উন্নত সড়ক, উঁচু ভবন, বড় অর্থনীতি কিংবা দৃশ্যমান অবকাঠামো এগুলো নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন। তবে রাষ্ট্রের প্রকৃত সাফল্য মাপা হয় তার জনগণের জীবনমান, নিরাপত্তা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও সম-অধিকারের মাপকাঠিতে।
বাংলাদেশ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, কেমন রাষ্ট্র আমরা নির্মাণ করতে চাই— এই মৌলিক প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন। এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে ক্ষমতা হবে জনগণের আমানত, আইন হবে সবার জন্য সমান, বিচার হবে স্বাধীন ও ন্যায়নিষ্ঠ এবং নাগরিকের মর্যাদা তার পরিচয়, সম্পদ, সামাজিক অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক ক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে না। বাংলাদেশের মতো জনবহুল, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য কল্যাণ রাষ্ট্রের অর্থ তাই শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়; নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রব্যবস্থা।
এই রাষ্ট্রচিন্তার অনন্য দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর মদিনাভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থায়। সেখানে রাষ্ট্র কেবল প্রশাসন ও শাসনের কাঠামো ছিল না; ছিল মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার, ন্যায়বিচার, সামাজিক সংহতি ও কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি নৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা। বাংলাদেশে কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা কোনো নিছক পাশ্চাত্য রাষ্ট্রতত্ত্বের অনুকরণ নয়; বরং আমাদের নিজস্ব ইতিহাস, মূল্যবোধ ও মানবিক চাহিদার আলোকে ন্যায়, দায়িত্ব, জবাবদিহি, সামাজিক সংহতি ও জনকল্যাণভিত্তিক একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনর্গঠন।
তবে সপ্তম শতকের মদিনাকে একুশ শতকের বাংলাদেশে হুবহু প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নেই। প্রয়োজন হলো সেই সময়ের মৌলিক নীতিগুলো, ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবমর্যাদা, সামাজিক সংহতি, নিরাপত্তা, দুর্বল মানুষের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির ব্যবস্থাকে আধুনিক বাংলাদেশের বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে প্রয়োগ করা।
কুরআনের রাষ্ট্রদর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে ন্যায়বিচার। সূরা নাহলের ৯০ নম্বর আয়াতে ন্যায়, সদাচরণের পাশাপাশি সীমালঙ্ঘন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সূরা নিসার ৫৮ নম্বর আয়াতে আমানত যথাস্থানে পৌঁছে দেয়া এবং ন্যায়বিচারের নির্দেশ রয়েছে। ১৩৫ নম্বর আয়াতে নিজের বা আপনজনের বিরুদ্ধেও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় থাকার কথা বলা হয়েছে। সূরা মায়েদার ৮ নম্বর আয়াতে আরো বলা হয়েছে, কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন মানুষকে ন্যায় থেকে বিচ্যুত না করে। অর্থাৎ ন্যায়বিচার প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রেও ন্যায়; নিজের লোকের ক্ষেত্রেও ন্যায়। এটিই কল্যাণ রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় এর অর্থ অত্যন্ত গভীর। আইন যেন দরিদ্রের জন্য কঠোর এবং ক্ষমতাবানের জন্য নমনীয় না হয়; রাজনৈতিক পরিচয় যেন বিচার পাওয়ার পূর্বশর্ত না হয়; অভাবগ্রস্ত যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়। বিচারব্যবস্থা স্বাধীন, নিরপেক্ষ, দ্রুত এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে কোনো রাষ্ট্রই প্রকৃত অর্থে কল্যাণ রাষ্ট্র হতে পারে না।
মদিনার রাষ্ট্রচিন্তার সাথে সাম্যের ধারণাটিও গভীরভাবে যুক্ত। কুরআনের সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত মানুষকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত হওয়ার বাস্তবতা স্বীকার করেও মর্যাদার ভিত্তি হিসেবে বংশ, সম্পদ বা পরিচয়কে গ্রহণ করে না; বরং নৈতিকতার ওপর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে। আধুনিক রাষ্ট্রে এর তাৎপর্য হলো— নাগরিকের মর্যাদা তার জন্ম, ধর্ম, অঞ্চল, ভাষা, পেশা, সম্পদ কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে নির্ধারিত হবে না।
বাংলাদেশে গ্রাম ও শহর, ধনী ও দরিদ্র, কেন্দ্র ও প্রান্ত, আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের মধ্যে যে বৈষম্য রয়েছে, কল্যাণ রাষ্ট্রকে তা কমানোর দায়িত্ব নিতে হবে। সাম্য মানে সবাইকে একই ফল দেয়া নয়; বরং প্রত্যেককে ন্যায্য সুযোগ দেয়া এবং দুর্বল মানুষকে এগিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া। শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ ভৌগোলিক বৈষম্যের কারণে সীমিত থাকতে পারবে না।
কল্যাণ রাষ্ট্রের আরেকটি মৌলিক ভিত্তি মানবমর্যাদা। কুরআনে মানুষকে মর্যাদা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি রাষ্ট্রীয় নীতি হলে দরিদ্র মানুষ রাষ্ট্রের করুণার পাত্র নয়, সে হবে মর্যাদাবান নাগরিক। শ্রমিক শুধু উৎপাদনের উপকরণ নয়; তার ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, এতিম, বিধবা, অসহায় ও প্রান্তিক মানুষ রাষ্ট্রের বোঝা নয়; তারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ।
রাসূলুল্লাহ সা: মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। বিদায় হজের ভাষণে মানুষের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদার পবিত্রতার ওপর যে গুরুত্বারোপ করা হয়েছিল, তার আধুনিক রাষ্ট্রনৈতিক তাৎপর্য হলো— নাগরিক নিরাপত্তা শুধু অপরাধ থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয় নয়; তার সম্পদ, সম্মান, অধিকার ও ব্যক্তিসত্তার নিরাপত্তাও এর অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা, প্রবীণদের সুরক্ষা, প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার, শ্রমিকের নিরাপত্তা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা তাই কল্যাণ রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় দায়িত্ব হওয়া উচিত।
মদিনার সনদের আরেকটি বড় শিক্ষা হলো বহুত্বের মধ্যে সামাজিক চুক্তি। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক অধিকার, দায়িত্ব ও নিরাপত্তার একটি কাঠামো গড়ে উঠেছিল। বাংলাদেশের সমাজে এই শিক্ষা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্র কোনো নাগরিককে শুধু তার পরিচয়ের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলবে না। সংখ্যাগরিষ্ঠের দায়িত্ব হবে দুর্বল ও সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষা করা; একই সাথে প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব হবে অন্যের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানো। রাষ্ট্রের লক্ষ্য হবে বিভাজন না করে নাগরিক ঐক্য শক্তিশালী করা।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সম্পর্কে মদিনার শিক্ষা আরো মৌলিক। ক্ষমতা অধিকার নয়, আমানত। রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, প্রত্যেককে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে; শাসকও তার অধীন মানুষের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। এই ধারণা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নৈতিক সীমা নির্ধারণ করে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর অর্থ হলো সরকারি পদ ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, প্রশাসন দলীয় আনুগত্যের জায়গা নয় এবং জনগণের অর্থ রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। সরকারি নিয়োগে যোগ্যতা, প্রশাসনে সততা, সরকারি ব্যয়ে স্বচ্ছতা, স্বাধীন নিরীক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব কমানো— এসবই আমানতদার রাষ্ট্রের বাস্তব রূপ।
মদিনার সামাজিক ব্যবস্থায় মুহাজির ও আনসারের ভ্রাতৃত্ব সামাজিক পুনর্বাসন ও পারস্পরিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এর শিক্ষা হলো, কল্যাণ রাষ্ট্র শুধু সরকারি অর্থ বিতরণ করবে না; এমন একটি সামাজিক পরিবেশ তৈরি করবে যেখানে মানুষ বিপদের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়াবে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মদিনার শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম ব্যক্তিগত সম্পত্তি, বৈধ ব্যবসায় ও মুনাফাকে স্বীকৃতি দেয়; কিন্তু সম্পদকে সীমাহীন ক্ষমতার উৎসে পরিণত করার সুযোগ দেয় না। সূরা হাশরের ৭ নম্বর আয়াতে সম্পদ যেন কেবল ধনীদের মধ্যেই আবর্তিত না হয়— এই নীতি তুলে ধরা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন ন্যায়ভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার প্রতিষ্ঠা করা। ব্যক্তি মালিকানা, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগ থাকবে; কিন্তু সিন্ডিকেট, একচেটিয়া আধিপত্য, প্রতারণা ও বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
একই সাথে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে শুধু ব্যয় হিসেবে নয়, মানবিক সক্ষমতায় বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। পরিবারের আর্থিক অক্ষমতার কারণে একটি শিশুও যেন মানসম্মত শিক্ষাবঞ্চিত না হয়। অসুস্থ মানুষ যেন চিকিৎসার সুযোগবঞ্চিত না হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনকে কল্যাণ রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তবে কল্যাণ রাষ্ট্রকে ভাতানির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা যাবে না। প্রকৃত কল্যাণ হলো— মানুষকে সক্ষম করে তোলা। শিক্ষা, দক্ষতা, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকীকরণ এবং শিল্প ও সেবা খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে তরুণদের উৎপাদনশীল শক্তিতে পরিণত করতে হবে।
বাংলাদেশের কল্যাণ রাষ্ট্রকে জলবায়ু ও দুর্যোগের বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। নদীভাঙন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর বহু মানুষ জীবিকা ও বসতভিটা হারায়। তাই সামাজিক নিরাপত্তাকে দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুনর্বাসন, জীবিকা পুনর্গঠন, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত করতে হবে।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করাও এই রাষ্ট্রব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন দিয়ে বাংলাদেশের সব মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন, স্থানীয় অবকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষার একটি অংশ জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যেতে হবে। তবে বিকেন্দ্রীকরণের সাথে স্বচ্ছতা, নিরীক্ষা ও নাগরিক অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের সামনে প্রশ্ন কোন মতাদর্শের রাষ্ট্র হবো, তা নয়; বরং কেমন রাষ্ট্র হবো তা। সমাজতন্ত্রের সামাজিক ন্যায়, পুঁজিবাদের ব্যক্তি উদ্যোগ ও প্রতিযোগিতা, আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্রের সামাজিক সুরক্ষা এবং মদিনার ন্যায়, আমানত, মানবমর্যাদা ও জবাবদিহির শিক্ষা— এসবের সমন্বয়েই বাংলাদেশের নিজস্ব কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, মদিনার আলোয় বাংলাদেশের কল্যাণ রাষ্ট্র অতীতের পুনর্নির্মাণ নয়; ন্যায়, আমানত, মানবমর্যাদা, সামাজিক সংহতি ও জবাবদিহির নীতির আধুনিক প্রয়োগ। কুরআন ও রাসূলুল্লাহ সা:-এর রাষ্ট্রচিন্তার এই মৌলিক শিক্ষাকে আধুনিক গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও বাজার অর্থনীতির সাথে সমন্বিত করাই এর লক্ষ্য। বাংলাদেশের প্রয়োজন নতুন কোনো রাষ্ট্রের নাম নয়; প্রয়োজন রাষ্ট্রের চরিত্রের পরিবর্তন— যেখানে ক্ষমতা হবে আমানত, আইন হবে সবার জন্য সমান, বিচার হবে স্বাধীন, প্রশাসন হবে নাগরিকমুখী, অর্থনীতি হবে ন্যায়ভিত্তিক এবং দুর্বল মানুষ পাবে নিরাপত্তা ও মর্যাদা।
উন্নয়নের প্রকৃত মাপকাঠি শুধু জিডিপি বা অবকাঠামো নয়; মানুষ কতটা নিরাপদ, ন্যায়বিচার কতটা নিশ্চিত, মর্যাদা কতটা সুরক্ষিত এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কতটা আশাবাদী— সেটিই হবে রাষ্ট্রের সাফল্যের আসল মানদণ্ড। রাষ্ট্র মানুষের ওপর ক্ষমতা প্রয়োগের যন্ত্র নয়; মানুষের অধিকার, মর্যাদা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ রক্ষার আমানত। সেই আমানত ন্যায় ও জবাবদিহির সাথে পালন করতে পারলেই বাংলাদেশ একটি সত্যিকার অর্থে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।
লেখক : অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট