মোহাম্মাদ ওয়ালিউদ্দিন তানভীর
বিশ্বকাপ ফুটবল এলে বাংলাদেশ যেন হঠাৎ করেই একটি ফুটবলপ্রেমী দেশে পরিণত হয়। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের হাট-বাজার পর্যন্ত ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকায় ছেয়ে যায়। প্রিয় দলের জার্সি পরে সমর্থকরা মিছিল করেন, বাড়ির ছাদে বিশাল পতাকা টানান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাত-দিন তর্কে জড়িয়ে পড়েন। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে চলে হাসি-ঠাট্টা, খুনসুটি এবং কখনো কখনো ফুটবলজ্ঞান নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা।
এই আনন্দ ও উন্মাদনার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। ফুটবল নিঃসন্দেহে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি। কিন্তু বিশ্বকাপের সময় অন্য দেশের দল নিয়ে আমাদের যে বিপুল আবেগ দেখা যায়, তার সামান্য অংশও যদি বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যয় করা হতো, তাহলে হয়তো আমাদের ফুটবলের বর্তমান চিত্রটি এতটা হতাশাজনক হতো না।
আমরা ব্রাজিলের রক্ষণভাগ, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ড, ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের কৌশল কিংবা বিখ্যাত কোচদের দল পরিচালনা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করি। অথচ স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় পরও বাংলাদেশ কেন এশিয়ার একটি প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল শক্তি হয়ে উঠতে পারল না- এই প্রশ্ন নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে খুব বেশি আলোচনা হয় না।
আমাদের দেশের ফিফা র্যাংকিং দীর্ঘদিন ধরেই তলানির দিকে। বিশ্বকাপে খেলা তো অনেক দূরের বিষয়, আমরা এখনো এশিয়ার ফুটবলেও ধারাবাহিকভাবে সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে পারিনি। এটি শুধু খেলোয়াড়দের ব্যর্থতা নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাহীনতা, দুর্বল প্রশাসন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অবকাঠামোর অভাব এবং তৃণমূল ফুটবলের প্রতি চরম অবহেলা।
ক্রিকেটের সাফল্য, ফুটবলের পতন
বাংলাদেশে একসময় ফুটবল ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ঢাকা স্টেডিয়ামে আবাহনী-মোহামেডানের ম্যাচ ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হতো, তা বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছেই প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। দেশের বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় ফুটবল প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করেও বিপুল দর্শক সমাগম হতো।
পরবর্তীকালে ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক সাফল্য মানুষের আগ্রহকে স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটের দিকে নিয়ে গেছে। কিন্তু শুধু ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে ফুটবলের পতনের জন্য দায়ী করা ঠিক হবে না। ফুটবল তার জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেনি মূলত নিজস্ব ব্যর্থতার কারণে। আমাদের ফুটবল প্রশাসন সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগিতা, অবকাঠামো, সম্প্রচার, বিপণন এবং খেলোয়াড় তৈরির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি।
বিশ্বের কোনো দেশে একটি খেলার সাফল্যের কারণে অন্য খেলাকে বিলুপ্ত হতে হয় না। ইংল্যান্ডে ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট জনপ্রিয়। অস্ট্রেলিয়ায় ক্রিকেট, রাগবি এবং ফুটবল পাশাপাশি এগিয়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও একাধিক খেলায় সাফল্য অর্জন করেছে। কাজেই ক্রিকেটের সাফল্যকে ফুটবলের ব্যর্থতার অজুহাত হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।
খেলাধুলাকে বিলাসিতা ভাবার সুযোগ নেই
ফুটবলের উন্নয়ন কেন প্রয়োজন- এই প্রশ্নও মাঝে মধ্যে ওঠে। একটি উন্নয়নশীল দেশে খেলাধুলার পেছনে অর্থ ব্যয় করা কতটা জরুরি, তা নিয়েও কেউ কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেন। কিন্তু খেলাধুলা কোনো অপ্রয়োজনীয় বিনোদন নয়। একটি শিশু ও কিশোরের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা শৃঙ্খলা, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম এবং পরাজয় মেনে নেয়ার সক্ষমতা তৈরি করে।
বর্তমান সময়ে শিশু-কিশোররা ক্রমেই ঘরবন্দী এবং প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছে। তাদের শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, স্থূলতা, মানসিক চাপ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে। এই বাস্তবতায় ফুটবলসহ সব ধরনের খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণ রাষ্ট্রের শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যনীতিরই অংশ হওয়া উচিত।
নামে পেশাদার, বাস্তবে অপেশাদার
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার ফুটবল লিগ চালু রয়েছে। কিন্তু শুধু একটি প্রতিযোগিতার নামের সাথে ‘পেশাদার’ শব্দটি যুক্ত করলেই সেটি প্রকৃত অর্থে পেশাদার হয়ে যায় না। একটি প্রকৃত পেশাদার ক্লাবের নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠী, নির্দিষ্ট অঞ্চল, অনুশীলনের অবকাঠামো, বয়সভিত্তিক দল, ফুটবল একাডেমি, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো থাকা দরকার। আমাদের অধিকাংশ ক্লাবের মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্যের অনেকগুলোই অনুপস্থিত।
অনেক ক্লাবের নিজস্ব খেলার মাঠ নেই। শক্তিশালী একাডেমি নেই। অনূর্ধ্ব-১২, অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৮ কিংবা রিজার্ভ দল কার্যকরভাবে পরিচালিত হয় না। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে ক্লাবগুলোর কোনো জীবন্ত সম্পর্ক নেই। ক্লাবগুলো খেলোয়াড় তৈরি করার পরিবর্তে মৌসুমের শুরুতে অন্য জায়গা থেকে খেলোয়াড় সংগ্রহ করে একটি দল গঠন করে। এই কাঠামোয় দেশের ফুটবল উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই সীমিত।
ঢাকাকেন্দ্রিক ফুটবল থেকে বের হতে হবে
বাংলাদেশের ফুটবলকে বাঁচাতে হলে প্রথমেই খেলাটিকে ঢাকা থেকে বের করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। দেশের বিভিন্ন জেলায় স্টেডিয়াম রয়েছে। বছরের বেশির ভাগ সময় যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় না।
পেশাদার লিগের প্রতিটি ক্লাবকে একটি নির্দিষ্ট শহর বা জেলার সাথে যুক্ত করা যেতে পারে। ক্লাবগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্টেডিয়াম ব্যবহারের সুযোগ দেয়া যেতে পারে। ক্লাব নিজেই মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ, ম্যাচ আয়োজন, টিকিট বিক্রি এবং স্থানীয় সমর্থক তৈরির দায়িত্ব নেবে। রাষ্ট্র বা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এসব স্টেডিয়াম ক্লাবের কাছে ভাড়া দিতে পারে। এর ফলে একদিকে স্টেডিয়ামের রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ক্লাবগুলোর সাথে নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের আবেগ ও পরিচয়ের সম্পর্ক তৈরি হবে।
একটি ক্লাব যখন একটি শহরকে প্রতিনিধিত্ব করবে, তখন সেই শহরের মানুষও ক্লাবটিকে নিজেদের দল হিসেবে গ্রহণ করবে। স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্পন্সর হিসেবে এগিয়ে আসবে। দর্শক মাঠে যাবে। টিকিট বিক্রি হবে। স্থানীয় তরুণদের মধ্যে ক্লাবের একাডেমিতে যোগ দেয়ার আগ্রহ তৈরি হবে। বিশ্বের সফল ফুটবল লিগগুলোর ভিত্তি হলো এই স্থানীয় পরিচয় ও সমর্থক সংস্কৃতি।
নির্দিষ্ট ফুটবল ক্যালেন্ডার প্রয়োজন
আমাদের ফুটবল প্রতিযোগিতার সময়সূচিতে প্রায়ই অনিশ্চয়তা দেখা যায়। লিগ কখন শুরু হবে, কখন শেষ হবে, মাঝখানে কত দিন বিরতি থাকবে- এসব বিষয়ে ধারাবাহিকতা থাকে না। এর ফলে ক্লাব, খেলোয়াড়, স্পন্সর, সম্প্রচারকারী এবং দর্শক- সব পক্ষই সমস্যায় পড়ে।
দেশের ফুটবলের জন্য একটি নির্দিষ্ট বার্ষিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা প্রয়োজন। বিশ্বের অধিকাংশ বড় লিগের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আগস্ট বা সেপ্টেম্বরের দিকে মৌসুম শুরু করে মে মাসের মধ্যে শেষ করা যেতে পারে। জাতীয় দলের ম্যাচ, ঘরোয়া কাপ প্রতিযোগিতা এবং বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টও এই ক্যালেন্ডারের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।
একবার ক্যালেন্ডার নির্ধারিত হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা প্রশাসনিক সুবিধা অনুযায়ী বারবার সেটি পরিবর্তন করা উচিত নয়। পেশাদার ফুটবলের অন্যতম শর্ত হলো পূর্বানুমানযোগ্যতা।
একাডেমি ছাড়া ভবিষ্যৎ নেই
একটি একাডেমির নাম থাকলেই হবে না। সেখানে প্রশিক্ষিত কোচ, উপযুক্ত মাঠ, নির্ধারিত পাঠক্রম এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতা থাকতে হবে। পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সেই শিশুদের ফুটবলের মৌলিক কৌশল শেখানো শুরু হয়। বল নিয়ন্ত্রণ, প্রথম স্পর্শ, ছোট পাস, জায়গা তৈরি, ভারসাম্য, দৌড়ের কৌশল, সিদ্ধান্ত নেয়া এবং দলগত বোঝাপড়া- এসব দক্ষতা বড় হওয়ার পর হঠাৎ করে শেখানো যায় না।
আমাদের জাতীয় দলে যখন একজন খেলোয়াড় আসেন, তখন তার মৌলিক টেকনিকের ঘাটতি পূরণ করার সুযোগ খুব কম থাকে। জাতীয় দলের কোচের কাজ একজন প্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড়কে বল থামানো, পাস দেয়া কিংবা সঠিকভাবে শট নেয়া শেখানো নয়। এগুলো তার শৈশব ও কৈশোরেই শেখার কথা। এই কারণে জাতীয় দলের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশী কোচ নিয়োগের আগে তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত কোচ তৈরিতে বিনিয়োগ করা বেশি জরুরি।
স্কুল ফুটবলকে ফিরিয়ে আনতে হবে
তৃণমূল ফুটবল উন্নয়নে স্কুলের বিকল্প নেই। প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ থাকা এবং নিয়মিত শারীরিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক স্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যেতে পারে। এই প্রতিযোগিতা শুধু ছেলেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। মেয়েদের ফুটবলের জন্যও একই ধরনের কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। স্কুল, স্থানীয় একাডেমি এবং পেশাদার ক্লাবের মধ্যে একটি সমন্বিত খেলোয়াড় নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিভাবান শিশু যেন অর্থের অভাব, পারিবারিক অবস্থান বা ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে হারিয়ে না যায়, সেটি রাষ্ট্র ও ফুটবল ফেডারেশনকে নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ। বিভিন্ন ফেডারেশন এবং ক্লাবের নেতৃত্বে অনেক সময় ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট দক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয় প্রাধান্য পায়। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে নেতৃত্ব পরিবর্তিত হয়, কিন্তু কাঠামোগত সমস্যা থেকে যায়। ক্রীড়া সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব এমন মানুষের হাতে থাকা উচিত, যারা সংশ্লিষ্ট খেলা বোঝেন, প্রশাসনিক দক্ষতা রাখেন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম।
ক্যাসিনো-কাণ্ডের সময় আমরা দেখেছি, কিছু ক্রীড়া ক্লাব কিভাবে খেলার পরিবর্তে জুয়া, অবৈধ অর্থ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। ক্লাবকে রাজনৈতিক বলয় ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহারের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। ক্লাবগুলোর আয়-ব্যয়, মালিকানা, স্পন্সরশিপ এবং খেলোয়াড় চুক্তিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বার্ষিক অডিট বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।
ক্লাবকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে
দীর্ঘমেয়াদে কোনো পেশাদার ক্লাব কেবল একজন ধনী ব্যক্তি, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অথবা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকের অনুদানের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকতে পারে না। ক্লাবের আয়ের উৎস হতে পারে টিকিট বিক্রি, সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ, জার্সি ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি, সদস্যপদ, একাডেমি এবং খেলোয়াড় স্থানান্তর। কিন্তু এসব সম্ভব হবে তখনই, যখন ক্লাবের নিজস্ব পরিচয়, সমর্থক, মাঠ এবং প্রতিযোগিতামূলক দল থাকবে।
ফুটবল ফেডারেশনকেও লিগের সম্প্রচার, বিপণন এবং স্পন্সর সংগ্রহে পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে হবে। ম্যাচের সময়সূচি দর্শকবান্ধব হতে হবে। মাঠে নিরাপত্তা, পরিষ্কার পরিবেশ, পরিবার নিয়ে খেলা দেখার সুযোগ এবং সহজ টিকিট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
১০ থেকে ১৫ বছরের জাতীয় পরিকল্পনা
বাংলাদেশের ফুটবলে কোনো শর্টকাট কাজ করবে না। কোনো বিদেশী কোচ এনে কিংবা দু-একজন প্রবাসী খেলোয়াড়কে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করে সাময়িক কিছু ফল পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু এতে দেশের ফুটবলের ভিত্তি পরিবর্তিত হবে না।
আমাদের দশ থেকে পনেরো বছর মেয়াদি একটি জাতীয় ফুটবল পরিকল্পনা প্রয়োজন। এই পরিকল্পনায় স্পষ্ট লক্ষ্য, সময়সীমা এবং জবাবদিহি থাকতে হবে। প্রতি দুই বা তিন বছর পর পরিকল্পনার অগ্রগতি স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। প্রথম পর্যায়ে তৃনমূলে কোচ তৈরি, স্কুল ফুটবল চালু, জেলা লিগকে কার্যকর করা এবং ক্লাব একাডেমি বাধ্যতামূলক করতে হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আঞ্চলিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র, বয়সভিত্তিক জাতীয় লিগ এবং আধুনিক ক্রীড়াবিজ্ঞান চালু করা যেতে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে লক্ষ্য হবে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দল হওয়া এবং এশিয়ার মাঝারি পর্যায়ের দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা।
বিশ্বকাপে খেলা অবশ্যই একটি স্বপ্ন হতে পারে। কিন্তু সেই স্বপ্নে পৌঁছাতে হলে প্রথমে আমাদের দক্ষিণ এশিয়া এবং পরে এশিয়ায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে হবে।
অন্য দেশের ফুটবল নিয়ে আবেগ প্রকাশের পাশাপাশি নিজেদের ফুটবল নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে। বাংলাদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার কোনো অভাব নেই। অভাব রয়েছে পরিকল্পনা, সুশাসন এবং ধারাবাহিকতার। এই তিনটি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ একদিন এশিয়ার ফুটবলে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছতে পারবে।
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক