ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ে বিশ্বব্যাপী সবাই কমবেশি অবহিত হলেও ধূমপায়ীদের সংখ্যা কিছু কমেছে ঠিকই; কিন্তু এখনো আশঙ্কাজনক পর্যায়ে আছে। ধূমপানে একবার কেউ আসক্ত হলে পরিহার করা দুরূহ। অপরিণত বয়সে কেউ আসক্ত হয়ে পড়লে তার কাছে ধূমপান ত্যাগ এক কঠিন সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়। প্রাচীনকাল থেকে আমাদের দেশে মানুষের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমবেশি বিরাজমান ছিল।
এদেশ যখন রাজা-মহারাজা ও বাদশাহদের দ্বারা শাসিত ছিল, তখন তারা ধূমপানে বাহারি হুঁকা ব্যবহার করতেন। সে সময় শ্রমজীবী মানুষের মধ্যেও ধূমপানের অভ্যাস ছিল। তারা নারকেলের খোল দিয়ে তৈরি বিশেষ এক ধরনের হুঁকা ব্যবহার করতেন। ধূমপায়ীদের ধূমপানের সপক্ষে যুক্তি- তারা ক্লান্তি, অবসাদ ও মানসিক চাপ নিবারণার্থে ধূমপান করে থাকেন। পাহাড়ি জনগণ নারী-পুরুষ নির্বিভেদে ধূমপান করে থাকেন।
হুঁকার মাধ্যমে ধূমপান অনেকটা ঝামেলাপূর্ণ ও সময় ক্ষেপণকারী হওয়ায় কালের বিবর্তনে এর প্রচলন ক্রমে কমে বর্তমানে নগণ্যে পৌঁছেছে। কিন্তু তাই বলে ধূমপায়ীর সংখ্যা নগণ্য নয়। বর্তমানে বেশির ভাগ ধূমপায়ী বিড়ি ও সিগারেটের মাধ্যমে ধূমপান করে থাকেন। আমাদের এ অঞ্চলে বিড়ির প্রচলন যখন শুরু হয়, তখন পাতার বিড়ি ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে কাগজের বিড়ি পাতার বিড়ির স্থান দখল করে নিয়েছে। তাছাড়া দেশের এক উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সিগারেট সেবন করে থাকেন।
সিগারেটের জন্ম নবম শতাব্দীতে মধ্য আমেরিকায়। ঊনবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকের সূচনালগ্নে সিগারেট মধ্য আমেরিকা থেকে ইউরোপের ফ্রান্সে পাড়ি জমায়। সেখানে ফরাসি ছোট ‘সিগার’ থেকে ‘সিগারেট’ নামের উৎপত্তি। বর্তমানের আধুনিক সিগারেট হচ্ছে পাতলা কাগজ দিয়ে আবৃত্ত সুন্দরভাবে কর্তনকৃত তামাক পাতার ছোট নলাকার গুটানো বস্তু। বিড়ি সিগারেটের অনুরূপ; কিন্তু এর অগ্রভাগ থেকে নিম্নভাগ ক্রমান্বয়ে সরু এবং আকৃতির দিক থেকে সিগারেটের চেয়ে ছোট। আর পাইপ হচ্ছে হুঁকার আধুনিক সংস্করণ; কিন্তু সেবনপ্রক্রিয়া ও আনুষঙ্গিক দ্রবাদি বহনের ঝামেলায় পাইপে ধূমপান বাংলাদেশে কখনো ব্যাপকতা পায়নি।
বর্তমানে আমাদের শহরাঞ্চলের ধূমপায়ীরা বিভিন্ন মানের সিগারেট সেবন করে তাদের আকাক্সক্ষা পূরণ করে থাকেন। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলের ধূমপায়ীরা নিম্নমানের সিগারেট ও বিড়ি সেবনে তাদের তৃপ্তির পরিসমাপ্তি ঘটান।
ইংরেজি ভাষাভাষী জাতির মধ্যে ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ক্রিমিয়ান যুদ্ধ চলাকালীন সিগারেট সেবনের প্রবণতা শুরু। বিংশ শতাব্দীতে পশ্চিমা বিশ্বে সিগারেট সেবন ব্যাপকতা পায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানের চিকিৎসকরা সর্বপ্রথম ধূমপানের সাথে ফুসফুসের ক্যান্সারের সম্পৃক্ততা চিহ্নিত করেন। নাৎসি জার্মানিতে সর্বপ্রথম ধূমপানবিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়। ধূমপানবিরোধী আন্দোলন বর্তমানে সারা বিশ্বে সাড়া জাগিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময় থেকে বিভিন্ন দেশে ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করে আইন প্রণয়ন শুরু হয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই।
ধূমপান নিবারণ বিষয়ে দেশে সর্বপ্রথম যে আইনটি কার্যকর হয়, সেটি- দ্য ইস্ট বেঙ্গল প্রোহিবিটেশন অব স্মোকিং ইন শো হাউজ অ্যাক্ট, ১৯৫২। এ আইনে শুধু প্রেক্ষাগৃহে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়। ১৯৮৮ সালে তামাকজাত-সামগ্রী বিপণন (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণীত হয়। এ আইনে তামাকজাত দ্রব্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রে কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণীত হয়।
প্রতিটি আইনের সম্পূর্ণ শিরোনাম, প্রস্তাবনা ও সংক্ষিপ্ত শিরোনাম থাকে। এ ক্ষেত্রে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনও ব্যতিক্রম নয়। সম্পূর্ণ শিরোনামে আইনের লক্ষ্য ব্যক্ত করা হয়। এ আইনের সম্পূর্ণ শিরোনামে বলা হয়েছে- ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদন, ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয় ও বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন।
