একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকের শুরুতে পৃথিবী চার-চারটি যুদ্ধ দেখেছে। সব যুদ্ধেই প্রবল-পরাক্রান্ত সামরিক শক্তি নিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষকে হামলা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো শক্তিশালী পক্ষই চূড়ান্ত বিচারে জয়লাভ করতে পারেনি। উপরন্তু অপেক্ষাকৃত দুর্বল পক্ষ দুর্নিবার জাতীয় ঐক্যের ঢাল দিয়ে মোকাবেলা করে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ
ন্যাটোর সম্প্রসারণে ইউক্রেনের ইতিবাচক অবস্থান রাশিয়ার জন্য নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। ইউক্রেন তাতে গুরুত্ব না দিলে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার সশস্ত্রবাহিনী ইউক্রেনে আগ্রাসন চালায়। কিন্তু অপেক্ষাকৃত দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও ইউক্রেনবাসী জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলে। তারা সামারিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে পরমাণু শক্তিধর রাশিয়ার আক্রমণকে প্রতিহত করে।
রাশিয়ার সশস্ত্রবাহিনী ভেবেছিল ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গিয়ে সকালের চা-নাশতা করবে। কিন্তু আজ চার বছরের বেশি সময় ধরে রাশিয়া জয়ের নাম-নিশানাটুকুও দেখতে পাচ্ছে না। অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়া সম্মুখযুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ড্রোন আক্রমণ চালিয়েও কিছুতেই ইউক্রেনকে পরাজিত করতে পারছে না।
একটি অসমর্থিত সূত্রে জানা যায়, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত রাশিয়ার দুই লাখ ৭৫ হাজার থেকে সোয়া তিন লাখ এবং ইউক্রেনের এক লাখ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এত ক্ষয়ক্ষতির পরও ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়া জয়ের নাগাল পাচ্ছে না। রাশিয়ার ব্যর্থতার বড় কারণ হলো- তাদের আক্রমণের যৌক্তিকতা বা উদ্দেশ্যটি সৎ বা মহৎ ছিল না; সামরিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সেটি ছিল সুস্পষ্ট আগ্রাসন। অন্য দিকে ইউক্রেনের শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারার মূল কারণ ছিল তাদের জাতীয় ঐক্য। এই ঐক্যের ফলে সৈনিকদের মরণপণ যুদ্ধের পাশাপাশি ইউক্রেন সরকার সফল কূটনীতি পরিচালনা করে নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সামরিক ও লজিস্টিক সহযোগিতা পেয়ে যাচ্ছে।
ইসরাইলের গাজা আগ্রাসন
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার হামাস যোদ্ধারা সীমান্তবর্তী ইসরাইলের গ্রামে আচমকা একটি অভিযান পরিচালনা করে। ফিলিস্তিনিবাসী দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ইসরাইলি সশস্ত্রবাহিনী পরিচালিত নৃশংস আগ্রাসন, তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে জবরদখল এবং পুরো ফিলিস্তিনকে কারাগারে পরিণত করার ক্ষোভ থেকে হামাস এই আক্রমণ চালিয়েছিল। সেই ১৯৪৮ সাল থেকে জাতিগত নির্মূলের শিকার ফিলিস্তিনিদের ওপর একতরফা বিমান হামলা, ফিলিস্তিনি বালক-বালিকাদের ইট-পাথর নিক্ষেপের প্রতিউত্তরে সরাসরি গুলিবর্ষণ, ফিলিস্তিনি যুবা-কিশোরদের নির্বিচার গ্রেফতার, বিনাবিচারে কারাগারে নিক্ষেপ, ফিলিস্তিনি বৃদ্ধ ও নারীদের বেধড়ক পেটানোয় ফিলিস্তিনিরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছিল। মুসলিম বিশ্ব নির্বাক দৃষ্টিতে এসব দেখছিল আর পশ্চিমারা অস্ত্র সাহায্য দিয়ে ‘ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সের’ (আইডিএফ) হত্যাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছিল। এরই মধ্যে ‘আইডিএফ’ বারবার বিশ্বের মুসলমানদের প্রথম কেবলা ‘মসজিদে আকসাকে’ অপবিত্র করছিল এবং ফিলিস্তিনিদের সেখানে নামাজ আদায়ে বাধা দিচ্ছিল। এমনি এক অসহনীয় পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এগিয়ে আসে। তারা বিশ্ববাসীকে তাদের ওপর জুলুমের বার্তাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইল সীমান্তে ত্রিমাত্রিক আক্রমণ চালায়। এতে ইসরাইলের প্রায় এক হাজার ২০০ সামরিক-বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। কয়েকজন ইসরাইলিকে জিম্মিও করা হয়। এর প্রতিউত্তরে ‘আইডিএফ’ পূর্ণ শক্তি দিয়ে গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান শুরু করে। হামাস নির্মূলের উদ্দেশ্যের আড়ালে ‘আইডিএফ’ পুরো গাজায় জাতিগত নিধন চালায়। গত আড়াই বছর ধরে তারা এই নিধনযজ্ঞ চালিয়ে এ পর্যন্ত ৭৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি সাধারণ নাগরিককে হত্যা করে।
ইউনিসেফের প্রতিবেদন মতে, নিহতদের ২১ হাজার ২৮৯ জনই শিশু। নিহত নারীর সংখ্যা ৩৮ হাজার। প্রায় তিন লাখ ৭১ হাজার ইউনিট বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছে, ৫০ শতাংশের বেশি হাসপাতাল ধ্বংস করা হয়েছে এবং ৯০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এত কিছুর পরও ‘আইডিএফ’ বা ইসরাইল হামাসকে নির্মূল করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই মৃত্যুপুরী এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও হামাস যথেষ্ট সক্রিয় আছে; অর্থাৎ এত হত্যা ও ধ্বংস পরিচালনা করেও ইসরাইল বিজয় অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে ফিলিস্তিন ও গাজাবাসীর দুর্ভেদ্য ঐক্যের জন্য।
‘আইডিএফ’ এখানে ব্যর্থ হয়েছে তাদের অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ জনগণ ইসরাইলের কার্যকলাপকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। যদিও পশ্চিমা বিশ্বের অধিকাংশ সরকারপ্রধান ইসরাইলকেই অন্ধভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
পাক-ভারত যুদ্ধ
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারতের কাশ্মিরের পহেলগামের বৈসারান উপত্যকায় নিরীহ পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী আক্রমণে ২৬ জন পর্যটক নিহত হয় এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হয়। ভারত এই সন্ত্রাসী হামলার জন্য কোনো প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানকে দায়ী করে। তারা ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে অভিযান চালায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে। ভারত পাকিস্তানের এবং পাকিস্তানশাসিত কাশ্মিরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অবকাঠামোকে সন্ত্রাসী আস্তানা দাবি করে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানায়। এতে ৩১ জন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়। ফলে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ভারতের আক্রমণের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। রাজনৈতিক মত ও পথ নির্বিশেষে সব পাকিস্তানি নাগরিক এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। জনগণ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়ালে দেশব্যাপী জাতীয় ঐক্যের সৃষ্টি হয়। এতে পাক সশস্ত্রবাহিনীর মনোবল তুঙ্গে ওঠে। ১০ মে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ নামে ভারতে ভয়াবহ প্রতি-আক্রমণ চালায়। পাকিস্তান আর্মড ড্রোন, যুদ্ধবিমান (Chengdu J-10c I JF-17) এবং ক্ষেপণাস্ত্র (Fatah-1 & Fath-2) হামলাসহ ব্যাপক আর্টিলারি ও সাইবার আক্রমণ পরিচালনা করে। এই আক্রমণে ভারতের রাডার সিস্টেম অন্ধ হয়ে পড়ে এবং রাফায়েলসহ ভারতের ছয়টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। বিপর্যস্ত ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনী যুদ্ধ বন্ধের জন্য গোপনে ট্রাম্পের দ্বারস্থ হয়। ফলে ট্রাম্প ধমক দিয়ে পাকিস্তান ও ভারতকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করান। জয়-পরাজয় সুনির্দিষ্ট না হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রমাণিত হয়েছে, ভারত পাকিস্তানের পাল্টা আক্রমণে পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছিল। এখানেও যুদ্ধের ভালো কোনো কারণ বা যুক্তি ভারতের অনুকূলে ছিল না। উপরন্তু পাকিস্তানিরা জাতীয়ভাবে অভূতপূর্ব ঐক্যবদ্ধ হয়ে পড়েছিল ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য। ফলে ভারত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে ভয়ঙ্কর আক্রমণ চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে। মার্কিন এই আক্রমণটি ছিল সব কূটনৈতিক আচার-আচরণ লঙ্ঘন করে জঘন্য ছলচাতুরির একটি আক্রমণ। