উটের নতুন ঠিকানা অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল
Printed Edition
এএফপি
আরব মরুভূমির আদি নিবাস থেকে বহু দূরে অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত মরু ও তৃণভূমি অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছে লাখ লাখ উট। এসব উট দিয়ে বুনো উটের দৌড় প্রতিযোগিতা, বিকল্প দুধ উৎপাদন, এমনকি বিয়ার তৈরির মতো কাজও করা হচ্ছে। উনিশ শতকে ব্রিটিশ উপনিবেশকারীরা পরিবহনের কাজে অস্ট্রেলিয়ায় উট নিয়ে এসেছিল। পরে গাড়ির ব্যবহার শুরু হলে উটের প্রয়োজন কমে যায় এবং অনেক উটকে ছেড়ে দেয়া হয়। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় উটের সংখ্যা আনুমানিক ৩ লাখ থেকে ১০ লাখের মধ্যে বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে অনেক উটই বন্য হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এসব উট মরুভূমি অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়ে নানা সমস্যা সৃষ্টি করে; গবাদিপশুর সাথে খাবারের জন্য প্রতিযোগিতা করে, বেড়া নষ্ট করে, পানির উৎস নোংরা করে এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলোর ক্ষতি করে। তবে প্রশিক্ষিত ও গৃহপালিত উট অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি সীমিত রফতানি বাজার তৈরি করেছে। দেশটির খামারিরা উটের দুধ বিক্রির পাশাপাশি কখনো কখনো জীবিত উটও রফতানি করেন। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ৬৮টি উট মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় রফতানি করা হয়েছে। বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার উটের গোশত রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৯ লাখ ডলারের বেশি।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রোব শহরের হাম্পালিশিয়াস খামারের মালিক ও সাবেক নৌ-ক্যাপ্টেন ওয়ারউইক হিল তার উটগুলোর গুণের প্রশংসা করেন। উটকে আদর করতে করতে তিনি বলেন, ‘এদের সাথে কাজ করা খুবই ভালো। খুব সহজেই এদের পোষ মানানো যায়।’ তিনি বলেন, ‘আপনি যদি তাদের সাথে ভালো আচরণ করেন, তারাও সাধারণত একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।’ হিল জানান, উটের দুধে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের জন্য। তিনি প্রতি লিটার দুধ ২০ অস্ট্রেলিয়ান ডলারে বিক্রি করেন। হিল জোর দিয়ে বলেন, ‘অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত’ প্রচলিত দুধের তুলনায় উটের দুধ অনেক বেশি উন্নত ও গুণগত মানসম্পন্ন। আমরা এখনো এমন কাউকে পাইনি, যে উটের দুধ খেতে পারে না।