একটি আইন কি উদ্দেশ্যে প্রণীত সেটি প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়। এ আইনটির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে- যেহেতু ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যে ক্ষতিকর; যেহেতু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৫৬তম সম্মেলনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) শিরোনামের কনভেনশনে বাংলাদেশ ১৬ জুন, ২০০৩ সালে স্বাক্ষর এবং ১০ মে, ২০০৪ সালে অনুস্বাক্ষর করেছে। যেহেতু ওই কনভেনশনের বিধানাবলি বাংলাদেশে কার্যকর করার লক্ষ্যে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদন, ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয় ও বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করা সমীচীন ও প্রয়োজন; সেহেতু এতদ্বারা এ বিষয়ে আইনটি প্রণীত হলো।
সংক্ষিপ্ত শিরোনামে যেকোনো আইনের নামকরণ কী হবে তা বলা হয়ে থাকে। আইনটির সংক্ষিপ্ত শিরোনামে বলা হয়েছে- এ আইন ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ নামে অভিহিত হবে।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এ ‘কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা’ অর্থাৎ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বা তার সমমানের বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোনো কর্মকর্তা এবং এতদসংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন আইনের অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত যেকোনো বা সব কর্মকর্তাও এর অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ আইনে ‘তামাকজাত দ্রব্য’ অর্থাৎ তামাক থেকে তৈরি যেকোনো দ্রব্য, যা ধূমপানের মাধ্যমে শ্বাসের সাথে নেয়া যায় এবং বিড়ি, সিগারেট, চুরুট এবং পাইপে ব্যবহার্য (মিক্সারও) এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
এ আইনে ‘ধূমপান’ অর্থ কোনো তামাকজাত দ্রব্যের ধোঁয়া শ্বাসের সাথে টেনে নেয়া বা বের করা। কোনো প্রজ্বলিত তামাকজাত দ্রব্য ধারণ করা বা নিয়ন্ত্রণ করাও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। এ আইনে ‘ধূমপান এলাকা’ অর্থাৎ কোনো পাবলিক প্লেস বা গণপরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্দিষ্টকৃত কোনো এলাকা।
এ আইনের অধীন ‘পাবলিক প্লেস’ অর্থাৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস, গ্রন্থাগার, লিফট, হাসপাতাল ও ক্লিনিক ভবন, আদালত ভবন, বিমানবন্দর ভবন, সমুদ্রবন্দর ভবন, নৌবন্দর ভবন, রেলওয়ে স্টেশন ভবন, বাসটার্মিনাল ভবন, ফেরি, প্রেক্ষাগৃহ, আচ্ছাদিত প্রদর্শনী কেন্দ্র, থিয়েটার হল, বিপণি ভবন, পাবলিক টয়লেট, সরকারি বা বেসরকারিভাবে পরিচালনাধীন শিশুপার্ক এবং সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত অন্য যেকোনো বা সব স্থান।
এই আইনে ‘গণপরিবহন’ অর্থাৎ মোটরগাড়ি, বাস, রেলগাড়ি, ট্রাম, জাহাজ, লঞ্চ, যান্ত্রিক সর্বপ্রকার জন-যানবাহন, উড়োজাহাজ এবং সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্টকৃত বা ঘোষিত অন্য যেকোনো যান।
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এ পাবলিক প্লেস এবং গণপরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন খেলাপকারীর জন্য অনধিক ৫০ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আছে।
আইনটিতে যদিও বলা হয়েছে- কোনো পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনের মালিক, তত্ত্বাবধায়ক বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি বা ব্যবস্থাপক তাতে ধূমপানের জন্য স্থান চিহ্নিত বা নির্দিষ্ট করে দিতে পারবেন। কিন্তু আইনটি কার্যকর হওয়ার পর পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান থেকে বিরত-সংক্রান্ত বাণী উৎকীর্ণ থাকলেও এর প্রয়োগ যথাযথভাবে কার্যকর হয় না। ফলে বর্তমানে কদাচিৎ পাবলিক প্লেস বা গণপরিবহনে এই বাণীর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
