একটি সহযোগী দৈনিকের বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে। এক সপ্তাহ ধরে চলছে এ প্রকোপ। চারটি ইউনিয়নের ছোট এ উপজেলা হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে গড়ে ৪০ জন ডায়রিয়া রোগী। এ ছাড়া জরুরি ও বহির্বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছে প্রতিদিন আরো ৫০ থেকে ৬০ জন। শয্যাসঙ্কটে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় ঠাঁই নিতে হচ্ছে রোগীদের। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ চিকিৎসকদের কাছে প্রতিদিন আরো শত শত রোগী চিকিৎসা নেয়ার খবর পাওয়া গেছে। যাদের অবস্থা খারাপ তাদের হাসপাতালে পাঠাচ্ছেন গ্রামীণ চিকিৎসকরা। হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, রমজানে ভেজাল তেলে তৈরি খাবার খাওয়া ও দূষিত পানি পানে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ড রোগীতে ঠাসা। মহিলা ওয়ার্ডেও অন্যান্য রোগীর পাশাপাশি রয়েছে ডায়রিয়া রোগী। এসব রোগীর বেশির ভাগই বয়স্ক নারী-পুরুষ। এদের মধ্যে দু’জন মহিলা রোগী জানান, সন্ধ্যায় ইফতারি খাওয়ার পর রাতেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন।

হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার জানান, অন্যান্য বছর এ সময় হাতেগোনা দু-চারজন রোগী ভর্তি হতো; কিন্তু এ বছর এত চাপ যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ছাড়া সাধারণ রোগীর চাপ তো আছেই। শয্যা-সঙ্কুলান না হওয়ায় বারান্দায় বিছানা করে থাকছেন ভর্তি রোগীরা। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, বিকেল হলে ডায়রিয়া রোগীর চাপ বাড়ে। বেশির ভাগই খারাপ অবস্থায় আসায় তাদের ভর্তি করা হয়। এ সময় ডায়রিয়া রোগীর এত প্রকোপ অন্যান্য বছর দেখা যায়নি। শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) বলেন, প্রতিদিন তিন থেকে চার শ’ রোগী বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসে। এর মধ্যে গড়ে ১০০ জনই ডায়রিয়া আক্রান্ত। এ বছর হঠাৎ ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়ে গেছে, যা এর আগে দেখা যায়নি। আবহাওয়ার পরিবর্তন, লবণাক্ত ও দূষিত পানি পান এবং রমজানে ভেজাল তেলে তৈরি খাবার খেয়ে বয়স্করাই বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি পানি ও খাবার গ্রহণে আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে যে পরিমাণ ওষুধ ও স্যালাইন মজুদ আছে তাতে এক সপ্তাহ চলবে। রোগীর চাপ আরো বাড়লে চিকিৎসায় সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। এ কারণে মূলত পানিদূষণ প্রতিরোধ করা অপরিহার্য। এ জন্য প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ দিতে হয়। প্রতি বছর ডায়রিয়ায় অসংখ্য লোক মারা যায় এ দেশে। এটি আর চলতে দেয়া যায় না। জনগণকে সচেতন করতে হবে এ ব্যাপারে। আমরা বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার দিকে সরকারের আশু সুদৃষ্টি কামনা করছি। আসলে দেশের সবগুলো জেলার একই অবস্থা। এ দিকে সরকারের মনোযোগ দিতে হবে। নয়তো ডায়রিয়াতে অসংখ্য লোক আক্রান্ত হবে। এ দিকে সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।