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নিকৃষ্ট উপায়ে অন্য দেশের ওপর আক্রমণের ঘটনা বিরল। ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে আক্রমণ করে বসে। ট্রাম্প হয়তো ধারণা করেছিলেন, ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার মতোই সহজ হবে ইরান দখল। কিন্তু ইরানে মার্কিন-ইসরাইল আক্রমণের প্রথম ভোরেই ১৮৫ জন শিশু স্কুলছাত্রীকে হত্যা এবং সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যায় ইরানিরা গর্জে উঠল হানাদারদের বিরুদ্ধে। পুরো ইরানি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াল ইরানি রিজিমের পাশে। নাগরিকরা ব্যাপকভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ নেয়া শুরু করল সম্ভাব্য মার্কিন হামলা প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে। অন্য দিকে ইরানি সশস্ত্রবাহিনী এবং ‘আইআরজিসি’ বাহিনী সমান তালে লড়েছে মার্কিন ও ইসরাইলি আক্রমণের বিরুদ্ধে। তারা পাল্টা ভয়াবহ আক্রমণ রচনা করতে থাকল ইসরাইলের গভীরে এবং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক মার্কিন ঘাটিগুলোতে। সেই সাথে ৪ মার্চ থেকে ইরান বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবাহী নৌপথের কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র তথা সারা বিশ্বে এই হরমুজ অবরোধে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপে পড়ে গেল।
এমতাবস্থায় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল মনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এরপর থেকে ট্রাম্প বিভিন্ন হুমকি-ধমকি ও চরম বার্তা দিয়ে ইরানকে চাপ প্রয়োগে চুক্তিতে আনার চেষ্টা চালায়। কিন্তু ইরান বিচলিত না হয়ে বরং মার্কিন-ইসরাইলিদের পাল্টা হুমকি দিতে থাকে এবং ট্রাম্পের হুমকিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করতে থাকে। এর মধ্যেও হামলা-পাল্টা হামলা চলে কয়েক দফা। শেষ পর্যন্ত ইরানকে কোনোভাবেই টলাতে ব্যর্থ হয়ে ট্রাম্প পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষরের ব্যবস্থা করেন। ১৭ জুন তা স্বাক্ষর করা হয়। কিন্তু পরে আলোচনার মধ্যেই মার্কিনিরা ৮ জুলাই আবারো ইরানে হামলা শুরু করে। টানা দুই সপ্তাহ ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েও ইরানকে বিন্দুমাত্র নমনীয় করতে ব্যর্থ হয়। ইরানও আরো ভয়াবহ আকারে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। মূলত এই যুদ্ধে ট্রাম্প ইরান আক্রমণের যৌক্তিকতা হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছেন বা যুদ্ধের উদ্দেশ্যের সততা প্রমাণ করতে পারেননি। অন্য দিকে ইরানি জাতি ইস্পাত কঠিন ঐক্যে একতাবদ্ধ হয়ে ইরান সরকার ও সশস্ত্রবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে মার্কিন-ইসরাইলিদের পিছু হটিয়ে দিয়েছে।
একবিংশ শতাব্দীতে এসে এখন আর শক্তিমত্তা দিয়ে অন্য দেশকে পরাজিত করা সম্ভব নয়। নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার উদ্দেশ্যে যারা লড়াই করে তারা যত দুর্বলই হোক না কেন, তাদের পরাজিত করা যায় না, যদি সেই জাতি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ চাই না। আমাদের সশস্ত্রবাহিনী বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে আছে। তবে আমরা কখনো আক্রান্ত হলে দেশে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য তৈরি হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশের প্রতিটি নাগরিক জীবন দিতে দাঁড়িয়ে যাবে।
ভূরাজনীতি ও কূটনীতিতে আমাদেরকে পরিপক্বতার পরিচয় দিতে হবে। সুতরাং আঞ্চলিক বন্ধু-শত্রু অনুধাবন করে আমাদের প্রতিরক্ষানীতি, কূটনীতি ও ভূরাজনীতি সাজাতে হবে। তাহলে কোনো বহিঃশত্রুই আমাদের সার্বভৌমত্বকে অবজ্ঞা করার দুঃসাহস করতে পারবে না।
লেখক : নিরাপত্তা বিশ্লেষক