আইনটিতে যদিও বলা হয়েছে- তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট বা মোড়কে বড় অক্ষরে স্পষ্টত দৃশ্যমানভাবে ও বড় মাপে মোট জায়গার অন্যূন ৩০ শতাংশ পরিমাণের মধ্যে যেকোনো সতর্কবাণী মুদ্রণ করবে যথা- ক. ধূমপান মৃত্যু ঘটায়; খ. ধূমপানে স্ট্রোক হয়; গ. ধূমপান হৃদরোগের কারণ; ঘ. ধূমপান ফুসফুস ক্যান্সারের কারণ; ঙ. ধূমপানে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয়; চ. ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। উপরোক্ত ছয়টি সতর্কবাণীর মধ্যে আমাদের দেশের বড় বড় বহুজাতিক ও দেশীয় সিগারেট প্রস্তুতকারী কোম্পানি নিজ নিজ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের মোড়কে ‘ধূমপান ফুসফুস ক্যান্সারের কারণ’- কথাটি লিপিবদ্ধ করে ভোক্তার মধ্যে বিপণনে উন্মুক্ত করছে।
এ কথা অনস্বীকার্য যে, ধূমপায়ীদের একটি বৃহৎ অংশ বিড়ি সেবনকারী। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আইনের বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও বিড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আইনের কোনোরূপ তোয়াক্কা না করে সতর্কবাণী মুদ্রণ ছাড়া বিড়ি বাজারজাত করছে।
আইনটির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। আইনটি কার্যকরভাবে প্রয়োগে ওই মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগের বিধান আছে। কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো আদালতকে এ আইনের অধীন কোনো অপরাধ বিচারে ক্ষমতা দেয়া হয়নি। কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে, এ বিষয়ে আইনে সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে। তবে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারীরা বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক অবহিত না হওয়ায় এ আইনের অধীন মামলা দায়েরের ঘটনা বিরল। যদিও মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট পাবলিক প্লেস বা গণপরিবহনে ধূমপানের কারণে সংক্ষিপ্ত আদালতের আওতায় অনধিক ৫০ টাকা অর্থদণ্ড করার দু’-চারটি ঘটনা পরিলক্ষিত হয়।
নিয়ন্ত্রণ অর্থ- শর্তসাপেক্ষে ব্যবহার। এ আইনে নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে ‘নিবারণ’ শব্দটি ব্যবহার করা হলে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হতো। প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক, ধূমপান ক্ষতিকর হওয়া সত্ত্বেও কেন এর উপাদানের কৃষিজ ও বাণিজ্যিক উৎপাদন এবং বিপণন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না? সিগারেট ও বিড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সরকার বিপুল রাজস্ব পেয়ে থাকে। এ রাজস্ব প্রাপ্তি সরকারের নীতি-নির্ধারকদের নিবারণ বিষয়ে নিবৃত্ত করছে। তাছাড়া সিগারেট ও বিড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি নীতিনির্ধারক ছাড়াও সমাজপতিদের ওপর গভীর প্রভাব আছে। তামাকজাত দ্রব্যের কৃষিজ ও বাণিজ্যিক উৎপাদন এবং বিপণন বিষয়ে প্রণীত যেকোনো আইনে প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণের ক্ষমতা রাখে। এ ক্ষমতার কারণে আলোচ্য আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে আইনটি যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে, তা ব্যাহত হচ্ছে।
আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে- সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ, সরল ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত বেশির ভাগ ব্যক্তি অধূমপায়ী। অন্যদিকে অসৎ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও ঘুষখোরদের বেশির ভাগ ধূমপায়ী। আমাদের বর্তমান সমাজে অসৎ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও ঘুষখোরদের দাপটে সৎ এবং ন্যায়নিষ্ঠরা কোণঠাসা। আইনের সাফল্য বহুলাংশে সমাজের সর্বস্তরের জনগণের সহায়তা ও সচেতনতার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু যে সমাজে অসৎ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও ঘুষখোরদের প্রাধান্য, সে সমাজে আইন যত মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রণীত হোক না কেন, তা কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না। তাই আইনের সাফল্যের জন্য প্রয়োজন- ত্রুটিহীন আইন প্রণয়ন। প্রয়োগে কঠোরতা। তদন্তে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা। সেই সাথে বিচারে বিশ্বস্ততা ও ন্যায়পরতা।
লেখক : সাবেক জজ এবং সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক