চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Printed Edition

সংসদ প্রতিবেদক

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের পুনর্বহালের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, কোনো নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। স্যা-প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো: আব্দুল ওয়ারেছের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের পর বিভাগীয় স্পেশাল কোর্ট ও প্রশাসনিক বিচারব্যবস্থায় তদন্তের মাধ্যমে ছয় হাজার ২৮৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। একই প্রক্রিয়ায় দুই হাজার ৫১০ জনকে পেনশন সুবিধাসহ বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়। সব মিলিয়ে আট হাজার ৭৯৬ জন সদস্য চাকরি হারিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্যা-প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এসব শাস্তি দেয়া হয়েছে। ফলে চাকরিচ্যুত সদস্যদের পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

তিনি জানান, চাকরিচ্যুত সদস্যদের মধ্যে ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে। হত্যা মামলার কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চলমান। আর বিস্ফোরক মামলার বিচার নিম্ন আদালতে চলমান রয়েছে। এসব মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের পুনর্বহালের কোনো সুযোগ নেই।

নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো: ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিডিআর বিদ্রোহসংক্রান্ত মামলাগুলো আদালতের নির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। কোনো ব্যক্তি সাজা ভোগ শেষ করার পর তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগার থেকে খালাস পাবেন।

তিনি বলেন, সাজা ভোগের পর কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্য মামলা থাকলে সেটি যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হবে। শুধু পরিচয়, পূর্ববর্তী সাজা বা রাজনৈতিক বিবেচনায় কেউ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য পুলিশকে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আইনবহির্ভূত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি, মিথ্যা মামলা কিংবা অযৌক্তিক পরিস্থিতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। খুন, ছিনতাই, অপহরণসহ অন্যান্য অপরাধ কঠোরভাবে দমনে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী ভঙ্গুর পরিস্থিতি কাটিয়ে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত মনোবল ফিরিয়ে এনে তাদের পূর্ণ শক্তিতে মাঠে নামানো হচ্ছে।