ভিনদেশী সংস্কৃতি, বিশ্বায়ন, প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর অবাধ তথ্যপ্রবাহ মানুষের জীবনযাত্রায় নিয়ে এসেছে আমূল পরিবর্তন। কিন্তু এই পরিবর্তনের সাথে তালমেলাতে গিয়ে কিছু মানুষ ক্রমে আত্মপরিচয়ের সঙ্কটে ভুগছে? বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে চারপাশের সমাজব্যবস্থাকে পর্যবেক্ষণ করলে এক ধরনের অস্থিরতা ও পরিচয় হারানোর হাহাকার স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একটি সমাজে প্রগতিশীলতা ও আধুনিকতা আসে চিন্তাচেতনার বিকাশের মাধ্যমে। অথচ ইদানীং এক অদ্ভুত প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, তা হলো নিজেদের হাজার বছরের ধর্মীয় ঐতিহ্য, বাপ-দাদার রেখে যাওয়া সংস্কৃতিকে ‘সেকেলে’ বা ‘সঙ্কীর্ণ’ বলে অবজ্ঞা করা। অন্য কোনো জাতি বা বিদেশী সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণকেই অনেকে আধুনিকতার মাপকাঠি মনে করছেন। এটি কি আসলেই আধুনিকতা, নাকি শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার একটি আত্মঘাতী প্রক্রিয়া?
মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বোঝা যায়, মানুষ যখন নিজের শেকড় নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগে, তখন সে অন্যের পোশাক, ঐতিহ্য বা সংস্কৃতিকে নিজস্ব পরিচিতি হিসেবে গ্রহণ করার চেষ্টা করে। এই বিচ্ছিন্নতাবোধ ব্যক্তিকে এক ধরনের কৃত্রিম আধুনিকতার মোহে আচ্ছন্ন করে রাখে, যা দিন শেষে তাকে মানসিকভাবে নিঃস্ব করে দেয়। বিষয়টি সবচেয়ে প্রকটভাবে ধরা দিচ্ছে জীবনের শেষপ্রান্তে। ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী শেষকৃত্য সম্পন্ন করা একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। অথচ অতি আধুনিক হওয়ার প্রতিযোগিতায় এখন দেখা যাচ্ছে, মানুষের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ধর্মীয় আচারের বদলে সঙ্গীত পরিবেশন করা হচ্ছে। যারা এটি করছেন, তারা হয়তো একে শোক প্রকাশের একটি সৃজনশীল মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, প্রথা ও রীতির যে শৃঙ্খল, তা কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং স্বজনদের মানসিক সান্ত্বনার এক নিবিড় সেতুবন্ধন। এই বন্ধন যখন ভেঙে পড়ে, তখন সমাজ তার সামষ্টিক মূল্যবোধ থেকে আরো দূরে সরে যায়।
যখনই কেউ দাবি করে, ‘আমি ধর্মের মর্মার্থ বুঝি, তাই আচারের প্রয়োজন নেই’ তখন সে আসলে ধর্মের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছে এবং নিজের মন গড়া ধর্ম তৈরি করছে। এটিই ‘আত্মপরিচয়ের সঙ্কট’-এর মূল কারণ। আচার হবে ধর্মের দেহের মতো এবং গূঢ়ার্থ হবে তার প্রাণ। প্রাণহীন দেহ যেমন মূল্যহীন, তেমনি দেহহীন প্রাণ এই পৃথিবীতে নিজের অস্তিত্বের প্রকাশ ঘটাতে অক্ষম।
সংস্কৃতির সঙ্কীর্ণ ধারণা
সংস্কৃতির ব্যাপকতাকে অনেকে জেনে শুনে সঙ্কীর্ণ ধারণায় আবদ্ধ করে ফেলেছেন অর্থাৎ কেবল নাচ-গান বা চারুকলাকে সংস্কৃতি মনে করছেন তারা। অথচ সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানের আলোকে সংস্কৃতি হলো একটি জীবনধারা, যা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তকে প্রভাবিত করে। অনেকে সংস্কৃতিকে কেবল ‘পরিশীলিত বা বিনোদনমূলক’ কিছু মনে করেন। সমাজবিজ্ঞানী র্যালফ লিংটন বিষয়টিকে আরো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, সংস্কৃতি হলো একটি নির্দিষ্ট সমাজের সদস্যদের দ্বারা ভাগ করে নেয়া এবং উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি এবং অভ্যস্ত আচরণের সামগ্রিক সমষ্টি।
এই সংজ্ঞায় বোঝা যায়, আমাদের চিন্তাচেতনা, রুচি এবং দাফন-কাফনের মতো রীতিনীতিগুলো আসলে সমাজের ‘অভ্যস্ত আচরণ’। এগুলোই আমাদের সংস্কৃতির আসল স্বরূপ, কেবল নাটক বা সঙ্গীত নয়।
পুঁজিবাদী বাজারব্যবস্থা সংস্কৃতিকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করে। নাচ, গান ও নাটক বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় করা সহজ, কিন্তু জীবনবোধ বা গভীর ধর্মীয় ঐতিহ্যকে পণ্য করা যায় না। তাই মানুষ সংস্কৃতির গভীর রূপটিকে ভুলে যাচ্ছে। মানুষ যখন শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখন সে কেবল সংস্কৃতির বাহ্যিক রূপটি (যেমন : সঙ্গীত, নৃত্য) আঁকড়ে ধরে, কিন্তু তার ভেতরের দার্শনিক বা নৈতিক ভিত্তিটি হারিয়ে ফেলে। একজন মানুষের দাফন-কাফনের রীতি তার বিশ্বাসের সংস্কৃতির প্রতিফলন। একে সঙ্গীত বা অন্য কোনো বাহ্যিক প্রথা দিয়ে প্রতিস্থাপন করার প্রবণতা আসলে সেই ব্যক্তির অবস্তুগত সংস্কৃতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
‘সাংস্কৃতিক সঙ্করায়ণ’
মৃত্যুর পর সঙ্গীতের মাধ্যমে বিদায় জানানোর বিষয়টি মূলত একটি ‘সাংস্কৃতিক সঙ্করায়ণ’। ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান অধিকাংশ প্রচলিত ধর্মই মৃত্যুর পর শোক প্রকাশ ও আত্মার শান্তির জন্য নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার (যেমন : দোয়া, ধর্মগ্রন্থ পাঠ, প্রার্থনা) পালনের ওপর গুরুত্ব দেয়। এখানে সঙ্গীতের চেয়ে স্তব বা প্রার্থনার প্রাধান্য বেশি। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রথাগত এই আচারণগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একে মৃত ব্যক্তির আধ্যাত্মিক মুক্তি ও পরকালীন প্রস্তুতির অংশ মনে করা হয়। সংস্কৃতি কোনো প্রদর্শনী নয়, এটি একটি মানুষের অস্তিত্বের পরিচয়পত্র। যারা সংস্কৃতিকে কেবল নাচ-গানে সীমাবদ্ধ মনে করেন, তারা আসলে সংস্কৃতির আত্মাটিকে অস্বীকার করছেন। একজন শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ হিসেবে সংস্কৃতিকে জীবনের প্রতিটি স্তরের অভ্যস্ত আচরণ ও বিশ্বাসের সমষ্টি হিসেবে দেখা এবং সংরক্ষণ করাই প্রকৃত আধুনিকতা।
ইসলামে মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে মৃত ব্যক্তির জন্য যা করণীয়, তা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। জানাজার নামাজ, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া, ইস্তিগফার, কুরআন তিলাওয়াত, সবর, নেক আমল এগুলোই হচ্ছে ইসলামী ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গত দেড় হাজার বছরে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন বা পরবর্তী প্রজন্মের কারো জীবনে মৃত্যুর পর সঙ্গীত পরিবেশনের কোনো নজির পাওয়া যায় না। ইসলামী শরিয়াহর দৃষ্টিতে এটি ‘বিদআত’ বা প্রথাবহির্ভূত কাজ হিসেবেই বিবেচিত হয়, কারণ ধর্মীয় বিধানে নতুন কিছু সংযোজন করা ইসলামী মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক।
ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে আরবের জাহেলী যুগে মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রীতিনীতি প্রচলিত ছিল, যার মধ্যে শোক প্রকাশের উপায় হিসেবে উচ্চস্বরে বিলাপ করা এবং শোকগাথা বা কবিতার আবৃত্তি উল্লেখযোগ্য। এটাকে আরবিতে বলা হতো ‘নিয়াহা’। ইসলামে শোক প্রকাশ করার জাহেলী প্রথাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মোহাম্মদ সা: বলেন, যারা জাহেলি প্রথা অনুসরণে শোক প্রকাশ করে তারা আমার দলভুক্ত নয়।
মুষ্টিমেয় মানুষের কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীত শুধুই গান নয়, বরং এক ধরনের জীবনদর্শন। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথের ‘পূজা’ পর্যায়ের গানগুলোতে সৃষ্টিকর্তা, ক্ষমা, জীবন ও মৃত্যুর যে আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা রয়েছে, তা অনেকে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের জায়গা থেকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করেন। তাদের কাছে রবীন্দ্রনাথের গানগুলো অনেকটা প্রার্থনার মতো অর্থবহ। সে কারণে তারা মৃতব্যক্তিকে সামনে রেখে রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করে থাকেন। এটা জাহেলি যুগের সংস্কৃতির আধুনিক সংস্করণ। রবীন্দ্র সঙ্গীতকে ধর্মীয় প্রথা-বিধির সমকক্ষরূপে প্রতিস্থাপন করার একটি সচেতন প্রয়াস। এসব মানুষ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন না। তারা বিনোদন জগতের সাথে যুক্ত। একশ্রেণীর করপোরেট মিডিয়া তাদের প্রমোট করে।
ধার্মিক পরিবারে আদর্শের বিচ্যুতি
সমাজে এমন বহু খ্যাতনামা, প্রাজ্ঞ ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন যারা একই সাথে ছিলেন উচ্চশিক্ষিত এবং প্রগাঢ় ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তারা ব্যক্তিজীবনে নিয়মিত সালাত আদায় করতেন এবং অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে সুন্নাহর অনুসরণ করতেন। রাষ্ট্রপরিচালনা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষস্থানীয় অ্যাকাডেমিক পদ, সাহিত্যচর্চা কিংবা উচ্চতর জ্ঞান-গবেষণার ক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত সফলতার সাথে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তারা প্রমাণ করেছিলেন যে, আধুনিক জ্ঞানচর্চা এবং ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু একটি বড় সামাজিক বিস্ময় তৈরি হয় তাদের পরবর্তী প্রজন্মের হাত ধরে। এই ধার্মিক ও বিদগ্ধ ব্যক্তিত্বদের সন্তানদের অনেকেই বাবা-মায়ের দেখানো পথ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত হয়ে পড়েন। তারা ধাবিত হন অন্তঃসারশূন্য নাস্তিক্যবাদের ভাবাদর্শের দিকে। পারিবারিক পরিমণ্ডলে ধর্মীয় আবহ থাকা সত্ত্বেও সন্তানরা কেন এমন বিপরীত জীবনদর্শনে আকৃষ্ট হলেন তা সমাজবিজ্ঞানীদের জন্য এক বড় গবেষণার বিষয়।
অনেক সময় দেখা যায়, গুণী ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত জীবনে ধার্মিক হলেও, তাদের সন্তানদের আধুনিক ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে সেকুলার শিক্ষাব্যবস্থায় বড় করেন। এখানে তারা যে জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে বড় হয়, সেখানে ইসলামী জীবনবোধের চেয়ে পাশ্চাত্য দর্শন এবং বস্তুবাদী চিন্তা বেশি গুরুত্ব পায়। ফলে বাবার ধর্মীয় আদর্শ ও সন্তানের অর্জিত দর্শনের মধ্যে একটি বিশাল ‘গ্যাপ’ তৈরি হয়। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি এবং পরবর্তী সময়ে সমাজতন্ত্র, মার্ক্সবাদ এবং উগ্র ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বিশ্বজুড়ে বুদ্ধিজীবী মহলে প্রবল প্রভাব বিস্তার করেছিল। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এই আদর্শগুলো একসময় আধুনিকতা এবং প্রগতির সমার্থক হিসেবে গণ্য হতো। ফলে তরুণ প্রজন্মের মেধাবী সন্তানরা প্রথাগত ধর্মীয় ধারার চেয়ে এই নতুন ও আকর্ষণীয় আদর্শগুলোর প্রতি দ্রুত আকৃষ্ট হয়েছিল। সমাজে অনেক সময় ধর্মকে নিছক ব্যক্তিগত ইবাদত হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক বা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ধর্মকে খুব একটা প্রাসঙ্গিক করে তোলা হয়নি। সন্তানরা যখন দেখে যে, সমাজের তথাকথিত ‘উচ্চশিক্ষিত’, ‘আধুনিক’ বা ‘সংস্কৃতিমনা’ মানুষরা রবীন্দ্রসঙ্গীত, কবিতা বা সেকুলার সংস্কৃতিকে আভিজাত্যের প্রতীক মনে করে, তখন তারা ধর্মের চেয়ে এই সাংস্কৃতিক আবহকেই আপন করে নেয়। বাবা হয়তো ধার্মিক ছিলেন, কিন্তু তিনি সেই ধর্মীয় জগতকে সন্তানদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধুনিক সংবেদনশীলতার সাথে সমন্বিত করে উপস্থাপন করতে পারেননি। বাবা-মায়ের সাথে সন্তানদের যোগাযোগের অভাব বা চিন্তার জগতের ভিন্নতা অনেক বড় কারণ। বাবা যে গভীরতা ও প্রেক্ষাপট থেকে ইসলামকে ধারণ করেছিলেন, সন্তানেরা সেই একই প্রেক্ষাপট পায়নি। এটি আধুনিকতার সন্ধিক্ষণে থাকা মুসলিম সমাজের একটি বড় ট্র্যাজেডি।
উত্তরণের উপায়
আধুনিকতা হলো যৌক্তিক চিন্তা, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা। আমরা আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করব, বৈশ্বিক জ্ঞানের সাথে যুক্ত হবো কিন্তু তা হবে নিজের ঐতিহ্যের ভিত্তিপ্রস্তর শক্ত রেখে। একজন মানুষ যখন তার নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়, তখনই সে প্রকৃত আধুনিক মানুষ হয়ে ওঠার যোগ্যতা অর্জন করে।
পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক আঙিনায় ঐতিহ্যের সৌন্দর্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। অন্ধ অনুকরণ নয়, বরং নিজ সংস্কৃতির পরিশীলনই হতে পারে আধুনিক সমাজ গঠনের মূলমন্ত্র। শেকড়হীন বৃক্ষ যেমন ঝড়ে উপড়ে যায়, তেমনি ঐতিহ্যহীন সমাজও তার স্থায়িত্ব হারায়। মনস্তাত্ত্বিকভাবে মানুষ নতুনত্বের দিকে ধাবিত হবেই, এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু যখন সেই নতুনত্ব নিজের শেকড়কে উপড়ে ফেলে, তখনই সঙ্কটের সৃষ্টি হয়। কোনো কিছুই অন্ধভাবে অনুসরণ করা যেমন প্রগতি নয়, তেমনি অন্ধভাবে সব নতুনকে প্রত্যাখ্যান করাও যুক্তিসঙ্গত নয়। নিজস্ব ধর্মীয় ও পারিবারিক ঐতিহ্যের মূল ভিত্তি ঠিক রেখে সময়ের দাবি অনুযায়ী তাতে পরিশীলতা আনাই হলো প্রকৃত আধুনিকতা।
লেখক : সাবেক উপদেষ্টা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অন্তর্বর্তী সরকার