গাজার ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করতে ১৭ মাস ধরে নির্বিচার গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইল। এই হামলা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নারী ও শিশুসহ এ পর্যন্ত অন্তত ৫১ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যা এবং লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে ভিটামাটি ছাড়া করার পর এখন পুরো গাজা জনশূন্য করার অভিযান শুরু করেছে ইসরাইল। সম্প্রতি একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও নানা খোঁড়া অজুহাতে চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরাইল আবার হামলা শুরু করে। সব রকম ত্রাণ ও মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর পথ বন্ধ করেছে। গত এক মাস ধরে গাজাবাসী কোনো খাবার ও পানীয় পাচ্ছে না। অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শিশুকে ঘাস চিবিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করার মতো হৃদয়বিদারক দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডবিøউএ) জানিয়েছে, গাজা উপত্যকার পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। সেখানে অন্তত ছয় লাখ দুই হাজার শিশু ‘স্থায়ী পক্ষাঘাতের’ ঝুঁকিতে। বলা হয়েছে, ইসরাইল পোলিও টিকা সরবরাহে বাধা দিয়ে গাজায় মহামারী সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
এর পাশাপাশি রাফাহ শহর গুঁড়িয়ে দিয়ে ইসরাইল পুরো গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণে নিতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি করা হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী। তিনি পুরো গাজা খালি করে সেখানে রিসোর্ট বানানোর ইচ্ছা জানিয়েছিলেন।
এ অবস্থায় গাজার প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সংগঠন হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভ ও ধর্মঘটের ডাক দেয়। হামাস বলেছে, দখলদার শক্তি আলোচনার মাধ্যমে যা করতে ব্যর্থ হয়েছে, গণহত্যা ও আগ্রাসনের মাধ্যমে তা কখনোই পারবে না। এখন সামনে একটিই মাত্র পথ, দখলদারদের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠা।
এটি স্পষ্ট যে, হামাসের হাতে বন্দী ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্ত করতেই ইসরাইল এই উন্মত্ত আচরণ করছে। কিন্তু হামাসকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করা দূরের কথা, নতি স্বীকারেও বাধ্য করতে পারেনি। এর আগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে জেহাদ শুরুর আহ্বান জানিয়ে ‘ফতোয়া’ জারি করেছে আন্তর্জাতিক মুসলিম স্কলার্স ইউনিয়ন (আইইউএমএস)। ফতোয়ায় সব মুসলিম দেশকে ‘গাজার গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে অবিলম্বে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করার’ আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, ‘গাজার মুসলমানদের নির্মূলে কাজ করা কাফের শত্রুকে (ইসরাইল) যেকোনো ধরনের সমর্থন করা হারাম। গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে আরব ও ইসলামিক সরকারগুলো ব্যর্থ হলে তা হবে ইসলামী আইন অনুযায়ী নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বড় অপরাধ।
এ ফতোয়ার ফলে যেসব মুসলিম দেশের সাথে ইসরাইলের ‘শান্তিচুক্তি’ আছে সেগুলো প্রশ্নের মুখে পড়বে।
মুসলিম স্কলারদের ফতোয়া ও হামাসের বিক্ষোভের আহ্বানের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে গতকাল সোমবার ঢাকাসহ বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ পালিত হয়েছে। ইসরাইলি গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে। জাতীয় নাগরিক পার্টি, হেফাজতে ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করে। গতকাল ঢাকা বিক্ষোভের নগরীতে পরিণত হয়।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ যথেষ্ট নয়। মুসলিম দেশগুলোকে একযোগে ইসরাইলকে বর্জন করতে হবে।