বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ গঠিত হয় মুসলিম লীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুসারীদের উদ্যোগে। আসাম থেকে আগত মুসলিম লীগ নেতা মওলানা ভাসানীকে সভাপতি এবং তরুণ মুসলিম লীগ নেতা শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত ওই দলটির প্রথম নাম ছিল আওয়ামী মুসলিম লীগ। দলটির প্রাথমিক বক্তব্য ছিল ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগ নেতারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় আওয়ামের স্বার্থে অর্থাৎ জনগণের স্বার্থে তাদের আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করতে হয়েছে।
রাজনৈতিক কার্যক্রমের শুরু থেকেই আওয়ামী মুসলিম লীগ ছিল একটি নির্বাচনমুখী দল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করার পর অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। অভ্যুত্থান চলাকালে আওয়ামী লীগ সরকার নৃশংসতার মাধ্যমে আন্দোলন দমনের ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। ফলে দেড় থেকে দুই হাজার নারী, পুরুষ, শিশু ও যুবক নিহত হয়। আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচন হচ্ছে দ্বিতীয় নির্বাচন, যেখানে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করেনি। এর আগে এরশাদের আমলে ১৯৮৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি। ’২৬-এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী ও তাদের অনুসারী বুদ্ধিজীবীরা আওয়ামী লীগকে রাজনীতির ময়দানে ফিরিয়ে আনার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে আওয়ামী লীগের মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখা ঠিক হচ্ছে না।
এ কথা সত্য যে, আওয়ামী লীগের একটি সমর্থক জনগোষ্ঠী রয়েছে। এ ছাড়া সংখ্যালঘুদের মধ্যেও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা অন্য সব দলের চেয়ে অনেক বেশি। একসময় অর্থাৎ সত্তরের দশকের শুরুতে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন অপকর্মের কারণে তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে থাকে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর এখন তাদের কতখানি জনপ্রিয়তা অবশিষ্ট আছে তা বলা মুশকিল। কারণ ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানটি সংঘটিত হয়েছিলই আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রতিবাদে।
যারা আওয়ামী লীগকে গণতন্ত্রমনা মনে করেন তাদের দেখা দরকার আওয়ামী লীগ অতীতে দলের ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সাথে কী আচরণ করেছে। প্রথমেই দেখা যাক, দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী যখন আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তখন তার সাথে কী আচরণ করা হয়েছে।
মওলানা ভাসানী ও ন্যাপের ওপর হামলা
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মার্কিনঘেঁষা পররাষ্ট্রনীতির প্রতিবাদে মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠনের উদ্যোগ নিলে কেন্দ্রে ও পূর্ব পাকিস্তানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার তাকে কমিউনিস্ট, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ভারতের দালাল হিসেবে অভিহিত করে প্রচারণা চালাতে থাকে। প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার ‘বাংলাদেশ : স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতা’ বইয়ে সে প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘সোহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিব মওলানা ও বাম শক্তির ক্ষমতা ভূলুণ্ঠিত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান। তারা সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, যাতে নতুন রাজনৈতিক দলটি ভালোভাবে কাজ শুরু করতে না পারে। এ অবস্থায় মওলানা ভাসানী ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ১৯৫৭ সালের ২৫ জুলাই সব প্রগতিশীল শক্তির সমন্বয়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করলে সেই সম্মেলন হলের বাইরে থেকে আওয়ামী লীগের সংগঠিত হামলার সম্মুখীন হয়। শেখ মুজিবের প্রত্যক্ষ আদেশে তার সহযোগীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসগুলো থেকে বাসভর্তি ইট, পচা ডিম ও হকিস্টিকধারী ছাত্র জোগাড় করে সম্মেলনে আক্রমণ চালান। তখন কেন্দ্র ও প্রদেশ উভয় স্থানেই ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। আওয়ামী লীগ পুলিশ ও আওয়ামী লীগের বিক্ষোভকারীরা সমবেতভাবে মওলানা ভাসানীর ‘রাষ্ট্রবিরোধী সম্মেলনে’ হামলা চালায়। তাদের মতে, মওলানা ‘পাকিস্তানকে ভেঙে ফেলার’ লক্ষ্যে সেই পার্টি গঠন করতে যাচ্ছিলেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর ইস্টক বর্ষণ ও পচা ডিম নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ তাদের অবস্থান পরিবর্তন না করে বিক্ষোভকারীদের হামলা চালানোর সুযোগ দেয়। পরের দিন নবগঠিত ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) পল্টন ময়দানে প্রথম জনসভার আয়োজন করলে সেখানেও একই ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ জনসভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পুলিশ তাতে বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করেনি।’ (পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯)
অলি আহাদের বহিষ্কারাদেশ
মওলানা ভাসানীর পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশিষ্ট ভাষাসৈনিক অলি আহাদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। অলি আহাদ সে সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ওই বহিষ্কারাদেশ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা শেখ আব্দুল আজিজ তার ‘রাজনীতির সেকাল ও একাল’ বইয়ে লিখেছেন, ‘লীগ ওয়ার্কিং কমিটিতে আলোচনা হয়। মওলানা ভাসানী সাহেবের আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ আওয়ামী লীগে এক মহাসঙ্কট সৃষ্টি করেছিল। মওলানা সাহেবের পদত্যাগপত্রটি আওয়ামী লীগের নেতাদেরকে না দেখিয়ে তাদের অজ্ঞাতে অলি আহাদ সাহেব পদত্যাগপত্র পত্রিকায় প্রচার করার ব্যবস্থা করছিলেন বিধায় পার্টি তার এই একক গোপন কাজে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন। আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সভায় অলি আহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সভার এজেন্ডা বা আলোচ্য বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এজেন্ডারবহির্ভূত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আওয়ামী লীগ দলীয় গঠনতন্ত্রবিরোধী। ওয়ার্কিং কমিটির এ সভায় অন্যান্য এজেন্ডাভুক্ত আলোচনা শেষে এই এজেন্ডাবহির্ভূত বিষয় আলোচনা শুরু হয় অলি আহাদের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে। উল্লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অলি আহাদকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেব ইনসিস্ট করতে থাকেন। শহীদ সাহেবের এই ভূমিকায় ওয়ার্কিং কমিটির অধিকাংশ সদস্যই সমর্থন করেন। তখন আমি আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র উল্লেখ করে কমিটিতে বক্তব্য পেশ করি যে, সংগঠনের কোনো নেতা বা কর্মীকে বিনা নোটিশে সুয়ামোটো বহিষ্কার করা গঠনতন্ত্রের বিধি লঙ্ঘন। আমার এ বক্তব্যের সাথে সাথে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আবুল মনসুর আহমদ আমাকে ধমক দিয়ে বসে পড়তে বলেন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী শহীদ সোহরাওয়াদী সাহেবের সহানুভূতি প্রদর্শনের চেষ্টা করেন। আমিও ছাড়ার পাত্র নই। আবুল মনসুর আহমদ মন্ত্রী ছিলেন বটে, তিনি ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। আমি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের জন্মলগ্ন থেকে সভাপতি। তাই আমিও পাল্টা আইনের ধমক দিয়ে আবুল মনসুর সাহেবের ধমকের জবাব দিয়েছিলাম। এ সময় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান একটু নম্র ভর্ৎসনার সুরে আবুল মনসুর সাহেবকে থামিয়ে দেন। আমি অলি আহাদের কাজের বিরোধী ছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটিতে তার বিরুদ্ধে শাস্তি দিবার পদ্ধতিগত কারণে আমি তাকে সরাসরি বহিষ্কার না করে নোটিশ দিয়ে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়ার কথা বলেছিলাম। আমার এ যুক্তির পক্ষে কারণ ছিল সুদূরপ্রসারী। আমি মনে করেছিলাম, আওয়ামী লীগের শাসনতন্ত্র ভঙ্গ করে যদি প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী বা ক্ষমতাধর ব্যক্তির খুশির জন্য দলীয় গঠনতন্ত্রের বিধান লঙ্ঘন করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে যে কোনো দ্বিমত পোষণকারী আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে সরাসরি দল থেকে বহিষ্কার করতে থাকবে।’ (পৃষ্ঠা ২৬৪)
ভয় দেখিয়ে ৬ দফা পাশ
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে সম্মিলিত বিরোধী দলের নেতারা আইয়ুববিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক বৈঠকে মিলিত হয়। পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি নওয়াবজাদা নসরুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান তার বিখ্যাত ৬ দফা উত্থাপন করে বৈঠকটি ভণ্ডুল করে দেন। শেখ মুজিব দলের কার্যকরী কমিটির অনুমোদন ছাড়াই ৬ দফা উত্থাপন করেছিলেন বিধায় পরবর্তীতে কার্যকরী কমিটির বৈঠকে তা পাস করানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। লেখক মহিউদ্দিন আহমদ তার ‘জাসদের উত্থান পতন : অস্থির সময়ের রাজনীতি’ বইয়ে এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘শেখ মুজিবের সামনে তখনো একটা বড় বাধা ছিল আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটি। তিনি কমিটির সভা ডাকলেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে তার বাড়িতে। সভা হলো ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। উপস্থিত অনেক সদস্যই ছয় দফা সমর্থন করতে রাজি ছিলেন না। সভাকক্ষের বাইরে ছাত্রলীগের একসময়ের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল আলম খান দলবল নিয়ে ঘোরাফেরা করছিলেন। সবার হাতেই চেলা কাঠ। কয়েকজন ভয়ে সভাস্থল ছেড়ে চলে গেলেন। যারা রয়ে গেলেন, তারা সর্বসম্মতিক্রমে ছয় দফার পক্ষে হাত তুললেন। ছয় দফা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি হলো।’ (পৃষ্ঠা-১৬)
পিডিএমের জনসভায় হামলা
১৯৬৮ সালে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের স্বৈরতান্ত্রিক শাসন অবসানের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার অভিপ্রায়ে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের পাঁচটি রাজনৈতিক সংগঠন পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) নামক একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করে। পিডিএমের অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি সংগঠন ছিল : পাকিস্তান আওয়ামী লীগ, পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কাউন্সিল), পাকিস্তান নেযামে ইসলাম পার্টি, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান ও ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ)। পিডিএমের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন পাকিস্তান আওয়ামী লীগের নেতা নওয়াবজাদা নসরুল্লাহ খান। পিডিএম গঠিত হবার পর পাকিস্তান আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। নসরুল্লাহ খানের নেতৃত্বাধীন অংশটি পিডিএম-পন্থী আওয়ামী লীগ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। আর শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন ৬ দফা-পন্থী আওয়ামী লীগ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। দ্বিধাবিভক্তির পর ৬ দফা-পন্থীরা পিডিএমের আয়োজিত সব জনসভায় হামলা করতে থাকে।
বাংলাদেশ জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম আযম তার ‘জীবনে যা দেখলাম’ গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডে ওই প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘১৯৬৮ সালে পিডিএমের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান নওয়াবজাদা নসরুল্লাহ খান এবং বিভিন্ন দলের পশ্চিম-পাকিস্তানি প্রতিনিধিগণ দু’বার পূর্ব পাকিস্তান সফর করেছেন। তারা জেলা শহরগুলোতে জনসভায় বক্তব্য রেখেছেন। পূর্ব পাকিস্তানের পিডিএম নেতারাই এসব জনসভায় বেশি সংখ্যায় বক্তৃতা করেছেন।
এসব জনসভায় কোথাও আওয়ামী লীগ ও তাদের ৬ দফার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা হয়নি। সব বক্তাই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ও গণতন্ত্রের পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। আইয়ুব খানকে টার্গেট করেই সবাই কথা বলেছেন।
অথচ প্রতিটি জনসভায়ই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। এ ফ্যাসিস্ট চরিত্রই তাদের ঐতিহ্য। রাজনৈতিক ময়দান তারা একাই দখল করে রাখতে চায়। আমি লক্ষ করেছি যে, পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি নওয়াবজাদা নসরুল্লাহ খানের প্রতিই তাদের চরম বিদ্বেষ। তাদের কোনো কেন্দ্রীয় নেতা নেই। শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগের পশ্চিম পাকিস্তানে কোনো গ্রুপ নেই। শেখ মুজিব প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের নেতা মাত্র। তিনি নওয়াবজাদা থেকে পৃথক হয়ে নিখিল পাকিস্তানভিত্তিক দল গঠন করা প্রয়োজনই মনে করেননি। তার রাজনৈতিক চিন্তা কেবল প্রদেশভিত্তিক।’(পৃষ্ঠা ৬৭)
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক