বাংলাদেশের ইতিহাস মূলত নদীনির্ভর ইতিহাস। এই ভূখণ্ডের জন্ম হয়েছে হাজার বছরের নদীপ্রবাহ, পলি, বর্ষা এবং নদী-সমুদ্রের পারস্পরিক সংলাপে। পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৃতির এক জীবন্ত সৃষ্টি। তাই এ দেশের রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি, কৃষি, সংস্কৃতি এবং মানুষের মানসগঠনের গভীরে অবদান আছে। নদী এখানে জাতীয় অস্তিত্বের মৌলিক ব্যাকরণ।
কিন্তু আজ সেই নদীগুলোই রোদন করছে। শুকিয়ে যাওয়া নদীর কান্না চারধারে। যাতে উচ্চারিত হচ্ছে সভ্যতার অন্তর্গত সঙ্কটের ভাষা।
নদী যখন অসুস্থ হয়, তখন কৃষি অসুস্থ হয়। ফলে অর্থনীতি দুর্বল হয়। অর্থনীতি দুর্বল হলে সমাজে বৈষম্য বাড়ে। রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই নদীর সঙ্কট কখনো পরিবেশের একক সমস্যা নয়। এ হচ্ছে সমগ্র জাতীয় জীবনের সঙ্কট।
বাংলাদেশের নদীগুলো কেন রোদন করছে? কারণ অনেক। প্রধান কারণ অস্তিত্বগত স্বাধীনতা হারানোর বেদনা। পৃথিবীর অধিকাংশ নদী নিজস্ব গতিতে প্রবাহিত হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীর উৎস, প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং পানি বণ্টনের সিদ্ধান্ত দেশের বাইরে গৃহীত হয়। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার প্রায় সমগ্র অংশ বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত। ফলে বাংলাদেশের নদীগুলো যেন নিজের জীবন সম্পর্কে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। একটি নদী যখন নিজের স্বাভাবিক প্রবাহ হারায়, তখন সে প্রথমে নিজের পানি হারায়। তারপর হারায় নিজের পরিচয়ও।
নদী রোদন করছে পানির ন্যায়বিচারের জন্য। নদী কোনো একক রাষ্ট্রের সম্পত্তি হতে পারে না। নদী একটি অববাহিকার সম্মিলিত জীবন। কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতি বোঝে শক্তির ভারসাম্য। সে অনেক সময় ন্যায়বিচারের পরিবর্তে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। ফলে ভাটির মানুষ তাদের প্রাকৃতিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়। কিন্তু নদীর পানি মানুষের জীবন, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং বাস্তুসংস্থানের মৌলিক অধিকার। তাই আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনাকে কূটনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৈতিকতার প্রশ্ন হিসেবেও পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশের নদীগুলো আজ ব-দ্বীপের স্থপতি থেকে দুর্যোগের বাহকে পরিণত হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে নদী পলি বহন করে নতুন ভূমি সৃষ্টি করে। কিন্তু নদীপ্রবাহ ব্যাহত হলে কোথাও অতিরিক্ত পলি জমে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যায়, আবার কোথাও নদী তার স্বাভাবিক পুষ্টি হারায়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে নদী মরে যায় এবং বর্ষায় সামান্য অতিরিক্ত প্রবাহেই ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। যে নদী একসময় ভূমি সৃষ্টি করত, আজ সেই নদীকেই মানুষ ভয়ের প্রতীক হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের ভুল ব্যবস্থাপনাই এই দুর্যোগের মূল কারণ।

আবহাওয়া পরিবর্তনের অভিঘাতে নদীর রোদন আরো গভীর হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাংলাদেশের নদীগুলোর স্বাভাবিক ঋতুচক্রকে ভেঙে দিচ্ছে। বর্ষায় অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি একসাথে বাড়ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি লবণাক্ততাকে ভেতরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে নদী আর কেবল উজান থেকে ভাটিতে প্রবাহিত হচ্ছে না; সমুদ্রও ধীরে ধীরে নদীর ভেতরে প্রবেশ করছে। এই পরিবর্তন ব-দ্বীপের ভবিষ্যৎকেই পুনর্লিখন করছে।
বাংলাদেশের নদী রোদন করছে মানুষের নৈতিক বিচ্ছিন্নতার বিপরীতে। আমরা নদীকে ভালোবাসার পরিবর্তে ব্যবহার করতে শিখেছি। শিল্পের বর্জ্য, প্লাস্টিক, রাসায়নিক, নগরীর পয়োনিষ্কাশন এবং দখলদারি নদীকে বর্জ্য বহনের নালায় পরিণত করছে। তাকে একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বড়জোর তাকে দেখা হচ্ছে অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে। এর ফলে নদী থেকে কিভাবে মুনাফা কামানো যায়, সেটাই হয় গরজ। এতে নদী ও প্রকৃতি মরলে মরুক, কী যায় আসে? অথচ প্রকৃত সভ্যতা সেটাই, যে সভ্যতা তার জীবনদায়িনী প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে।
নদীর সঙ্কট আমাদের ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্কটেও রূপ নিচ্ছে। নদী শুকিয়ে গেলে মানুষ ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করে। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানি প্রকৃতির দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়। এর অতিরিক্ত ব্যবহার ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ধ্বংস করে দেয়। নদী ও ভূগর্ভস্থ পানি পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। তারা একই জলচক্রের দুই রূপ। নদী পুনর্জীবিত হলে ভূগর্ভও পুনরুজ্জীবিত হয়।
বাংলাদেশের নদীর রোদনের আরেক কারণ পরিকল্পনা ও বাস্তবতার ব্যবধান। নদী নিয়ে অসংখ্য মহাপরিকল্পনা, নীতি ও কৌশলপত্র রয়েছে। কিন্তু পরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন নেই। রাষ্ট্র প্রায়ই নতুন পরিকল্পনা তৈরিতে আগ্রহী, কিন্তু পুরনো পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নে অনাগ্রহী। ফলে নদী রক্ষা নীতিপত্রে সীমাবদ্ধ থাকে; বাস্তবে নদী হারিয়ে যায়।
নদী রোদন করছে প্রাতিষ্ঠানিক বিভাজনের নতিজায়। নদীকে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ করে দেখলে তাকে বোঝা যায় না। নদী একটি সমন্বিত জীবন্ত ব্যবস্থা। এর পানি, পলি, জীববৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্য, বন, নগরায়ন, পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক একে অন্যের সাথে যুক্ত। তাই নদী ব্যবস্থাপনাও হতে হবে সমন্বিত অববাহিকাভিত্তিক। নদীর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত জাতীয় নদী কমিশন, যেখানে বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, পরিবেশবিদ, অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী একসাথে কাজ করবে।
বাংলাদেশের নদীর রোদন জল-সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করে। যদি একটি দেশ তার জীবনধারণের মৌলিক সম্পদের ওপর কার্যকর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, তাহলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা যথেষ্ট নয়। জল-সার্বভৌমত্ব মানে আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায্যতা এবং অববাহিকাগত সহযোগিতার ভিত্তিতে নিজের বৈধ অংশ নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতের বিশ্বে পানি হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। তাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রেও পানি কূটনীতিকে স্থান দিতে হবে।
নদী রোদন করছে ব-দ্বীপ রাষ্ট্রদর্শনের অভাবের কারণে। বাংলাদেশ এখনো নিজেকে প্রকৃত অর্থে একটি ব-দ্বীপ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে শেখেনি। অথচ এই দেশের পরিকল্পনা, কৃষি, নগরায়ন, অবকাঠামো, শিক্ষা, আইন এবং অর্থনীতিকে নদীকেন্দ্রিক দর্শনের ওপর পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। নদীকে বাধা দেয়া নয়; নদীর সাথে সহাবস্থানই ব-দ্বীপ সভ্যতার মূলনীতি হওয়া উচিত।
বাংলাদেশের নদী রোদন করে আমাদের পানির ন্যায়বিচারের দর্শন নির্মাণের আহ্বান জানায়। পানি কেবল বাজারের পণ্য নয়। পানি মানুষের মৌলিক অধিকার, প্রকৃতির অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আমানত। যে রাষ্ট্র পানিকে কেবল অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে দেখে, সে শেষ পর্যন্ত সামাজিক বৈষম্যও বাড়ায়। পানির ন্যায্য বণ্টন মানে কেবলই পানির ভাগাভাগি নয়। পানি বণ্টনের ন্যায্যতা মানে, নদীর নিজের বেঁচে থাকার জন্যও ন্যূনতম প্রবাহ নিশ্চিত করা। নদীরও অস্তিত্বের অধিকার আছে।
নদীর রোদন আমাদের আহ্বান জানায় নদীর অধিকার স্বীকার করার জন্য। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নদীকে জীবন্ত সত্তা হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কারণ নদী কেবল সম্পদ নয়। নদী হচ্ছে একটি জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও নদীকে কেবল খনন, বাঁধ বা প্রকল্পের বিষয় হিসেবে না দেখে একটি জীবন্ত সত্তা হিসেবে আইনি ও নৈতিক মর্যাদা দেয়ার চিন্তা সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের নদী সম্পর্কে সবচেয়ে গভীর জ্ঞান এ দেশের মানুষের মধ্যেই নিহিত। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু নদীর প্রকৃতি, ব-দ্বীপের চরিত্র, পলির আচরণ এবং স্থানীয় বাস্তবতা বোঝার জন্য দেশীয় গবেষণা ও বিশেষজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জ্ঞানের উপনিবেশমুক্তি ছাড়া নদীর মুক্তিও অসম্ভব।
বাংলাদেশের নদীসঙ্কটের আরেকটি বড় মাত্রা হলো আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশের মোট ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদীর মধ্যে ৫৪টি ভারতের এবং তিনটি মিয়ানমারের সাথে অভিন্ন। অথচ গঙ্গা ছাড়া অন্য কোনো নদীর জন্য কার্যকর পানি-বণ্টন চুক্তি নেই। শুষ্ক মৌসুমে উজানে পানি প্রত্যাহার এবং বর্ষায় হঠাৎ অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেয়ার ফলে বাংলাদেশের নদীগুলো দুই বিপরীত সঙ্কটে পড়ে- একদিকে দীর্ঘ খরা, অন্যদিকে আকস্মিক বন্যা। আন্তর্জাতিক নদী ব্যবস্থাপনায় সমতা, তথ্য বিনিময়, যৌথ অববাহিকা পরিকল্পনা এবং পরিবেশগত প্রবাহ (ঊহারৎড়হসবহঃধষ ঋষড়)ি নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশের নদীগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়। নদী কেবল দুই দেশের সীমারেখা নয়; এটি একটি অভিন্ন বাস্তুতন্ত্র, যার সুস্থতা নির্ভর করে অববাহিকার সব দেশের দায়িত্বশীল সহযোগিতার ওপর।
নদীর রোদনের সাথে যুক্ত হয়েছে প্রাকৃতিক পরিবর্তনের বহুমাত্রিক প্রভাব। হিমালয়ের হিমবাহের পরিবর্তন, অনিয়মিত মৌসুমি বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, দীর্ঘ খরা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা ক্রমশ ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে; উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে কৃষি ও পানীয় পানির সঙ্কট তৈরি হচ্ছে; আর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ি ঢলে আকস্মিক বন্যা হাওরাঞ্চলের ফসল ধ্বংস করছে। প্রাকৃতিক পরিবর্তনের বাস্তবতা বিবেচনা করে নদী ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে সাজাতে হবে, কারণ অতীতের জলপ্রবাহের ধারা আর ভবিষ্যতের জন্য নির্ভরযোগ্য নির্দেশক নয়।
বাংলাদেশের নদীর কান্নার আরেক কারণ নদী ও জলাভূমির বিচ্ছিন্নতা। খাল ভরাট, বিলে বাঁধ নির্মাণ, অপরিকল্পিত সড়ক ও অবকাঠামো এবং প্রাকৃতিক সংযোগপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদী তার স্বাভাবিক প্লাবনভূমি হারাচ্ছে। ফলে বর্ষার অতিরিক্ত পানি ধারণের প্রাকৃতিক সক্ষমতা কমে যাচ্ছে, জলাবদ্ধতা বাড়ছে এবং মাছের প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে। নদীকে পুনরুদ্ধার করতে হলে শুধু নদীর মূল প্রবাহ নয়; খাল, বিল, হাওর, বাঁওড়, চর ও প্লাবনভূমিকেও একই জলতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পুনঃসংযুক্ত করতে হবে।
বাংলাদেশের নদী আজ অর্থনীতিরও নীরব সঙ্কট বহন করছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, বন্দর এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার বিশাল অংশ নদীনির্ভর। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় নৌপথ সঙ্কুচিত হচ্ছে, পরিবহনব্যয় বাড়ছে, কৃষিতে সেচের খরচ বাড়ছে এবং জেলেদের আয় কমছে। অন্যদিকে প্রতি বছর নদীভাঙনে হাজারো পরিবার ভূমিহীন হয়ে শহরমুখী হচ্ছে, যা নতুন করে দারিদ্র্য ও জলবায়ু-অভিবাসনের সঙ্কট তৈরি করছে। তাই নদী সংরক্ষণকে ব্যয় নয়, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
নদী নিয়ে বাংলাদেশের একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে, যা দ্রুত বিলুপ্ত হচ্ছে। ভাটিয়ালি, সারি, জারি, নৌকাবাইচ, মাঝিদের লোকজ সংস্কৃতি, নদীকেন্দ্রিক হাট-বাজার এবং অসংখ্য সাহিত্য-গানের উৎস ছিল নদী। নদী হারালে শুধু একটি জলধারা হারায় না; হারিয়ে যায় একটি জাতির সাংস্কৃতিক স্মৃতি। তাই নদী সংরক্ষণকে কেবল পরিবেশগত কর্মসূচি নয়; জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবেও দেখা দরকার।
নদী পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি। স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ, ড্রোন জরিপ, জিআইএসভিত্তিক নদী মানচিত্র, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বন্যা পূর্বাভাস, স্বয়ংক্রিয় পানির গুণগত মান পর্যবেক্ষণ এবং উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার নদী ব্যবস্থাপনাকে আরো স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে পারে। একই সাথে প্রতিটি নদীর জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য-প্রোফাইল তৈরি করে নিয়মিত হালনাগাদ করলে কোথায় দখল, কোথায় দূষণ, কোথায় নাব্যতা কমছে- তা দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে।
লেখক : কবি, গবেষক