চোখে দেখবে। অনাথ, অসহায় মানুষের প্রতি সর্বদা সদাচরণ করবে। ভুলেও তাদের সাথে খারাপ আচরণ করবে না। অভাবী মানুষের অভাব দূর করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। তাদেরকে দু’মুঠো ভাতের ব্যবস্থা করে দিতে পারলে তো খুবই উত্তম। তা যদি না পারো তাহলে তাকে কাছে ডেকে বসিয়ে একটি সুন্দর সমাধান করে দেবে যাতে সে জীবিকা নির্বাহের একটি পথ খুঁজে বের করতে পারে।

মনে রাখবে, পাপ তা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন, তা পাপই। ক্ষুদ্র বলে কোনো পাপকেই অবজ্ঞা করা যাবে না। সাবধান! যত ছোটই হোক না কেন, কখনো পাপের পথে পা বাড়াবে না। ভালো করে মনে রাখবে, বিন্দু বিন্দু পানির সমষ্টিই একদিন মহাসাগরের সৃষ্টি করে থাকে, অনুরূপ ছোট ছোট পাথর বা বালুকণার দ্বারাই বিরাট পাহাড়ের সৃষ্টি হয়।

প্রিয় বৎসরা! আমি আজ তোমাদেরকে কতগুলো মৌলিক কথা বললাম, কথাগুলো কিন্তু কিছু নতুন কোনো কথা নয়। এসব কথা আগেই তোমাদেরকে বলেছি। একবার নয়, বহুবার বলেছি। তবু আবার তোমাদের স্মরণের জন্য সে কথাগুলোর পুনরাবৃত্তি করলাম। আমার মনে হয়, দ্বিতীয়বার আর আমি তোমাদের সামনে এ কথাগুলো বলার সুযোগ নাও পেতে পারি।

শাহজালাল (রহ:)-এর জীবনদৃষ্টি, মানবভাবনা এবং কর্ম ও পয়গামের একটি চিত্র এর মধ্যে আমরা অবলোকন করতে পারি।

লেখক : কবি, গবেষক

72.alhafij@gmail.com