দেশে কিডনি রোগের নীরব মহামারী চলছে। কিন্তু এ রোগের চিকিৎসা অপ্রতুল। আর চিকিৎসা করাতে গিয়ে বহু রোগী ও তার পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। দরকার ছিল কিডনি রোগের চিকিৎসায় সর্বাত্মক সহযোগিতা। সারা দেশে কিডনি চিকিৎসায় সরকারের প্রস্তুতি দুর্বল। তার মধ্যে রংপুর বিভাগের সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা একেবারে অপ্রতুল। রোগীরা পড়ছেন বড় বিপদে।
একটি সহযোগী দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- রংপুর বিভাগের আট জেলার কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবার একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ২০১০ সালে ৩৯টি মেশিন নিয়ে যাত্রা শুরু করা হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিটে বর্তমানে ১৬টি মেশিনই অচল। ১৬ বছরের পুরনো বাকি ২৩টি মেশিন দিয়ে প্রতিদিন ৭২ জন রোগীকে ডায়ালাইসিস করানো হচ্ছে। অথচ প্রতিদিনই এ সেবা নিতে আসছেন শতাধিক রোগী। সীমিত সক্ষমতার কারণে অনেক রোগী এই সেবা পাচ্ছেন না।
গত জুন মাসে কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- দেশে ২৩ থেকে ২৪ শতাংশ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর নতুন করে ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল হলেও ডায়ালাইসিসের সুযোগ পাচ্ছেন মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার। আর বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএসের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৯২ দশমিক ৮৭ শতাংশ পরিবারই ডায়ালাইসিস করাতে গিয়ে আর্থিক সমস্যায় পড়ে। সাড়ে ১৯ শতাংশ রোগী প্রয়োজনের চেয়ে কম ডায়ালাইসিস করান। হারটি গরিবদের মধ্যে বেশি। রোগীদের মধ্যে যারা কম ডায়ালাইসিস করান, তারা কারণ হিসেবে (৯৫ শতাংশ) অনেক বেশি ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছেন।
আর্থিকভাবে সামর্থ্যবানরা চাইলেই বেসরকারি সুবিধায় ডায়ালাইসিস সেবা নিতে পারেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ, যাদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত, তারা সরকারি হাসপাতালকেই ডায়ালাইসিস সেবা নেয়ার জন্য একমাত্র ভরসা হিসেবে ভাবেন।
দিন দিন কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে; কিন্তু ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ হচ্ছে না। যেমন- রংপুর বিভাগীয় শহরে একটি মাত্র হাসপাতালে বছরের পর বছর এই সেবা সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সেটিও এক ধরনের ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য রয়েছে। এটি রংপুর অঞ্চলের মানুষদের জন্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক ধরনের উদাসীনতা।
আশার কথা হলো- চলতি জুলাই মাসে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোতে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণ করা হবে। মন্ত্রীর এই আশ্বাস বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ। কিন্তু তার আগে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের জন্য অচল মেশিনগুলো জরুরি ভিত্তিতে সচল করা দরকার।
মানুষকে ডাক্তারের পেছনে ঘুরতে হবে না, ডাক্তারই মানুষের পেছনে ঘুরবে- বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমন একটি কথা বলেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার তার যে আকাক্সক্ষা প্রকাশ পেয়েছে তা প্রশংসাযোগ্য। তবে, রংপুর বিভাগের মানুষের ডায়ালাইসিস সেবার দুর্ভোগ যাতে কিছুটা হলেও লাঘব হয়, সে লক্ষ্যে তিনি দ্রুত সেখানকার অচল ডায়ালাইসিস মেশিনগুলো সচল করার ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।